সিআইডি গত দেড় বছরে প্রশ্ন ফাঁস চক্রের মূল হোতাসহ ৪৬ জন গ্রেপ্তার করেছে-সিআইডির প্রধান

অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির প্রধান (এডিশনাল আইজি) শেখ হিমায়েত হোসেন বলেছেন, আমরা( সিআইডি) গত দেড় বছরে প্রশ্ন ফাঁস চক্রের মূল হোতাসহ ৪৬ জন গ্রেপ্তার করেছে। আমরা প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের মূলোৎপাটন করতে পেরেছি। আমরা এই অপরাধের মূলোৎপাটন করত সফল হয়েছে।এছাড়াও এই ধরনের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা নাই। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে বারোটায় সিআইডি হেড কোয়াটারে কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান সিআইডির প্রধান।
সিআইডির প্রধান বলেন, মহান ভাষা আন্দোলনের মাস সালাম রফিক জব্বার আত্মর মাগফিরাত কামন্ করে সংবাদ সম্মেলন শুরু করছি। প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সিআইডি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিল। এই কাজে আমরা অনেকটাই সফল হয়েছি। সিআইডি এই পর্যন্ত ৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সিআরপিসি অনুযায়ী তাদের জবানবন্দি নিয়েছে। এত আসামি জবানবন্দি দিয়েছে তার কোন ইতিহাস নেই
শেখ হিমায়েত হোসেন বলেন, আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি তাদের এই পরিশ্রমের পুরষ্ক পাবেন। ওইদিনর আপনারা দেখতে পারবেন প্রধানমন্ত্রী নিজহাতেই তাদের পুরষ্কার দেবেন। শুধু মামলা তদন্ত করেনা। প্রশিক্ষণও দেই বাংলাদেশে একটি সাইবার প্রশিক্ষণ রয়েছে শুধু সিআইডির কাছে।
মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছর ধরে দেশের গুরুত্বপূর্ন পাবলিক বিশ^বিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা এবং বিসিএস, ব্যাংক সহ সরকারী বিভিন্ন নিয়োগ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটায় বর্তমানে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহন করেছে। এই ধারাবাহিকতায় অর্গানাইজড ক্রাইম সিআইডির চৌকষ টিম টানা দেড় বছরের নিরলস পরিশ্রম, সুকৌশল এবং দক্ষতায় নিয়োগ ভর্তিতে প্রশ্ন ফাঁস এবং ডিজিটাল জালিয়াতির সর্ববৃহৎ দুইটি আলাদা চক্র কে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনে। সর্বশেষ গত কয়েকদিনের চলমান অভিযানে ডিজিটাল ডিভাইস জালিয়াতি চক্রটির অন্যতমত হোতা হাফিজুর রহমান হাফিজ এবং মাসুদুর রহমান তাজুলকে গ্রেপ্তারে মধ্য দিয়ে এই পর্যন্ত ৪৬ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফলে এ যাবতকালের সর্ববৃহৎ প্রশ্ন ফাঁসের চক্রটি মূলোৎপাটিত হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের দুইটি হলে অভিযান চালিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত রানা ও মামুন নামের দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য থেকে পরীক্ষার হল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী রাফিকে। এরপর গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্যমতে প্রযুক্তি অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রশ্ন পেয়ে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়া সাত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। এই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানযায় পরীক্ষার আগেই প্রেস থেকে ফাঁস হয়ে যেত ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের প্রশ্ন। এই চক্রের মাষ্টার মাইন্ড নাটোরের ক্রিড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান এছামী,প্রেস কর্মচারী খান বাহাদুর,তার আত্মীয় সাইফুল,রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বনি ও মারুফ সহ ২৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে চক্রের মূল উৎপাটন করা হয়। সংঘবদ্ধ এই চক্রটি ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে এবং সাভারের একটি বাসায় আগের রাতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পড়াতো।
মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ তদন্ত শেষে আমরা দেখেছি, ভর্তি কিংবা নিয়োগ পরীক্ষায় দুইভাবে জালিয়াতি হয়। একটি চক্র আগের রাতে প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে। অন্য চক্রটি পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র নিয়ে দ্রুত তা সমাধান করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদেরকে সরবরাহ করে। আগের রাতে প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারি পুরো চক্র চিহ্নিত করা গেলেও ডিভাইস চক্রটি বাকি ছিল। প্রেনস বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠান যারা এনালগ পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে তাদের আইনের আওতায় আনা ততোটাই জটিল। কিন্তু সিআইডি প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে বদ্ধপরিকর ছিল। ফলে টানা সাঁড়াসি অভিযানে নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি চক্রের মাস্টার মাইন্ড বিকেএসপির সহকারী অলিপ কুমার বিশ^াস, মূল হোতা ৩৮ তম বিসিএসের নন ক্যাডাে সুপারিশপ্রাপ্ত ইব্রাহিম মোল্ল্যা বিএিডিরি সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল আইয়ুব আলী বাঁধন সহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। এই চক্রটি গত কয়েক বছর ধরে লাখো তরুণের স্বপ্নের চাকরি বিসিএস পরীক্ষাতেও জালিয়াতি করেছে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার বলেন, এছাড়াও পরীক্ষার কেন্দ্রে থেকে পরীক্ষার শুরুর কয়েক মিনিট আগে প্রশ্নপত্র সরবরাহের অভিযোগে রাজধানীর অগ্রানি স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক গোলাম মোহাম্মদ বাবুল, অফিস সহায়ক (পিওন) আনোয়ার হোসেন মুজমদার এবং নূরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযোগে ধানমন্ডি গভমেন্টে বয়েজ স্কুলের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক হোসনে আরা বেগম এবং পিওন হাসমত আলী শিকদারকেও গ্রেপ্তার করে সিআইডি। গ্রেপ্তারে সময়ে হাসমতের কাছ থেকে ওইদিনের বিসিএস লিখিত পরীক্ষার কয়েক কপি প্রশ্নপত্র এবং ৬০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। অলিপ,ইব্রাহিম,মোস্তফা, তাজুল,হাফিজও বাঁধন ডিভাইজ জালিয়াতির এই ছয় মূলহোতার প্রত্যেককের আবার নিজস্ব সহযোগি চক্র ছিল। সর্বশেষ অভিযানে এদের কয়েকজন সহযোগিকেই গ্রেপ্তার করা হয়। অলিপের অন্যতম সহযোগি অগ্রানি ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার জাহাঙ্গীর আলম এবং ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী সাঈদুর রহমান সাঈদ,তাজুলের প্রধান সহযোগি ঢাকা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী অসীম বিশ^াস মুম্বাই থেকে পরীক্ষায় জালিয়াতির কয়েকশত ডিভাইস আমদানি করেছে।
সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, সর্বশেষ অভিযানে জনতা ব্যাংকের জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান হাফিজ, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুর রহমান, একই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাঈদুর রহমান সাঈদ, চতুর্থ বর্ষের মোহায়মিনুল ইসলাম গ্রীন বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিমন হোসেন, ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমান তাজুল, অগ্রানি ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা কলেজের পিওন মোশাররফ হোসেন মোশা এবং ঢাকা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী অসিম বিশ^াস। এ ঘটনায় তিন মিলিয়ন ৩০ কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কাজ করছি। তাদের বিরুদ্ধে মানিলান্ডরিংয়ের মামলা করা হয়েছে।
এই সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সিআইডির ডিআইজি শাহ আলম, এডিশনাল ডিআইজি মোখলেসুর রহমান এবং সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম।

