করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলাদেশে

নতুন আক্রান্ত মোট আক্রান্ত সুস্থ মৃত্যু
২৯৯৬ ২,৬৩,৫০৩ ১,৫১,৯৭২ ৩৪৭১

বাঙলা সাহিত্যের ধারক কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৯ তম জন্মজয়ন্তি আজ

আজ ২৫ শে বৈশাখ।১৫৯ বছর আগের ঠিক এই দিনেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন।মানবতার বিশ্বকবি বাঙালির মননে, কল্পনায় ও চেতনায় জড়িয়ে আছেন সবসময়। সকল কাজের মতোই জীবন সংগ্রামেও চিরকালের সঙ্গী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দর্শন। তিনি তার লেখনী দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন বাংলা সাহিত্যের সব কটি ধারা। রবি ঠাকুরের হাতেই মূলত সার্থক বাংলা ছোটগল্পের সূত্রপাত। এরপর গান-কবিতায় তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলার কবি, বাঙালির কবি। তবে তিনি সব সময় নিজেকে বিশ্বচরাচরের অংশ হিসেবে বিশ্বাস করতেন। তিনি বাঙালির উদ্দেশে বলেছেন, ‘তুমি নিছক বাঙ্গালী নও, তুমি বিশ্বচরাচরের অংশ।’রবীন্দ্রনাথ গীতাঞ্জলি রচনা করে ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। যার পুরো অর্থ দিয়ে এ দেশের শাহজাদপুরের দরিদ্র কৃষকদের ঋণ দেওয়ার উদ্দেশে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন কৃষি ব্যাংক এবং গড়ে তোলেন শান্তিনিকেতন।

কবিগুরু কখনো কখনো রাজপথে নেমে এসেছেন। করেছেন বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে। তিনি পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া ‘নাইটহুড’ উপাধিও ত্যাগ করেছিলেন।স্কটিশ কবি রবার্ট বার্নসের লেখা গানটির সুরে রবীন্দ্রনাথের ফুলে ফুলে গানটিতে এখনও উদ্বেলিত হয় সব বাঙালির মন। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ এমন হাজারো গান লিখে সমৃদ্ধ করেছেন বাংলা সাহিত্যকে।কলকাতার জোড়াসাঁকোর ৬ নং দ্বারকানাথ ঠাকুর লেনের জমিদার পরিবারে ১৮৬১ সালে জন্ম কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। পিতামাতার চোদ্দো সন্তানের মধ্যে কণিষ্ঠতম রবীন্দ্রনাথের বিদ্যাশিক্ষা শুরু হয় দাদা হেমেন্দ্রনাথের হাতে। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৪ সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা-য় প্রকাশিত হয় তাঁর লেখা প্রথম কবিতা “অভিলাষ”। ১৯০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তীতে সেখানেই পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন তিনি।বাংলা সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে রবীন্দ্রনাথের পদচারণা ছিল না। দুই বাংলার জাতীয় সংগীতের স্রষ্টা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ১৩টি উপন্যাস, ৩৮টি নাটিকা, ৩৬টি প্রবন্ধ, ৯৫টি ছোটগল্প ও প্রায় দুই হাজারের মতো গান। তার সৃষ্টিকর্মের গুনগত মান নিয়ে তাই কখনো প্রশ্ন ওঠেনি।কবি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য চর্চায় ছিলো বিচিত্র কাটাকুটি, এই কাটাকুটি থেকে বেরিয়ে আসতো নানা রকমের মুখ, প্রাগৈতিহাসিক দানব, সরীসৃপ ।১৯২৩ সালে রক্তকরবীর পাণ্ডুলিপির খসড়ায় কাটাকুটি থেকে ছবি একেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ১৮৭৮-৮২, এ চার বছরে তিনি ‘মালতী’ পুঁথির পাতায় ছবি আঁকতেন। তবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পুরাদস্তুর ছবি আঁকা শুরু করেন ১৯২৮ সাল থেকে। তার আঁকা আড়াই হাজারের ওপর ছবি যুক্ত হয়েছে সাহিত্য কর্মে।

রবীন্দ্রনাথ দেশভাগ কিংবা জাতিগত বিভেদ কখনই চাননি, তাই তো ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে ঘিরে তিনি লেখেন- বাঙলার মাটি বাঙলার জল, বাঙলার বায়ু বাঙলার ফল পূন্য হউক হে ভগবান…. ১৯৩৯ সালে নেতাজি সুভাষ বোষের উপস্থিতিতে মহাজাতি সদনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তার কিয়দংশ উপস্থাপন্ও করেন কবিগুরু।
ঢাকা,শুক্রবার, ০৮ মে,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

সর্বশেষ আপডেট



» আগামী ৩রা অক্টোবর বাফুফের বহুল কাক্ষিত নির্বাচন

» মেজর সিনহা হত্যায় আরো ৩ জন গ্রেফতার

» বিশ্বের প্রথম করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের অনুমোদন রাশিয়ার

