করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলাদেশে

নতুন আক্রান্ত মোট আক্রান্ত সুস্থ মৃত্যু
১৬৯৬ ৩,৯৪,৮২৭ ৩,১০,৫৩২ ৫৭৪৭

সমুদ্রের মঝে নয়নাভিরাম অপরূপ সৌন্দর্যের হাতছানি।। পাখির কোলাহল আর লাল কাকড়ার লুকোচুরিতে মুখরিত চর বিজয়

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি,০৯ ডিসেম্বর।। চারদিকে সাগরের অথৈ জলরাশি। পশ্চিম দিকে হাজারো অতিথি পাখি আর পান কৌড়ির কিচির মিচির কলতানে মুখরিত। পূর্ব দিকে লাল কাকড়ার অবিরাম লুকোচুরি খেলা। নিচে শুধু ধু ধু বালুচর। চারপাশে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য। সমুদ্রের মাঝে সূর্যের আলোর চিকচিক দৃশ্যের সাথে ঢেউয়ের খেলা। নেই কোন বসতি, নেই কোন গাছপালা। নেই কোন মানুষের কোলহল। রয়েছে এই একই স্থানে দাড়িয়ে সূর্যদয়-সূর্সাস্তের অবলোকনের দৃশ্য। এ যেন সমুদ্রের মঝে নয়নাভিরাম অপরূপ সৌন্দর্যের হাতছানি। এ দৃশ্য প্রকৃতির খেলায় বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা কুয়াকাটার চর বিজয়ের।
২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা থেকে পূর্ব দক্ষিন দিকে গভীর সমুদ্রে এ চরের সন্ধান পায় ট্যুরিজম ব্যবসায়িরা। প্রায় ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও দেড় কিলোমিটার প্রস্থ এ চরটি। তখন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে চরটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বাগান সৃজনের জন্য বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২ হাজার চারা রোপন করেন। জাতীয় পতাকা ও সাইনবোর্ড টানিয়ে চরের নামকরণ করেন ‘চর বিজয়’। তবে জেলেসহ স্থানীয়দের কাছে এ চরটি হাইরের চর নামেও পরিচিত। কুয়াকাটা সৈকত থেকে ট্যুরিস্ট বোট
নিয়ে মাত্র দেড় ঘণ্টায় পৌঁছানো যায় এ চরটিতে।
এদিকে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে ৪ ডিসেম্বর বুধবার চরবিজয়’র ৩য় বার্ষিকী পালন করে স্থানীয় ট্যুরিজাম ব্যবসায়িরা। পর্যটকদের সুবিধার্থে ওই চরে বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য একটি টিউবওয়েল স্থাপন ও একটি টয়লেট নির্মাণ করেন তারা। এছাড়া চরটিতে কয়েক’শ বৃক্ষ চারা রোপন করেন। এসময় কুয়াকাটার পৌর মেয়র আব্দুল বারেক মোল্লা সহ প্রায় শতাধিক পর্যটক ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
জেলেরা জানান, বর্ষা মৌসুমের ছয় মাস চরটি সাগরের পানিতে হাটু পরিমাণ ঢাকা থাকে। আবার শীত মৌসুমে উঁকি দেয়। প্রান্তিক জেলেরা তখন মাছ ধরতে সাগরে যায় এবং মাঝেমাঝে ওই চরটিতে অবস্থান নেয়। এছাড়াও ছোট ছোট ডেরা তৈরি করে শুঁটকি করার জন্য দুই তিন মাস এ চরে অবস্থান নেয় অনেক জেলেরা।
চর বিজয় ঘুরে আসা ঢাকার বাসিন্দা সিমা আক্তার বলেন, চর বিজয়ের নাম শুনে আমরা সেখানে যাই। অনেক আনন্দ করি। জেলেদের জাল দিয়ে চরে মাছশিকার ছিল বেশি আনন্দময়। সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের সময় চরটিতে অপরূপ দৃশ্য আর ঢেউ’র শব্দ, অগণিত অতিথি পাখির কিচির মিচির ও লাল কাঁকড়াদের বর্ণিল আলপনা অসাধারন লেগেছে। অপর এক পর্যটক আক্তার হোসেন জানান, গভীর সাগরে জেগে আছে মনোমুগ্ধকর দ্বীপ চর বিজয়। চারদিকে সাগরের অথৈ পানি। চরে নেমেই কিছু সময়ের জন্য হারিয়ে যাই।
প্রকৃতির নান্দনিক সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছে।
চর বিজয়ের নামকরণকারীদের একজন ট্যুরিজম ব্যবসায়ি হোসাইন আমির বলেন, সমুদ্রের মাঝে জেগে ওঠা চরটি ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর বিজয়ের এই মাসে আবিষ্কার হয়েছে। তাই এ চরটির নামকরন করা হয় চর বিজয়। ফটো সাংবাদিক আরিফুর রহমান বলেন, এ চরটি নয়নাভিরাম অপরূপ সৌন্দর্যের হাতছানি। সম্ভাবনাময় এই চরটি ইতোমধ্যে কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের দৃষ্টি কেড়েছে। দিন দিন বাড়ছে পর্যটকের সংখ্যা।
কুয়াকাটা ট্যুরিষ্ট পুলিশের কুয়াকাটা পৌর মেয়র আ.বারেক মোল্লা বলেন, এ চরটিতে শৌচাগার, পিকনিক স্পট, সুপেয় পানির ব্যবস্থাসহ ব্যাপক উন্নয়ন মূলক কাজ করা প্রয়োজন। কিন্তু পৌরসভার বাইরে হওয়ায় এসব কাজ করা যাচ্ছেনা। তবে এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমান জানান, চর বিজয় অতিথি
পাখিদের অভয়রন্য একটি দ্বীপ। এটি রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ রয়েছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
উত্তম কুমার হাওলাদার.কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি
পটুয়াখালী,সোমবার,০৯ ডিসেম্বর,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

