করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলাদেশে

নতুন আক্রান্ত মোট আক্রান্ত সুস্থ মৃত্যু
২৬১৭ ২,৬৯,১১৫ ১,৫৪,৮৭১ ৩৫৫৭

বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

আজকের এই দিনে আমাদের ছেড়ে যান এ দেশের একজন কীর্তিমান পরমাণুবিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান আন্দোলনের অগ্রনায়ক বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া। তাঁর প্রয়াণ ছিল দেশের বিজ্ঞানাঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।২০০৯ সালের ৯ই মে মারা যান দেশের বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া। মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী পীরগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর গ্রামে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।১৯৪২ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি রংপুরের পীরগঞ্জে জন্ম নেন ওয়াজেদ মিয়া। ‘সুধা মিয়া’ হিসেবে পরিচিত অসাধারণ মেধার অধিকারী এ বরেণ্য ব্যক্তি শৈশব থেকেই ছিলেন শিক্ষানুরাগী।
রংপুর জিলা স্কুল থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যা বিভাগে অনার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। ১৯৬২ সালে মাস্টার্স পরীক্ষায় অধিকার করেন প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান।১৯৭৫ সালে তিনি পশ্চিম জার্মানিতে পরমাণু শক্তি বিজ্ঞানে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
১৯৬৯ সালে তিনি ইটালিভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭৫-৮২ সালে তিনি ভারতের আণবিক শক্তি কমিশনের দিল্লির ল্যাবরেটরিতে গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি পুনরায় পরমাণু শক্তি কমিশনে যোগ দেন এবং ১৯৯৯ সালে এর চেয়ারম্যান হিসেবে অবসর নেন। তার গবেষণামূলক ও বিজ্ঞান বিষয়ক বহু প্রবন্ধ দেশি-বিদেশী সংবাদপত্র ও সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। তার উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা Fundamentals of Electromagnetics (1982), Fundamentals of Thermodynamics (1988), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ, বাংলাদেশের রাজনীতি ও সরকারের চালচিত্র। বিজ্ঞানে অবদানের জন্য বিক্রমপুর স্যার জগদীশচন্দ্র বসু সোসাইটি তাকে ‘স্যার জগদীশচন্দ্র বসু স্বর্ণপদক-৯৭’ দেয়।

বিজ্ঞান গবেষণা, বিজ্ঞান চর্চা ও বিজ্ঞান শিক্ষার উন্নয়ন ও প্রসারে তিনি সারা জীবন প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন। সুদীর্ঘ পেশাজীবনে নিজেকে প্রমাণ করে গেছেন একজন বিজ্ঞানী ও দেশপ্রেমিক হিসেবে। তাঁর প্রজ্ঞা, আদর্শ, নৈতিকতা, লক্ষ্য, সংগ্রাম আমাদের ও আমাদের নতুন প্রজন্মের আগামী দিনের পথচলার পাথেয় হয়ে থাকবে।বঙ্গবন্ধু পরিবারের এক দুঃসহ ও শোচনীয় সময়ে বঙ্গবন্ধুকন্যার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। এর মধ্য দিয়ে তাঁর দেশপ্রেমেরও পরিচয় পাওয়া যায়। ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর তিনি হয়ে ওঠেন গোটা পরিবারের কাণ্ডারি। সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত না হয়েও যে রাজনীতিতে যথেষ্ট অবদান রাখা যায়, তা প্রমাণ করে গেছেন ড. ওয়াজেদ মিয়া। শুধু তা-ই নয়, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, দর্শন, লক্ষ্য ও চেতনা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি তাঁর সহধর্মিণীকে সঁপে দিয়েছিলেন সোনার বাংলা গড়ার আন্দোলনে। মৃত্যুবার্ষিকীতে এই মহান বিজ্ঞানীর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা থাকল।
ঢাকা,শনিবার, ০৯ মে,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

সর্বশেষ আপডেট



» নতুন করে আরও ২৬১৭ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত,মৃত্যু ৪৪ জন

» অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ

» চলতি মাসের শেষ দিকে কোভিড হাসপাতালকে নন কোভিডে রূপান্তরিত করা হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

» ফারমার্স ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতি মামলায় এসকে সিনহাসহ ১১ জনের বিচার শুরু

