X

১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ৭:২৭:৫৯ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৪ রবিবার | ১০ জমা: সানি ১৪৩৯

প্রচ্ছদ  »   এক্সক্লুসিভ

ওরা ধান কুড়ানির দল

ওরা ধান কুড়ানির দল

কারো হাতে খোন্তা কিংবা কোদাল, কারো হাতে ব্যাগ। কেটে ফেলা ধানের ক্ষেতে ইঁদুরের গর্ত খুড়ছে। কেউ কেউ আবার পরিত্যক্ত ক্ষেতের (ধানের গোড়ালি) স্থানীয় ভাষায় নাড়া থেকে ধান কুড়াচ্ছে। গ্রামের পর গ্রাম জুড়ে স্কুল ছুটি হলেই প্রতিদিনই ধান কুড়ানি শিশুরা দল বেধে ছুটে যায় মাঠে। আর এ দলের ব্যস্ত শিশু রুবেল ও পারুল দূর থেকেই সতর্ক দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে আর ধানের শিষ তুলছে। তাদের সাড়া গায়ে লেগে আছে ছোপ ছোপ কাঁদা মাটির দাগ। যেন তাদের দম ফেলার ফুরসত নেই। এমন চিত্র এখন
উপকূলীয় পটুয়াখালীর কলাপাড়ার বিস্তৃর্ন মাঠ জুড়ে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, স্কুল ছুটি হলে ছোট ছোট শিশুর দল হাতে ডালা, চালুন, খোন্তা, কোদাল ও ব্যাগ নিয়ে মাঠে নেমে পড়েন। তাদের দৃষ্টি কেবল ইঁদুরের গর্তের দিকে। কারণ সেখানে রয়েছে নাড়ার ফাঁক দিয়ে ইঁদুরের আপদকালীন খাদ্য হিসেবে কেটে নেওয়া মাটির নিচে গর্তে মজুদ করা ধান। ওরা সেই গর্ত খুঁড়ে বের করে আনছে সেই ধান। এছাড়া কেউ বা আবার পরিত্যক্ত ক্ষেতের নাড়ার সাথে থাকা ধান কুড়াচ্ছে। মহাব্যস্ততায় সময় কাটাচ্ছে তারা। আর সংগ্রহকৃত এ ধান একসাথে
বিক্রি করে কেউ কিনবে নতুন জামা, কেউ কিনবে নতুন বই। আবার কেউ সাথে সাথে ধান বিক্রি করে ফেরীওয়ালাদের কাছ থেকে বাহারী খাদ্য কিংবা হরেক রকমের সামগ্রী কিনে নিচ্ছে। ওইসব ধান কুড়ানি শিশুদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, মাঠের ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার পর অনেক ধানের শিষ এমনিতেই পড়ে থাকে। সেগুলো কুড়ানো
হয়। এছাড়া ইঁদুরের গর্ত খুঁড়লে পাওয়া যায় ধান। এক পর্যায় শিশু রুবেল জানায়, স্কুল ছুটি হলেই ধান কুড়াতে মাঠে চলে যাই। এই ধান কুড়িয়ে আমরা এক জায়গায় জমা করি। যখন পরিমানে বেশী হবে তখন তা বিক্রি করব।
মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষক ইব্রাহিম মোল্লা জানান, স্কুল ছুটি হলেই প্রতিদিন ছোট ছোট শিশুরা মাঠে চলে আসে। আমাদের ধান কাটার পড়ে নাড়ার সাথে দুই এক গোছা ধান থাকলে সেগুলো তারা কুড়িয়ে নেয়।
এছাড়া গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের বউ-ঝি এবং ছেলেমেয়েরা দল বেঁধে ধান
কুড়িয়ে নিচ্ছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.মসিউর রহমান জানান, ক্ষেতে কীট-পতঙ্গের আক্রমণে অনেক ধানের শীষের শাখা-প্রশাখা ভেঙ্গে মাটিতে পড়ে যায়।
এছাড়াও ইঁদুর আপদকালীন খাদ্য হিসেবে কৃষকের ক্ষেতের ধান কেটে মাটির নিচে গর্তে মজুদ করে রাখে। স্থানীয় দরিদ্র শ্রেনীর শিশুরা ওই ধান মাটি খুড়ে বের করে আনছে। তবে এ বছর প্রকৃতি ছিল কৃষকদের অনুকূলে বলে তিনি জানিয়েছেন।
উত্তম কুমার হাওলাদার কলাপাড়া (পটুয়াখালী)প্রতিনিধি
পটুয়াখালী,সোমবার,২৭ নভেম্বর,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

User Comments

  • এক্সক্লুসিভ