X

১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ৭:৩৫:১৮ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৪ রবিবার | ১০ জমা: সানি ১৪৩৯

প্রচ্ছদ  »   এক্সক্লুসিভ

অব্যাহত বালুক্ষয়ে বিপর্যস্ত .কুয়াকাটার নারিকেল বাগান এখন শুধুই ইতিহাস

অব্যাহত বালুক্ষয়ে বিপর্যস্ত .কুয়াকাটার নারিকেল বাগান এখন শুধুই ইতিহাস

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লিলাভূমি পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা। এক সময় দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকতের কোল ঘেঁষে দাড়িয়ে ছিল শত শত নারিকেল বাগান।
সমুদ্রের গা ঘেঁষে এ বাগানটি পর্যটকদের বাড়তি পরশ দিয়েছে। এটির প্রতি ছিলো ভ্রমণ পিপাসুদের এক অন্যরকম আকর্ষণ। গাড়ি পার্কিং, পিকনিক স্পট,বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে এ বাগানটি সর্বজনের কাছে বেশ পরিচিত হয়ে ওঠে। ১০ বছর আগেও কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের জিরো পয়েন্টের পশ্চিম পাশে বিশাল শালবাগান ও পূর্ব পাশের প্রায় ২’শ একর জমিতে উপর ছিলো নারিকেল বাগান। যা পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করত। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঢেউয়ের ঝাপটায় বালু ক্ষয়ে সারি সারি নারিকেল বাগানটি আস্তে আস্তে সাগরগর্ভে বিলিন হতে থাকে। পাল্টে যায় তীর ঘেষা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের চিত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬০ সালের দিকে বৃক্ষ প্রেমি ফয়েজ মিয়া বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষা ১৯৭ একর সরকারী জমি ৯৯ বছরের লিজ নেয়। তিনি ওই
জমির উপর “ফার্মস এন্ড ফার্মস” নামকরণ একটি বিশাল নারিকেল বাগান গড়ে তুলেন। নারিকেল গাছ ছাড়াও অন্যান্য জাতের গাছ রোপন করেন। এর মধ্যে পেয়ারা, কাজু
বাদাম, লেবু, কুল, গর্জন বাগানসহ বিভিন্ন জাতের ফলদ ও ঔষধি গাছ ছিল। নারিকেল গাছ সংখ্যায় বেশী ছিল বলে নারিকেল বাগান নামেই এটি পরিচিতি পায়। সকাল সন্ধ্যা নানা জাতের পাখির কলরব মুখোরিত থাকত বাগানটি। গহিন বনে প্রবেশ করতে বন্য হিংসপ্রাণী ও অজগরের ভয় ছিল। জোছনা রাতে গাছে গাছে বানর ও বাদুরের দাপাদাপি,শেয়ালের ডাকাডাকি আর লুকোচুরি, শুকরের দূরহ দাঁত দিয়ে মাটির গর্ত করা এমন দৃশ্য এখন আর নেই। ধীরে ধীরে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে কালেরসাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছে ফয়েজ মিয়ার ‘ফার্মস এন্ড ফার্মস’ ও বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চল। বর্তমান প্রজন্মের কাছে এটি এখন রূপ কথার গল্প।
সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারনে সমুদ্রে জোয়ারের পানি অস্বভাবিক বৃদ্ধির পায়। ফলে প্রচন্ড ঢেউয়ের ঝাপটায় বালুক্ষয়ে ছোট হচ্ছে কুয়াকাটার মানচিত্র। বিশাল সৈকতে ঘুরলেই দেখা যায় অসংখ্য গাছের মূল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। আগত দর্শনার্থীদের সমুদ্রস্নানে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। এ সমস্যা মোকাবেলা করেই সাগরে নামতে তাদের। তারপরও এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কেউ এগিয়ে আসছে না।
স্থানীয় প্রবিন বাসিন্ধা হাজী¡ আব্দুল আলী শেখ জানান, সাগরপাড়ের প্রায় দুই শ’ একর বাগানের লবনাক্ত মাটিতে যেসব গাছ জন্মে তার সবটাই ফয়েজ মিয়া লাগিয়ে
ছিলেন। এক সময় এ বাগানে বাঘ, বানর, শিয়াল, শুকর, সাপ, গুইসাপ, সজারু ছিল অনেক। ভয়ে মানুষ বাগানের মধ্যে যেতে চাইতনা। এখন তার কিছুই নাই।
কুয়াকাটা পৌর মেয়র আ:বাকেক মোল্লা জানান, কুয়াকাটা সৈকতের বালুক্ষয়ে বাগানটির গাছ সাগরের করাল গ্রাসে বিলীন হয়ে গেছে। তবে সৈকতের বালুক্ষয়রোধের জন্য একধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্মকার্তা বরাবরে জানানো হয়েছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
উত্তম কুমার হাওলাদার কলাপাড়া (পটুয়াখালী)প্রতিনিধি
পটুয়াখালী,শুক্রবার,০১ ডিসেম্বর, এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

User Comments

  • এক্সক্লুসিভ