» জেকেজির চেয়ারম্যান সাবরিনা-আরিফুলসহ জেকেজির ৮ জনের জামিন নামঞ্জুর

» কুড়িগ্রামে বাসচাপায় প্রাইভেটকারের চার যাত্রী নিহত

» কুমিল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব পরিচয় দেয়া প্রতারক আটক

» দেশের বাজারে ভরিতে সাড়ে ৩ হাজার টাকা কমানো হল সোনার দাম

» নতুন করে আরও ২৯৯৫ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত,মৃত্যু ৪২ জন

» আগামী ৩রা অক্টোবর বাফুফের বহুল কাক্ষিত নির্বাচন

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

 

 

সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com

আজ বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ, ২৯শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

আজকের এই দিনে আমাদের ছেড়ে যান এ দেশের একজন কীর্তিমান পরমাণুবিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান আন্দোলনের অগ্রনায়ক বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া। তাঁর প্রয়াণ ছিল দেশের বিজ্ঞানাঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।২০০৯ সালের ৯ই মে মারা যান দেশের বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া। মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী পীরগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর গ্রামে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।১৯৪২ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি রংপুরের পীরগঞ্জে জন্ম নেন ওয়াজেদ মিয়া। ‘সুধা মিয়া’ হিসেবে পরিচিত অসাধারণ মেধার অধিকারী এ বরেণ্য ব্যক্তি শৈশব থেকেই ছিলেন শিক্ষানুরাগী।
রংপুর জিলা স্কুল থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যা বিভাগে অনার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। ১৯৬২ সালে মাস্টার্স পরীক্ষায় অধিকার করেন প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান।১৯৭৫ সালে তিনি পশ্চিম জার্মানিতে পরমাণু শক্তি বিজ্ঞানে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
১৯৬৯ সালে তিনি ইটালিভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭৫-৮২ সালে তিনি ভারতের আণবিক শক্তি কমিশনের দিল্লির ল্যাবরেটরিতে গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি পুনরায় পরমাণু শক্তি কমিশনে যোগ দেন এবং ১৯৯৯ সালে এর চেয়ারম্যান হিসেবে অবসর নেন। তার গবেষণামূলক ও বিজ্ঞান বিষয়ক বহু প্রবন্ধ দেশি-বিদেশী সংবাদপত্র ও সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। তার উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা Fundamentals of Electromagnetics (1982), Fundamentals of Thermodynamics (1988), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ, বাংলাদেশের রাজনীতি ও সরকারের চালচিত্র। বিজ্ঞানে অবদানের জন্য বিক্রমপুর স্যার জগদীশচন্দ্র বসু সোসাইটি তাকে ‘স্যার জগদীশচন্দ্র বসু স্বর্ণপদক-৯৭’ দেয়।

বিজ্ঞান গবেষণা, বিজ্ঞান চর্চা ও বিজ্ঞান শিক্ষার উন্নয়ন ও প্রসারে তিনি সারা জীবন প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন। সুদীর্ঘ পেশাজীবনে নিজেকে প্রমাণ করে গেছেন একজন বিজ্ঞানী ও দেশপ্রেমিক হিসেবে। তাঁর প্রজ্ঞা, আদর্শ, নৈতিকতা, লক্ষ্য, সংগ্রাম আমাদের ও আমাদের নতুন প্রজন্মের আগামী দিনের পথচলার পাথেয় হয়ে থাকবে।বঙ্গবন্ধু পরিবারের এক দুঃসহ ও শোচনীয় সময়ে বঙ্গবন্ধুকন্যার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। এর মধ্য দিয়ে তাঁর দেশপ্রেমেরও পরিচয় পাওয়া যায়। ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর তিনি হয়ে ওঠেন গোটা পরিবারের কাণ্ডারি। সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত না হয়েও যে রাজনীতিতে যথেষ্ট অবদান রাখা যায়, তা প্রমাণ করে গেছেন ড. ওয়াজেদ মিয়া। শুধু তা-ই নয়, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, দর্শন, লক্ষ্য ও চেতনা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি তাঁর সহধর্মিণীকে সঁপে দিয়েছিলেন সোনার বাংলা গড়ার আন্দোলনে। মৃত্যুবার্ষিকীতে এই মহান বিজ্ঞানীর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা থাকল।
ঢাকা,শনিবার, ০৯ মে,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

© Copyright BY HBnews24.Com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com

Translate »