সর্বশেষ আপডেট



» ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

» নতুন করে আরও ১০৯৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত,মৃত্যু ১৯ জন

» আগুনমুখা নদীতে স্পিডবোট ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ পাঁচ জনের মরদেহ উদ্ধার

» সিলেটে রায়হান হত্যা: কনস্টেবল হারুন গ্রেফতার

» বায়তুল মোকাররমে ও সুপ্রিম কোর্টে জানাজা শেষে বনানীর পথে রফিক-উল হকের মরদেহ

» প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আর নেই

» নতুন করে আরও ১৫৮৬ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত,মৃত্যু ১৪ জন

» রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মিয়ানমারে ফেরত নেয়া হবে বলে সম্প্রতি মিয়ানমার আবারও চীনকে আশ্বস্ত করেছে

» দেশে বৈরী আবহাওয়া থাকায় বরিশালের অভ্যন্তরীণ রুটে সব ধরনের লঞ্চ চলাচল বন্ধ

» গভীর নিম্নচাপের কারণে দেশের সমুদ্র বন্দরগুলোকে স্থানীয় ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

 

 

সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com




আজ রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ, ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সমুদ্রের মঝে নয়নাভিরাম অপরূপ সৌন্দর্যের হাতছানি।। পাখির কোলাহল আর লাল কাকড়ার লুকোচুরিতে মুখরিত চর বিজয়