» বামনা থানার এএসআইয়ের গালে চড় মারা সেই ওসি মো. ইলিয়াস আলী প্রত্যাহার

» বঙ্গবন্ধু হত্যা ছিল সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অংশ-তথ্যমন্ত্রী

» গোপালগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলায় আহত যুবলীগ নেতা রাসেল মোল্লা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন

» নতুন করে আরও ২৯৯৬ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত,মৃত্যু ৩৩ জন

» পয়লা অক্টোবরের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে কোনও ঝুলন্ত ক্যাবল থাকবে না-মেয়র

» ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

» করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন পুলিশের আরেক গর্বিত সদস্য

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

 

 

সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ, ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বাঙলা সাহিত্যের ধারক কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৯ তম জন্মজয়ন্তি আজ

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

আজ ২৫ শে বৈশাখ।১৫৯ বছর আগের ঠিক এই দিনেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন।মানবতার বিশ্বকবি বাঙালির মননে, কল্পনায় ও চেতনায় জড়িয়ে আছেন সবসময়। সকল কাজের মতোই জীবন সংগ্রামেও চিরকালের সঙ্গী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দর্শন। তিনি তার লেখনী দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন বাংলা সাহিত্যের সব কটি ধারা। রবি ঠাকুরের হাতেই মূলত সার্থক বাংলা ছোটগল্পের সূত্রপাত। এরপর গান-কবিতায় তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলার কবি, বাঙালির কবি। তবে তিনি সব সময় নিজেকে বিশ্বচরাচরের অংশ হিসেবে বিশ্বাস করতেন। তিনি বাঙালির উদ্দেশে বলেছেন, ‘তুমি নিছক বাঙ্গালী নও, তুমি বিশ্বচরাচরের অংশ।’রবীন্দ্রনাথ গীতাঞ্জলি রচনা করে ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। যার পুরো অর্থ দিয়ে এ দেশের শাহজাদপুরের দরিদ্র কৃষকদের ঋণ দেওয়ার উদ্দেশে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন কৃষি ব্যাংক এবং গড়ে তোলেন শান্তিনিকেতন।

কবিগুরু কখনো কখনো রাজপথে নেমে এসেছেন। করেছেন বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে। তিনি পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া ‘নাইটহুড’ উপাধিও ত্যাগ করেছিলেন।স্কটিশ কবি রবার্ট বার্নসের লেখা গানটির সুরে রবীন্দ্রনাথের ফুলে ফুলে গানটিতে এখনও উদ্বেলিত হয় সব বাঙালির মন। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ এমন হাজারো গান লিখে সমৃদ্ধ করেছেন বাংলা সাহিত্যকে।কলকাতার জোড়াসাঁকোর ৬ নং দ্বারকানাথ ঠাকুর লেনের জমিদার পরিবারে ১৮৬১ সালে জন্ম কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। পিতামাতার চোদ্দো সন্তানের মধ্যে কণিষ্ঠতম রবীন্দ্রনাথের বিদ্যাশিক্ষা শুরু হয় দাদা হেমেন্দ্রনাথের হাতে। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৪ সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা-য় প্রকাশিত হয় তাঁর লেখা প্রথম কবিতা “অভিলাষ”। ১৯০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তীতে সেখানেই পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন তিনি।বাংলা সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে রবীন্দ্রনাথের পদচারণা ছিল না। দুই বাংলার জাতীয় সংগীতের স্রষ্টা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ১৩টি উপন্যাস, ৩৮টি নাটিকা, ৩৬টি প্রবন্ধ, ৯৫টি ছোটগল্প ও প্রায় দুই হাজারের মতো গান। তার সৃষ্টিকর্মের গুনগত মান নিয়ে তাই কখনো প্রশ্ন ওঠেনি।কবি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য চর্চায় ছিলো বিচিত্র কাটাকুটি, এই কাটাকুটি থেকে বেরিয়ে আসতো নানা রকমের মুখ, প্রাগৈতিহাসিক দানব, সরীসৃপ ।১৯২৩ সালে রক্তকরবীর পাণ্ডুলিপির খসড়ায় কাটাকুটি থেকে ছবি একেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ১৮৭৮-৮২, এ চার বছরে তিনি ‘মালতী’ পুঁথির পাতায় ছবি আঁকতেন। তবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পুরাদস্তুর ছবি আঁকা শুরু করেন ১৯২৮ সাল থেকে। তার আঁকা আড়াই হাজারের ওপর ছবি যুক্ত হয়েছে সাহিত্য কর্মে।

রবীন্দ্রনাথ দেশভাগ কিংবা জাতিগত বিভেদ কখনই চাননি, তাই তো ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে ঘিরে তিনি লেখেন- বাঙলার মাটি বাঙলার জল, বাঙলার বায়ু বাঙলার ফল পূন্য হউক হে ভগবান…. ১৯৩৯ সালে নেতাজি সুভাষ বোষের উপস্থিতিতে মহাজাতি সদনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তার কিয়দংশ উপস্থাপন্ও করেন কবিগুরু।
ঢাকা,শুক্রবার, ০৮ মে,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

© Copyright BY HBnews24.Com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com

Translate »