মোঃ মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম,
ঢাকা,বৃহস্পতিবার, ৩১ জানুয়ারি,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

সর্বশেষ আপডেট



» রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কের লালমনিরহাটের বড়বাড়িতে বাসের সঙ্গে সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩

» ঐক্যফ্রন্টের গণশুনানি ২৪ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ২২ ফেব্রুয়ারি

» মেয়র পদপ্রার্থী আতিকুর রহমানের আগামী প্রজন্মের স্বপ্নের ঢাকা শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত

» ডাকসু’র নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু

» খাগড়াছড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সাতজন দগ্ধ

» জাজিরা প্রান্তে বসছে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর সপ্তম স্প্যান

» শাজাহান খানের নেতৃত্বে সড়কে শৃঙ্খলার কমিটি হাস্যকর ও তামাশা : রিজভী

» একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে মহানগরীর নিরাপত্তায় ১৬ হাজার পুলিশ

» বিশ্বশান্তি ও কল্যাণ কামনায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এবারের ইজতেমা

» সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

 

 

সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

সিআইডি গত দেড় বছরে প্রশ্ন ফাঁস চক্রের মূল হোতাসহ ৪৬ জন গ্রেপ্তার করেছে-সিআইডির প্রধান

অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির প্রধান (এডিশনাল আইজি) শেখ হিমায়েত হোসেন বলেছেন, আমরা( সিআইডি) গত দেড় বছরে প্রশ্ন ফাঁস চক্রের মূল হোতাসহ ৪৬ জন গ্রেপ্তার করেছে। আমরা প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের মূলোৎপাটন করতে পেরেছি। আমরা এই অপরাধের মূলোৎপাটন করত সফল হয়েছে।এছাড়াও এই ধরনের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা নাই। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে বারোটায় সিআইডি হেড কোয়াটারে কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান সিআইডির প্রধান।
সিআইডির প্রধান বলেন, মহান ভাষা আন্দোলনের মাস সালাম রফিক জব্বার আত্মর মাগফিরাত কামন্ করে সংবাদ সম্মেলন শুরু করছি। প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সিআইডি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিল। এই কাজে আমরা অনেকটাই সফল হয়েছি। সিআইডি এই পর্যন্ত ৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সিআরপিসি অনুযায়ী তাদের জবানবন্দি নিয়েছে। এত আসামি জবানবন্দি দিয়েছে তার কোন ইতিহাস নেই
শেখ হিমায়েত হোসেন বলেন, আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি তাদের এই পরিশ্রমের পুরষ্ক পাবেন। ওইদিনর আপনারা দেখতে পারবেন প্রধানমন্ত্রী নিজহাতেই তাদের পুরষ্কার দেবেন। শুধু মামলা তদন্ত করেনা। প্রশিক্ষণও দেই বাংলাদেশে একটি সাইবার প্রশিক্ষণ রয়েছে শুধু সিআইডির কাছে।
মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছর ধরে দেশের গুরুত্বপূর্ন পাবলিক বিশ^বিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা এবং বিসিএস, ব্যাংক সহ সরকারী বিভিন্ন নিয়োগ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটায় বর্তমানে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহন করেছে। এই ধারাবাহিকতায় অর্গানাইজড ক্রাইম সিআইডির চৌকষ টিম টানা দেড় বছরের নিরলস পরিশ্রম, সুকৌশল এবং দক্ষতায় নিয়োগ ভর্তিতে প্রশ্ন ফাঁস এবং ডিজিটাল জালিয়াতির সর্ববৃহৎ দুইটি আলাদা চক্র কে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনে। সর্বশেষ গত কয়েকদিনের চলমান অভিযানে ডিজিটাল ডিভাইস জালিয়াতি চক্রটির অন্যতমত হোতা হাফিজুর রহমান হাফিজ এবং মাসুদুর রহমান তাজুলকে গ্রেপ্তারে মধ্য দিয়ে এই পর্যন্ত ৪৬ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফলে এ যাবতকালের সর্ববৃহৎ প্রশ্ন ফাঁসের চক্রটি মূলোৎপাটিত হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের দুইটি হলে অভিযান চালিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত রানা ও মামুন নামের দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য থেকে পরীক্ষার হল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী রাফিকে। এরপর গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্যমতে প্রযুক্তি অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রশ্ন পেয়ে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়া সাত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। এই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানযায় পরীক্ষার আগেই প্রেস থেকে ফাঁস হয়ে যেত ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের প্রশ্ন। এই চক্রের মাষ্টার মাইন্ড নাটোরের ক্রিড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান এছামী,প্রেস কর্মচারী খান বাহাদুর,তার আত্মীয় সাইফুল,রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বনি ও মারুফ সহ ২৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে চক্রের মূল উৎপাটন করা হয়। সংঘবদ্ধ এই চক্রটি ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে এবং সাভারের একটি বাসায় আগের রাতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পড়াতো।
মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ তদন্ত শেষে আমরা দেখেছি, ভর্তি কিংবা নিয়োগ পরীক্ষায় দুইভাবে জালিয়াতি হয়। একটি চক্র আগের রাতে প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে। অন্য চক্রটি পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র নিয়ে দ্রুত তা সমাধান করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদেরকে সরবরাহ করে। আগের রাতে প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারি পুরো চক্র চিহ্নিত করা গেলেও ডিভাইস চক্রটি বাকি ছিল। প্রেনস বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠান যারা এনালগ পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে তাদের আইনের আওতায় আনা ততোটাই জটিল। কিন্তু সিআইডি প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে বদ্ধপরিকর ছিল। ফলে টানা সাঁড়াসি অভিযানে নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি চক্রের মাস্টার মাইন্ড বিকেএসপির সহকারী অলিপ কুমার বিশ^াস, মূল হোতা ৩৮ তম বিসিএসের নন ক্যাডাে সুপারিশপ্রাপ্ত ইব্রাহিম মোল্ল্যা বিএিডিরি সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল আইয়ুব আলী বাঁধন সহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। এই চক্রটি গত কয়েক বছর ধরে লাখো তরুণের স্বপ্নের চাকরি বিসিএস পরীক্ষাতেও জালিয়াতি করেছে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার বলেন, এছাড়াও পরীক্ষার কেন্দ্রে থেকে পরীক্ষার শুরুর কয়েক মিনিট আগে প্রশ্নপত্র সরবরাহের অভিযোগে রাজধানীর অগ্রানি স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক গোলাম মোহাম্মদ বাবুল, অফিস সহায়ক (পিওন) আনোয়ার হোসেন মুজমদার এবং নূরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযোগে ধানমন্ডি গভমেন্টে বয়েজ স্কুলের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক হোসনে আরা বেগম এবং পিওন হাসমত আলী শিকদারকেও গ্রেপ্তার করে সিআইডি। গ্রেপ্তারে সময়ে হাসমতের কাছ থেকে ওইদিনের বিসিএস লিখিত পরীক্ষার কয়েক কপি প্রশ্নপত্র এবং ৬০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। অলিপ,ইব্রাহিম,মোস্তফা, তাজুল,হাফিজও বাঁধন ডিভাইজ জালিয়াতির এই ছয় মূলহোতার প্রত্যেককের আবার নিজস্ব সহযোগি চক্র ছিল। সর্বশেষ অভিযানে এদের কয়েকজন সহযোগিকেই গ্রেপ্তার করা হয়। অলিপের অন্যতম সহযোগি অগ্রানি ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার জাহাঙ্গীর আলম এবং ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী সাঈদুর রহমান সাঈদ,তাজুলের প্রধান সহযোগি ঢাকা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী অসীম বিশ^াস মুম্বাই থেকে পরীক্ষায় জালিয়াতির কয়েকশত ডিভাইস আমদানি করেছে।
সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, সর্বশেষ অভিযানে জনতা ব্যাংকের জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান হাফিজ, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুর রহমান, একই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাঈদুর রহমান সাঈদ, চতুর্থ বর্ষের মোহায়মিনুল ইসলাম গ্রীন বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিমন হোসেন, ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমান তাজুল, অগ্রানি ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা কলেজের পিওন মোশাররফ হোসেন মোশা এবং ঢাকা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী অসিম বিশ^াস। এ ঘটনায় তিন মিলিয়ন ৩০ কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কাজ করছি। তাদের বিরুদ্ধে মানিলান্ডরিংয়ের মামলা করা হয়েছে।
এই সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সিআইডির ডিআইজি শাহ আলম, এডিশনাল ডিআইজি মোখলেসুর রহমান এবং সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম।

মোঃ মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম,
ঢাকা,বৃহস্পতিবার, ৩১ জানুয়ারি,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

© Copyright BY HBnews24.Com

Design & Developed BY PopularITLimited