করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলাদেশে

নতুন আক্রান্ত মোট আক্রান্ত সুস্থ মৃত্যু
১৩০৮ ৩,৯৮,৮১৫ ৩,১৫,১০৭ ৫৮০৩

কথাসাহিত্যিক মকবুলা মনজুর নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন

কথাসাহিত্যিক মকবুলা মনজুর মারা গেছেন।শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় উত্তরায় নিজ বাসায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্নালিলাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।মকবুলা মনজুর দীর্থদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই মেয়ে ও দুই ছেলেসহ বহু স্বজন-অনুরাগী রেখে গেছেন।
মকবুলা মনজুর ১৯৩৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার মুগবেলাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মিজানুর রহমান ও মায়ের নাম মাহমুদা খাতুন। বাবা মিজানুর রহমান লেখালেখি করতেন। তারা সাত ভাই-বোন। তিন ভাই প্রাবন্ধিক ড. মোখলেসুর রহমান, চলচ্চিত্র পরিচালক ইবনে মিজান, প্রাবন্ধিক আজিজ মেহের এবং তিন বোন জোবেদা খাতুন, অধ্যাপিকা মোসলেমা খাতুন ও মুশফিকা আহমেদ। ভাই বোনেরাও লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। কিশোরী বয়সে তিনি নাটকে অভিনয় করতেন। বগুড়া থাকাকালীন তিনি বগুড়ার অ্যাডওয়ার্ড ঘূর্ণায়মান রঙ্গমঞ্চে অভিনয় করেছেন। এছাড়া যুক্ত ছিলেন পটুয়া কামরুল হাসান প্রতিষ্ঠিত মুকুল ফৌজের সঙ্গেও।১৯৫২ সালে তিনি টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক (এসএসসি) পাস করেন। বাংলাভাষা আন্দোলন চলাকালীন সেইসময়ে তিনি স্কুলের হোস্টেলে থাকতেন। স্কুলের গেট ভেঙ মিছিলে যোগ দেওয়ার পর ফিরে এলে তিনিসহ বাকি মেয়েদের স্কুলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ১৯৫৪ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন এবং ১৯৫৮ সালে ইডেন মহিলা কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। দীর্ঘদিন পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

তৎকালীন মুসলিম কমার্শিয়াল ব্যাংকে (বর্তমান রূপালী ব্যাংক) অফিসার হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল শিক্ষক হওয়া। তাই প্রায় অর্ধেক বেতনে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন হলিক্রস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে তিনি ইউনিভার্সিটি উইমেন্স কলেজ ও সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি প্রায় ২৫ বছর সাপ্তাহিক ‘বেগম’ পত্রিকার ফিচার সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া দৈনিক আজাদ পত্রিকার ফিচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।মকবুলা মনজুর রচিত উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে- কালের মন্দিরা, আর এক জীবন, অবসন্ন গান, আত্মজা ও আমরা, প্রেম এক সোনালী নদী, বাউল বাতাস, ছায়াপথে দেখা, সায়াহ্ন যূথিকা, নক্ষত্রের তলে।

সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার, জাতীয় আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার শ্রেষ্ঠগ্রন্থ পুরস্কার, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
ঢাকা,শুক্রবার,০৩ জুলাই,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

সর্বশেষ আপডেট



» নতুন করে আরও ১৪৩৬ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত,মৃত্যু ১৫ জন

» প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজার

» নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর ও হত্যার হুমকির ঘটনায় হাজী সেলিমের ছেলে র‌্যাব হেফাজতে

» বন্দরবাজার ফাঁড়ির সামনে ছেলে হত্যার বিচারের দাবিতে আমরণ অনশনে রায়হানের মা

» আশুলিয়ার কাইচাবাড়িতে মিনি ক্যাসিনোর সন্ধান,২১ জন আটক

» নতুন করে আরও ১৩০৮ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত,মৃত্যু ২৩ জন

» নারী নির্যাতনকারীদের জন্য আওয়ামী লীগের দরজা চিরদিনের মতো বন্ধ ঘোষণা

» সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ, তাদের দেশপ্রেম ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে কাজ করতে হবে-প্রধানমন্ত্রী

» পদ্মা সেতুতে বসানো হলো ৩৪তম স্প্যান। দৃশ্যমান হলো পুরো সেতুর ৫ হাজার ১শ মিটার

» ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

 

 

সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com




আজ সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ, ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কথাসাহিত্যিক মকবুলা মনজুর নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

কথাসাহিত্যিক মকবুলা মনজুর মারা গেছেন।শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় উত্তরায় নিজ বাসায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্নালিলাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।মকবুলা মনজুর দীর্থদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই মেয়ে ও দুই ছেলেসহ বহু স্বজন-অনুরাগী রেখে গেছেন।
মকবুলা মনজুর ১৯৩৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার মুগবেলাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মিজানুর রহমান ও মায়ের নাম মাহমুদা খাতুন। বাবা মিজানুর রহমান লেখালেখি করতেন। তারা সাত ভাই-বোন। তিন ভাই প্রাবন্ধিক ড. মোখলেসুর রহমান, চলচ্চিত্র পরিচালক ইবনে মিজান, প্রাবন্ধিক আজিজ মেহের এবং তিন বোন জোবেদা খাতুন, অধ্যাপিকা মোসলেমা খাতুন ও মুশফিকা আহমেদ। ভাই বোনেরাও লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। কিশোরী বয়সে তিনি নাটকে অভিনয় করতেন। বগুড়া থাকাকালীন তিনি বগুড়ার অ্যাডওয়ার্ড ঘূর্ণায়মান রঙ্গমঞ্চে অভিনয় করেছেন। এছাড়া যুক্ত ছিলেন পটুয়া কামরুল হাসান প্রতিষ্ঠিত মুকুল ফৌজের সঙ্গেও।১৯৫২ সালে তিনি টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক (এসএসসি) পাস করেন। বাংলাভাষা আন্দোলন চলাকালীন সেইসময়ে তিনি স্কুলের হোস্টেলে থাকতেন। স্কুলের গেট ভেঙ মিছিলে যোগ দেওয়ার পর ফিরে এলে তিনিসহ বাকি মেয়েদের স্কুলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ১৯৫৪ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন এবং ১৯৫৮ সালে ইডেন মহিলা কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। দীর্ঘদিন পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

তৎকালীন মুসলিম কমার্শিয়াল ব্যাংকে (বর্তমান রূপালী ব্যাংক) অফিসার হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল শিক্ষক হওয়া। তাই প্রায় অর্ধেক বেতনে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন হলিক্রস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে তিনি ইউনিভার্সিটি উইমেন্স কলেজ ও সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি প্রায় ২৫ বছর সাপ্তাহিক ‘বেগম’ পত্রিকার ফিচার সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া দৈনিক আজাদ পত্রিকার ফিচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।মকবুলা মনজুর রচিত উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে- কালের মন্দিরা, আর এক জীবন, অবসন্ন গান, আত্মজা ও আমরা, প্রেম এক সোনালী নদী, বাউল বাতাস, ছায়াপথে দেখা, সায়াহ্ন যূথিকা, নক্ষত্রের তলে।

সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার, জাতীয় আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার শ্রেষ্ঠগ্রন্থ পুরস্কার, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
ঢাকা,শুক্রবার,০৩ জুলাই,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

© Copyright BY HBnews24.Com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com

Translate »