অপরুপ নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ঘেরা গঙ্গামতি সৈকত

Spread the love

গঙ্গামতি সৈকত। একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যস্তের মত অপরুপ দৃশ্য উপভোগ করার একমাত্র স্থান। প্রকৃতির নিপুণ হাতে নিখুঁত ভাবে সাঁজানো এ সৈকতটি। এখানে রয়েছে বিশাল আয়তনের সবুজ বেষ্টনী, ছোট ছোট লেক আর সৈকতে লাল কাকড়ার অবাদ বিচারন। ইতোমধ্যেই দেশি-বিদেশি ভ্রমণপিপাসু পর্যকদের দৃষ্টি কেড়েছে। পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা থেকে পূর্বদিকে কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নে নৈসর্গিক সৌন্দর্য ঘেরা এ গঙ্গামতি সৈকতের অবস্থন।
স্থানীয়রা জানান, কুয়াকাটায় আগত ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান গঙ্গামতির সৈকত। পুরো সৈকত জুড়ে রয়েছে প্রাণজুড়ানো মনোরম প্রাকৃতিক নৈসর্গিক সৌন্দর্য। সাগরের জোয়ার ভাটার রাতে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের নজর কেড়ে নিবে। এখানে রয়েছে স্বচ্ছ নীল জলরাশির একাধিক লেক আর প্রাকৃতির কারুকাজ খচিত বিশাল বেলাভূমি। প্রকৃতির যেন নিপুণ হাতে গড়া এ গঙ্গামতির সৈকত। এখানে আগত পর্যটকদের স্পিডবোট, ট্রলার অথবা নৌকা যোগে ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে। তবে খুব সকালে গঙ্গামতি সৈকতে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের বুকচিরে সূর্যোদয় দেখার স্বপ্নিল অনুভূতি এনে দিবে এক স্বর্গীয় আবেশ। সকালের সূর্য লাল আলো ছড়িয়ে দেয় গঙ্গামতির বেলাভূমিতে।

পাখির কলোকাকলী আর পুরো সৈকত জুড়ে লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গহীন থেকে বের হয়ে সমুদ্রে মিলিত গঙ্গামতির লেক যেন পর্যটকদের আকৃষ্ট করে তোলে। এছাড়া শুকুরের দূরহ দন্ত দিয়ে মৃত্তিকাগর্ভ খুড়ে কোঁচো ধরে ভোজনের দৃশ্য দেখা তো সৌভাগ্যের ব্যাপার। পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় এসে গঙ্গামতি না গেলে পর্যটকদের ভ্রমণ অপূর্ণই থেকে যাবে এমন ধারনা স্থানীয়সহ আগত পর্যটকদের। ভ্রমনে আসা রিয়াজ উদ্দিন ও নিসাত সুলতানা মারিয়া দম্পত্তির সাথে কথা হয়েছে। তারা ঢাকার মিরপুর থেকে কুয়াকাটা বেড়াতে এসেছেন। মটরসাইকেল চালকদের মুখে গঙ্গামতি সৈকতের মনোরম দৃশ্যের কথা শুনে আসতে বাধ্য হলেন। তারা জানান, গঙ্গামতি এত সৌন্দর্য মন্ডিত একটি স্থান চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন হত। তারা এখানের প্রকৃতির মনোরম দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। এতো সুন্দর গঙ্গামতির সৈকত অযন্ত ও পরিকল্পনার অভাবে অবহেলিত থাকায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ওখানকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি ইউসুফ খাঁ জানান, বর্তমানে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। এ জন্য গঙ্গামতির প্রবেশদ্বারের সড়কে একাধিক অস্থায়ী দোকান পাট বসেছে। তবে এখানে আসা পর্যটকদের রাত্রি যাপনের কোন ব্যবস্থা নাই বলে তিনি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফুল হাসান রানা জানান, প্রকৃতির অপরূপ সাজে সজ্জিত গঙ্গামতি। গোটা এলাকা একটি ছবির মত জনপদ। সরকারের একটু সু-নজরে আসলেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ব্যাপক কদর বাড়বে। বর্তমানে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও সরকারের গুরুত্ব প্রদানের অভাবে অপার সম্ভাবনার এ খ্যাত জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারছেনা। প্রতিদিনই এখানে দর্শনার্থীরা ভ্রমণে আসছে। যোগাযোগ ও বিদ্যুতের উন্নয়ন করে ব্যাপক প্রচারণা করতে পারলে কুয়াকাটার পাশাপাশি এ সৈকতটিরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এ এম মিজানুর রহমান বুলেট জানান, এ সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। মুলত সূর্যোদয়ের মত এমন বিরল দৃশ্য দেখার জন্য প্রতিদিন সকালে শত শত দর্শনার্থী ও পর্যটক ভীর করে। তবে গঙ্গামতির সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থ আরো উন্নত করা দারকার বলে তিনি জানিয়েছেন। গঙ্গামতি ফরেষ্ট ক্যাম্পের ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তা পলাশ চক্রবর্তী জানান, প্রায় ২ হাজার একর জমির উপর এ বঞ্চলের আকাশমনি, জারুল, জাম, কেওয়া,ছইলা, বাইন, ভাবলা, কড়াই, হেতাল, রেন্টি সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। এসব গাছ দেখভালের জন্য সি আর এ আর পি প্রকল্পের আওতায় একটি ফরেষ্ট ক্যাম্প নির্মান করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১৫-১৬ অর্থ বছরে ৫০ হেক্টর জমিতে নন ম্যানগ্রোভ বনায়ন করা হয়েছে। পর্যটকরা এসব কিছু দেখে আকৃষ্ট হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর রহমান জানান, গঙ্গামতি ও কুয়াকাটাকে ঘিরে সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে।
উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি,
পটুয়াখালী,শুক্রবার,২০ এপ্রিল , এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

