X

২১ আগস্ট ২০১৭ ১:১৬:৩০ | ৭ ভাদ্র ১৪২৪ সোমবার | ২৮ জিলক্বদ ১৪৩৮

প্রচ্ছদ  »   এক্সক্লুসিভ

স্যার খাবেন-ম্যাডাম এক কাপ কফি খাবেন কুয়াকাটার সৈকতে বিনয়ী সুরে রুবেল

স্যার খাবেন-ম্যাডাম এক কাপ কফি খাবেন কুয়াকাটার সৈকতে বিনয়ী সুরে রুবেল

স্যার খাবেন। ম্যাডাম এক কাপ কফি খাবেন। এমনই বিনয়ী সুরে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সৈকতে আগত পর্যটকদের কাছে গড়ম কফি বিক্রি করছে মো.রুবেল শিকদার। ভ্রাম্যমান কফি বিক্রেতা ওই যুবকের পরিধেয় পোশাকের সাথে ঝুলে থাকা কফি পানের সরঞ্জামাদি বাড়তি আকর্ষণ করে পর্যটকদের। সৈকতে বসে প্রকৃতির শোভা দেখা ও সমুদ্রে ¯œানের ফাঁকে একটু দাড়িয়ে তার এক কাপ গরম কফি পান করাটা যেন পর্যকদের কাছে এখন জুগিয়েছে আলাদা আমেজ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু হয় শরীরে জড়ানো লাল রংয়ের জ্যাকের বিভিন্ন পকেটে ফ্লাক্সে গরম পানি, কপি, চিনি ও অনটাইম গ্লাস নিয়ে রুবেল সৈকতে ঘোরাফেরা করে। গভীর রাতঅবদি চলে তার বেচাকেনা। ভ্রমন পিপাসু পর্যটকদের কছে সে বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে।সৈকতে ভ্রাম্যমান কপি বিক্রেতা রুবেল জানান, সে বন্ধুদের সাথে কক্সবাজার ঘুরতে যাই। ওখানে এই ব্যবসাটি জমজমাট। এ কাজটি আমাকে উৎসাহীত করে। বড়ি ফিরে নিজ উদ্যোগে এ ব্যবসা শুরু করি। প্রথম দিকে ব্যবসা ভাল ছিল না। এখন সৈকতে কফির কদর বেড়েছে। প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ কাপ কপি বিক্রি করে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় হয়। সৈকতে কপি হাতে রুবেলের পরিবরিবা প্রসংঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন,বরিশাল সদরের কাশিপুরে তার জন্ম। বাবার সংসারে অভাব থাকার কারনে লেখাপাড়া করা সম্ভব হয়নি। তেমন কোন আয় না থাকায় স্ত্রী, দুই মেয়ে
নিয়ে দূশ্চিন্তায় ছিলাম। এব্যবসা করে এখন ভাল আছি। ঢাকা ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী তাসনিম তন্নি জানান, এবারই প্রথম কুয়াকাটা বেড়াতে এসে ভাল লেগেছে। পড়ন্ত বিকালে সৈকতে দাড়িয়ে সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করার আনন্দই আলাদা। বিশেষ করে এসময় গরম কফি পান করার মুহূর্তটি ভোলার নয়। একই সময় সমুদ্র,ঢেউ,পড়ন্ত সূর্যের সোনালী আভা ও গরম কফির স্বাদ পুরো বিষয়টিই মজার। স্থানীয় ব্যবসায়ী কামাল হোসেন জানান, প্রতিবছর পর্যটন মৌসুমে
কুয়াকাটা সৈকতে বাড়ছে দেশী-বিদেশী দর্শনার্থীদের ভিড়। সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত ও প্রকৃতির শোভা উপভোগ করা ছাড়াও আগত পর্যটকদের সেবাদানের নিত্যনতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে। আমরা কাজের ফাকেঁ রুবেলের কফি পান করি। এটা দিনে দিনে আমাদের পর্যটকদের আপ্যায়নে সহায়ক হয়ে উঠেছে।
কুয়াকাটা ট্যুরিষ্ট পুলিশ জোনের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুল করিম জানান, কুয়াকাটার জনপ্রিয়তা ক্রমাগত বাড়ছে। আমরা পর্যটকদের সর্বাত্মক সেবা দানের চেষ্টা করছি। সৈকতে ভ্রাম্যমান অনেক ব্যবসায়ী রয়েছে। এরমধ্যে পর্যটকদের কাছে গিয়ে কফি বিক্রির বিষয়টি আলাদা।পর্যটকরা এতে আনন্দ পায় বলে তিনি জানিয়েছেন।

উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া (পটুয়াখালী)প্রতিনিধি,
পটুয়াখালী,সোমবার, ০৬ মার্চ, এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

User Comments

  • এক্সক্লুসিভ