X

২০ অক্টোবর ২০১৭ ৩:৪৮:৩৯ | ৬ কাতর্িক ১৪২৪ শুক্রবার | ২৯ মহরম ১৪৩৯

প্রচ্ছদ  »   এক্সক্লুসিভ

বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে সমুদ্র উপকুলীয় বহু প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির পথে

বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে সমুদ্র উপকুলীয় বহু প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির পথে

“পাখিসব করে রব রাত্রি পোহাইল” কবি গুরুর এই লাইনটি বর্তমান প্রজন্মের কাছে রুপ কথার গল্পের মত মনে হয়। এক সময এ অঞ্চলের মানুষের ঘুম ভাঙ্গত পাখির কলতানে। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে এখন এসব এলাকার মানুষের ঘুম ভাঙ্গে কলকারখানার যান্ত্রিক শব্দ শুনে। জলবায়ু প্রভাব জনিত ও বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে সমুদ্র উপকুলীয় এলাকা থেকে বহু প্রজাতির পাখি এখন বিলুপ্তির পথে। অধিক ফলনের আশায় কৃষক জমিতে অধিক মাত্রায় কিটনাশক ব্যবহারে এবং কলকারখানার দূষিত বর্জ্যরে কারণে পরিবেশ মারাত্তক বিপর্যয়ের ফলে পাখির প্রজনন স্থল ধ্বংস হতে বসেছে। এছাড়া শিকারিদের ফাঁদে পরে একের পর এক পাখি মারা পরছে।পটুয়াখালীর কলাপাড়ার প্রত্যান্ত গ্রাম অঞ্চলের থেকে দিন দিন পাখির সংখ্যা কমে
যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক সময় এ অঞ্চলের মাঠে-ঘাটে বনে জঙ্গলে ও নদী নালায় দোয়েল, কোয়েল, ময়না, শ্যামা, টিয়া, শালিক, কোকিল, পেচাঁ, চড়াঁই, মাছরাঙ্গা, ঘুঘু, সারস, ডাহুক, চিল, ঈগল, শকুন, পানকৌরি, বুলবুলি, চাতক, বাবই, বক, বউকথাকও, হলোদিয়া, কুকো, টুনটুনি, ফিঙ্গে পাখির অবাধ বিচরন ছিলো। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানাবিধ কারণে বনাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এরই সাথে সাথে এ অঞ্চল থেকে অনেক প্রজাতির পাখি হারিয়ে গেছে। এছাড়া জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তনে করনে শ্যামল প্রকৃতিকে মুগ্ধ
সুষ্মাময় দৃশ্য আর পাখ-পাখালীর উপস্থিতি কমে গেছে বলে বিজ্ঞমহল মনে করেন। পাখি গবেষনা সংস্থা উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশের পাখির তালিকায়া মোট ৭৪৪টি পাখি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ সমস্ত পাখির মধ্যে গত দুই শতকে বাংলাদেশে ছিল (কিন্তু এখন নেই) এবং বর্তমানে আছে এমন পাখিও অন্তর্ভুক্ত এমন পাখির সংখ্যা মোট ৬৫০টি। পাখির মধ্যে ৩০টি বাংলাদেশে বর্তমানে বিলুপ্ত। অবশিষ্ট ৬২০টি প্রজাতির পাখি সাম্প্রতিককালে এদেশে দেখা গেছে বলে উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বন্যপ্রানির বিষয়ক শিক্ষা, গবেষনা ও গনসচেতনতা সৃষ্টির স্বিকৃতি সরুপ বঙ্গবদ্ধু এ্যায়াড ফর ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন ২০১৪ পুরুস্কার প্রাপ্ত মো.হান্নান খান জানান, অধিক ফলনের আশায় কৃষক জমিতে অধিক মাত্রায় কিটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার এবং কলকারখানার দূষিত বর্জ্যরে কারণে পরিবেশ মারাত্তক বিপর্যয়ের ফলে পাখি তার প্রজনন ক্ষমতা হারাচ্ছে। এছাড়া পাখিদের খাদ্যের অভাব, শব্দ দূষন, মানব সৃষ্ট পরিবেশ বিনষ্ট, প্রজননের আনুকূল পরিবেশ না থাকার কারণে পাখির সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এছাড়া বহু প্রজাতি পাখি বিলুপ্তির পথে। অনুকূক পরিবেশে ফিরিয়ে আনার জন্য উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নিজ এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে পাখির অভায়াশ্রম (বাসা) তৈরি করে দিয়েছি।
তবে পাখি শিকার বন্ধ এবং হান্নানের মত যদি গ্রামাঞ্চলের সব মানুষ পাখিার অভায়াশ্রম (বাসা) তৈরি করে দিতে তা হলে দিনে দিনে দেশে পখির সংখ্যা বারতো বলে মনে করেন পাখি প্রেমিকরা।
উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া (পটুয়াখালী)প্রতিনিধি,
পটুয়াখালী,শনিবার,১৬ সেপ্টম্বর,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

User Comments

  • এক্সক্লুসিভ