সর্বশেষ আপডেট



» শহীদ নূর হোসেনকে ‘ইয়াবাখোর’ ও ‘ফেনসিডিলখোর’ বলায় রাঙ্গার বিচার চাইলেন নূর হোসেনের মা

» ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ৯ জেলের মরদেহ বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ থেকে উদ্ধার

» ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব।। জোয়ারে ভাসছে চাড়িপাড়া গ্রাম

» বাংলা বন্ড চালু বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের একটি বড় পদক্ষেপ- অর্থমন্ত্রী

» প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ পরবর্তী প্রজন্মকে গুণগত উন্নয়নের স্বপ্ন দেখাচ্ছে : গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী

» আওয়ামী লীগে দুঃসময়ের কর্মী চাই, বসন্তের কোকিল চাই না-ওবায়দুল কাদের

» আটকাপড়া পর্যটককে ফিরিয়ে আনতে তিনটি জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে

» রাজধানীর গাবতলী হতে তিন জন মাদকবিক্রেতা গ্রেফতার,ফেনসিডিল,অস্ত্র উদ্ধার

» ডিজিটাল সেন্টারকে ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টার’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার :এলজিআরডি মন্ত্রী

» ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজকে প্রসিকিউটরের পদ থেকে অপসারণ

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

 

 

সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ২৭শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

অপরুপ নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ঘেরা গঙ্গামতি সৈকত

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

গঙ্গামতি সৈকত। একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যস্তের মত অপরুপ দৃশ্য উপভোগ করার একমাত্র স্থান। প্রকৃতির নিপুণ হাতে নিখুঁত ভাবে সাঁজানো এ সৈকতটি। এখানে রয়েছে বিশাল আয়তনের সবুজ বেষ্টনী, ছোট ছোট লেক আর সৈকতে লাল কাকড়ার অবাদ বিচারন। ইতোমধ্যেই দেশি-বিদেশি ভ্রমণপিপাসু পর্যকদের দৃষ্টি কেড়েছে। পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা থেকে পূর্বদিকে কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নে নৈসর্গিক সৌন্দর্য ঘেরা এ গঙ্গামতি সৈকতের অবস্থন।
স্থানীয়রা জানান, কুয়াকাটায় আগত ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান গঙ্গামতির সৈকত। পুরো সৈকত জুড়ে রয়েছে প্রাণজুড়ানো মনোরম প্রাকৃতিক নৈসর্গিক সৌন্দর্য। সাগরের জোয়ার ভাটার রাতে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের নজর কেড়ে নিবে। এখানে রয়েছে স্বচ্ছ নীল জলরাশির একাধিক লেক আর প্রাকৃতির কারুকাজ খচিত বিশাল বেলাভূমি। প্রকৃতির যেন নিপুণ হাতে গড়া এ গঙ্গামতির সৈকত। এখানে আগত পর্যটকদের স্পিডবোট, ট্রলার অথবা নৌকা যোগে ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে। তবে খুব সকালে গঙ্গামতি সৈকতে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের বুকচিরে সূর্যোদয় দেখার স্বপ্নিল অনুভূতি এনে দিবে এক স্বর্গীয় আবেশ। সকালের সূর্য লাল আলো ছড়িয়ে দেয় গঙ্গামতির বেলাভূমিতে।

