চাকরির নিয়োগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগে নয় সদস্য গ্রেপ্তার-সিআইডি

সিনিয়ার নিজস্ব প্রতিবেদক: চাকরি ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি করে বিকেএসপির সহকারী পরিচালক অলিপ কুমার বিশ্বাস তিন কোটি টাকা কামিয়েছেন বলে জানিয়েছে সিআইডির অর্গানাইজড টিমের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল। আজ বৃহস্পতিবার (৯ আগষ্ট ২০১৮) বেলা সোয়া ১২ টার সময়ে রাজধানীর মালিবাগে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান কার্যালয়ে সমম্মেলন কক্ষে পাঁচ দিনের অভিযানে জালিয়াতি চক্রের নয় সদস্যকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল।
সিআইডি জানায়, বিএডিসির সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল, ৩৬ তম বিসিএসে নন ক্যাডার পদে সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত ইব্রাহিম এবং ৩৮ তম বিসিএসের প্রিলিতে উত্তীর্ণ আয়ূব আলী বাঁধনও অলিপের সঙ্গে জালিয়াতির চক্রে জড়িত। এদের চারজনের প্রায় ১০ কোটি নগদ টাকা ও সম্পদের সন্ধান পেয়েছে তারা। অনুসন্ধানে তাদের সম্পদের পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি জালে ধরা পড়েছেন অলিপ। তাকে ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতি চক্রের হোতা বলছে সংস্থাটি। বাংলাদেশ কর্ম কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক ও সরকারি চাকরির নিয়োগ ও ভর্তিতে ডিজিটাল জালিয়াতির সবচেয়ে বড় চক্রটিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি)। গত শুক্রবার থেকে টানা পাঁচ দিনের অভিযানে এই চক্রের নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত শুক্রবার থেকে টানা পাঁচদিনের অভিযানে গ্রেপ্তার হন অলিপ কুমার বিশ্বাস, মোস্তফা কামাল, ইব্রাহিম, আয়ূব আলী বাঁধন, গোলাম মোহাম্মদ বাবুল, আনোয়ার হোসেন মুজমদার, নূরুল ইসলাম, হোসনে আরা বেগম হাসমত আলী।
গ্রেপ্তারের সময়ে তাদের কাছ থেকে বিসিএস পরীক্ষার লিখিত প্রশ্নপত্রের কপি এবং ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
সিআইডির বিশেষ সুপার বলেন, আগের রাতে প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের পরো চক্র চিহ্নিত করা গেলেও ডিভাইস চক্রটি বাকি ছিল। ডিভাইস চক্রের প্রধান বিকেএসপির সহকারী পরিচালক অলিপ কুমার বিশ্বাসের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরে তিনি গা ঢাকা দেন। প্রেস বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠান এনালগভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস করলে তাদের আইনের আওতায় আনা যতটা সহজ কিন্তু ডিজিটাল পদ্ধতি অবলম্বনকারী আইনের আওতায় আনা ততটাই জটিল।
সিআইডি কর্মকর্তা মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ১৯ অক্টোবর গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি হলে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতি চক্র গ্রেপ্তার করতে অভিযান হয়। পরের দিন শাহবাগ থানায় একটি মামলা হয়। এরপর নাটোরের ক্রীড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান এছামী সহ এই চক্রের ২৮ জনকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে আগের রাতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল উৎপাটন করা হয়।
মোল্লা নজরুল বলেন, ভর্তি কিংবা নিয়োগ পরীক্ষায় দুইভাবে জালিয়াতি হয়। একটি চক্র আগের রাতে প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস করত। আরেকটি চক্র চক্র পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র নিয়ে দ্রুত
তা সমাধান করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীকে সরবরাহ করত। গ্রেপ্তার ইব্রাহিমের ছিল বিলাসী জীবন। তার মাধ্যমে ৩৬ তম বিসিএসে নন ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ পেয়েছে। তিনি ৩৬ লাখ টাকা দামের গাড়িতে চলাচল করত। জালিয়াতির টাকায় খুলনার মুজগুন্নী এলাকায়
সাড়ে ছয় শতাংশ জমির উপরে চারতলা ভবন নির্মাণ করেছেন। নড়াইলে তৈরি করেছে ডুপ্লেক্স বাড়ি। এছাড়াও অবৈধ মানিএক্সচেঞ্জের ব্যবসা করতের বলে স্বীকার করেছেন সিআইডির কাছে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার রায়হান উদ্দীন খান, অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আসলাম উদ্দিন এবং সহকারী পুলিশ শারমিন জাহান ।
মোঃ মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম,
ঢাকা,বৃহস্পতিবার,০৯ আগস্ট,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

সর্বশেষ আপডেট



» রাজনৈতিক কারণে ব্যারিস্টার মইনুলকে ধরা হয়নি।সুনির্দিষ্ট মামলার প্রেক্ষিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে

» ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মালিকানাধীন ফার্মাসিউটিক্যালস ও গণস্বাস্থ্য হাসপাতালকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা

» ওষুধের এক্সপায়ার ডেট ২০১৩, বিক্রি হচ্ছে ২০১৮ সালেও দুই ফার্মেসিকে এক লাখ টাকা জরিমানা

» দুর্নীতিবাজ ও যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতির মাঠে পুনর্বাসনের জন্যই ড. কামাল হোসেন বিএনপির সঙ্গে ঐক্য গড়েছেন

» ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের ফোনালাপের ফাঁস করা অডিও ক্লিপ আমরা বিশ্বাস করি না

» মোবাইলের আইএমইআই পরিবর্তন করে হত্যা, মুক্তিপণ,অপহরণ অপরাধের সাথে জড়িত চক্রের সদস্য ১৫ আটক

» ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ

» আওয়ামী লীগের যৌথসভার পর নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভার বিষয়ে সিদ্ধান্ত

» খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে করা আবেদনের ওপর দুদক এবং রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষ আদেশ বুধবার

» যশোরের নওয়াপাড়ায় ট্রাকের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষ

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

 

 

সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

চাকরির নিয়োগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগে নয় সদস্য গ্রেপ্তার-সিআইডি

সিনিয়ার নিজস্ব প্রতিবেদক: চাকরি ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি করে বিকেএসপির সহকারী পরিচালক অলিপ কুমার বিশ্বাস তিন কোটি টাকা কামিয়েছেন বলে জানিয়েছে সিআইডির অর্গানাইজড টিমের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল। আজ বৃহস্পতিবার (৯ আগষ্ট ২০১৮) বেলা সোয়া ১২ টার সময়ে রাজধানীর মালিবাগে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান কার্যালয়ে সমম্মেলন কক্ষে পাঁচ দিনের অভিযানে জালিয়াতি চক্রের নয় সদস্যকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল।
সিআইডি জানায়, বিএডিসির সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল, ৩৬ তম বিসিএসে নন ক্যাডার পদে সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত ইব্রাহিম এবং ৩৮ তম বিসিএসের প্রিলিতে উত্তীর্ণ আয়ূব আলী বাঁধনও অলিপের সঙ্গে জালিয়াতির চক্রে জড়িত। এদের চারজনের প্রায় ১০ কোটি নগদ টাকা ও সম্পদের সন্ধান পেয়েছে তারা। অনুসন্ধানে তাদের সম্পদের পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি জালে ধরা পড়েছেন অলিপ। তাকে ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতি চক্রের হোতা বলছে সংস্থাটি। বাংলাদেশ কর্ম কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক ও সরকারি চাকরির নিয়োগ ও ভর্তিতে ডিজিটাল জালিয়াতির সবচেয়ে বড় চক্রটিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি)। গত শুক্রবার থেকে টানা পাঁচ দিনের অভিযানে এই চক্রের নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত শুক্রবার থেকে টানা পাঁচদিনের অভিযানে গ্রেপ্তার হন অলিপ কুমার বিশ্বাস, মোস্তফা কামাল, ইব্রাহিম, আয়ূব আলী বাঁধন, গোলাম মোহাম্মদ বাবুল, আনোয়ার হোসেন মুজমদার, নূরুল ইসলাম, হোসনে আরা বেগম হাসমত আলী।
গ্রেপ্তারের সময়ে তাদের কাছ থেকে বিসিএস পরীক্ষার লিখিত প্রশ্নপত্রের কপি এবং ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
সিআইডির বিশেষ সুপার বলেন, আগের রাতে প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের পরো চক্র চিহ্নিত করা গেলেও ডিভাইস চক্রটি বাকি ছিল। ডিভাইস চক্রের প্রধান বিকেএসপির সহকারী পরিচালক অলিপ কুমার বিশ্বাসের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরে তিনি গা ঢাকা দেন। প্রেস বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠান এনালগভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস করলে তাদের আইনের আওতায় আনা যতটা সহজ কিন্তু ডিজিটাল পদ্ধতি অবলম্বনকারী আইনের আওতায় আনা ততটাই জটিল।
সিআইডি কর্মকর্তা মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ১৯ অক্টোবর গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি হলে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতি চক্র গ্রেপ্তার করতে অভিযান হয়। পরের দিন শাহবাগ থানায় একটি মামলা হয়। এরপর নাটোরের ক্রীড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান এছামী সহ এই চক্রের ২৮ জনকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে আগের রাতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল উৎপাটন করা হয়।
মোল্লা নজরুল বলেন, ভর্তি কিংবা নিয়োগ পরীক্ষায় দুইভাবে জালিয়াতি হয়। একটি চক্র আগের রাতে প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস করত। আরেকটি চক্র চক্র পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র নিয়ে দ্রুত
তা সমাধান করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীকে সরবরাহ করত। গ্রেপ্তার ইব্রাহিমের ছিল বিলাসী জীবন। তার মাধ্যমে ৩৬ তম বিসিএসে নন ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ পেয়েছে। তিনি ৩৬ লাখ টাকা দামের গাড়িতে চলাচল করত। জালিয়াতির টাকায় খুলনার মুজগুন্নী এলাকায়
সাড়ে ছয় শতাংশ জমির উপরে চারতলা ভবন নির্মাণ করেছেন। নড়াইলে তৈরি করেছে ডুপ্লেক্স বাড়ি। এছাড়াও অবৈধ মানিএক্সচেঞ্জের ব্যবসা করতের বলে স্বীকার করেছেন সিআইডির কাছে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার রায়হান উদ্দীন খান, অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আসলাম উদ্দিন এবং সহকারী পুলিশ শারমিন জাহান ।
মোঃ মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম,
ঢাকা,বৃহস্পতিবার,০৯ আগস্ট,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

© Copyright BY HBnews24.Com

Design & Developed BY PopularITLimited