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি,০৯ ডিসেম্বর।। চারদিকে সাগরের অথৈ জলরাশি। পশ্চিম দিকে হাজারো অতিথি পাখি আর পান কৌড়ির কিচির মিচির কলতানে মুখরিত। পূর্ব দিকে লাল কাকড়ার অবিরাম লুকোচুরি খেলা। নিচে শুধু ধু ধু বালুচর। চারপাশে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য। সমুদ্রের মাঝে সূর্যের আলোর চিকচিক দৃশ্যের সাথে ঢেউয়ের খেলা। নেই কোন বসতি, নেই কোন গাছপালা। নেই কোন মানুষের কোলহল। রয়েছে এই একই স্থানে দাড়িয়ে সূর্যদয়-সূর্সাস্তের অবলোকনের দৃশ্য। এ যেন সমুদ্রের মঝে নয়নাভিরাম অপরূপ সৌন্দর্যের হাতছানি। এ দৃশ্য প্রকৃতির খেলায় বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা কুয়াকাটার চর বিজয়ের।
২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা থেকে পূর্ব দক্ষিন দিকে গভীর সমুদ্রে এ চরের সন্ধান পায় ট্যুরিজম ব্যবসায়িরা। প্রায় ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও দেড় কিলোমিটার প্রস্থ এ চরটি। তখন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে চরটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বাগান সৃজনের জন্য বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২ হাজার চারা রোপন করেন। জাতীয় পতাকা ও সাইনবোর্ড টানিয়ে চরের নামকরণ করেন ‘চর বিজয়’। তবে জেলেসহ স্থানীয়দের কাছে এ চরটি হাইরের চর নামেও পরিচিত। কুয়াকাটা সৈকত থেকে ট্যুরিস্ট বোট
নিয়ে মাত্র দেড় ঘণ্টায় পৌঁছানো যায় এ চরটিতে।
এদিকে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে ৪ ডিসেম্বর বুধবার চরবিজয়’র ৩য় বার্ষিকী পালন করে স্থানীয় ট্যুরিজাম ব্যবসায়িরা। পর্যটকদের সুবিধার্থে ওই চরে বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য একটি টিউবওয়েল স্থাপন ও একটি টয়লেট নির্মাণ করেন তারা। এছাড়া চরটিতে কয়েক’শ বৃক্ষ চারা রোপন করেন। এসময় কুয়াকাটার পৌর মেয়র আব্দুল বারেক মোল্লা সহ প্রায় শতাধিক পর্যটক ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
জেলেরা জানান, বর্ষা মৌসুমের ছয় মাস চরটি সাগরের পানিতে হাটু পরিমাণ ঢাকা থাকে। আবার শীত মৌসুমে উঁকি দেয়। প্রান্তিক জেলেরা তখন মাছ ধরতে সাগরে যায় এবং মাঝেমাঝে ওই চরটিতে অবস্থান নেয়। এছাড়াও ছোট ছোট ডেরা তৈরি করে শুঁটকি করার জন্য দুই তিন মাস এ চরে অবস্থান নেয় অনেক জেলেরা।
চর বিজয় ঘুরে আসা ঢাকার বাসিন্দা সিমা আক্তার বলেন, চর বিজয়ের নাম শুনে আমরা সেখানে যাই। অনেক আনন্দ করি। জেলেদের জাল দিয়ে চরে মাছশিকার ছিল বেশি আনন্দময়। সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের সময় চরটিতে অপরূপ দৃশ্য আর ঢেউ’র শব্দ, অগণিত অতিথি পাখির কিচির মিচির ও লাল কাঁকড়াদের বর্ণিল আলপনা অসাধারন লেগেছে। অপর এক পর্যটক আক্তার হোসেন জানান, গভীর সাগরে জেগে আছে মনোমুগ্ধকর দ্বীপ চর বিজয়। চারদিকে সাগরের অথৈ পানি। চরে নেমেই কিছু সময়ের জন্য হারিয়ে যাই।
প্রকৃতির নান্দনিক সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছে।
চর বিজয়ের নামকরণকারীদের একজন ট্যুরিজম ব্যবসায়ি হোসাইন আমির বলেন, সমুদ্রের মাঝে জেগে ওঠা চরটি ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর বিজয়ের এই মাসে আবিষ্কার হয়েছে। তাই এ চরটির নামকরন করা হয় চর বিজয়। ফটো সাংবাদিক আরিফুর রহমান বলেন, এ চরটি নয়নাভিরাম অপরূপ সৌন্দর্যের হাতছানি। সম্ভাবনাময় এই চরটি ইতোমধ্যে কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের দৃষ্টি কেড়েছে। দিন দিন বাড়ছে পর্যটকের সংখ্যা।
কুয়াকাটা ট্যুরিষ্ট পুলিশের কুয়াকাটা পৌর মেয়র আ.বারেক মোল্লা বলেন, এ চরটিতে শৌচাগার, পিকনিক স্পট, সুপেয় পানির ব্যবস্থাসহ ব্যাপক উন্নয়ন মূলক কাজ করা প্রয়োজন। কিন্তু পৌরসভার বাইরে হওয়ায় এসব কাজ করা যাচ্ছেনা। তবে এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমান জানান, চর বিজয় অতিথি
পাখিদের অভয়রন্য একটি দ্বীপ। এটি রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ রয়েছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
উত্তম কুমার হাওলাদার.কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি
পটুয়াখালী,সোমবার,০৯ ডিসেম্বর,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

© Copyright BY HBnews24.Com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com

Translate »