পাখির কলোকাকলী আর পুরো সৈকত জুড়ে লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গহীন থেকে বের হয়ে সমুদ্রে মিলিত গঙ্গামতির লেক যেন পর্যটকদের আকৃষ্ট করে তোলে। এছাড়া শুকুরের দূরহ দন্ত দিয়ে মৃত্তিকাগর্ভ খুড়ে কোঁচো ধরে ভোজনের দৃশ্য দেখা তো সৌভাগ্যের ব্যাপার। পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় এসে গঙ্গামতি না গেলে পর্যটকদের ভ্রমণ অপূর্ণই থেকে যাবে এমন ধারনা স্থানীয়সহ আগত পর্যটকদের। ভ্রমনে আসা রিয়াজ উদ্দিন ও নিসাত সুলতানা মারিয়া দম্পত্তির সাথে কথা হয়েছে। তারা ঢাকার মিরপুর থেকে কুয়াকাটা বেড়াতে এসেছেন। মটরসাইকেল চালকদের মুখে গঙ্গামতি সৈকতের মনোরম দৃশ্যের কথা শুনে আসতে বাধ্য হলেন। তারা জানান, গঙ্গামতি এত সৌন্দর্য মন্ডিত একটি স্থান চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন হত। তারা এখানের প্রকৃতির মনোরম দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। এতো সুন্দর গঙ্গামতির সৈকত অযন্ত ও পরিকল্পনার অভাবে অবহেলিত থাকায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ওখানকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি ইউসুফ খাঁ জানান, বর্তমানে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। এ জন্য গঙ্গামতির প্রবেশদ্বারের সড়কে একাধিক অস্থায়ী দোকান পাট বসেছে। তবে এখানে আসা পর্যটকদের রাত্রি যাপনের কোন ব্যবস্থা নাই বলে তিনি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফুল হাসান রানা জানান, প্রকৃতির অপরূপ সাজে সজ্জিত গঙ্গামতি। গোটা এলাকা একটি ছবির মত জনপদ। সরকারের একটু সু-নজরে আসলেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ব্যাপক কদর বাড়বে। বর্তমানে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও সরকারের গুরুত্ব প্রদানের অভাবে অপার সম্ভাবনার এ খ্যাত জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারছেনা। প্রতিদিনই এখানে দর্শনার্থীরা ভ্রমণে আসছে। যোগাযোগ ও বিদ্যুতের উন্নয়ন করে ব্যাপক প্রচারণা করতে পারলে কুয়াকাটার পাশাপাশি এ সৈকতটিরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এ এম মিজানুর রহমান বুলেট জানান, এ সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। মুলত সূর্যোদয়ের মত এমন বিরল দৃশ্য দেখার জন্য প্রতিদিন সকালে শত শত দর্শনার্থী ও পর্যটক ভীর করে। তবে গঙ্গামতির সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থ আরো উন্নত করা দারকার বলে তিনি জানিয়েছেন। গঙ্গামতি ফরেষ্ট ক্যাম্পের ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তা পলাশ চক্রবর্তী জানান, প্রায় ২ হাজার একর জমির উপর এ বঞ্চলের আকাশমনি, জারুল, জাম, কেওয়া,ছইলা, বাইন, ভাবলা, কড়াই, হেতাল, রেন্টি সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। এসব গাছ দেখভালের জন্য সি আর এ আর পি প্রকল্পের আওতায় একটি ফরেষ্ট ক্যাম্প নির্মান করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১৫-১৬ অর্থ বছরে ৫০ হেক্টর জমিতে নন ম্যানগ্রোভ বনায়ন করা হয়েছে। পর্যটকরা এসব কিছু দেখে আকৃষ্ট হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর রহমান জানান, গঙ্গামতি ও কুয়াকাটাকে ঘিরে সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে।
উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি,
পটুয়াখালী,শুক্রবার,২০ এপ্রিল , এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

© Copyright BY HBnews24.Com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com