করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলাদেশে

নতুন আক্রান্ত মোট আক্রান্ত সুস্থ মৃত্যু
১০৮৮৮ ১৬,৫৩,১৮২ ১৫,৫৪,৮৪৫ ২৮,১৮০

বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা রুখে দিতে নানা ষড়যন্ত্র করছে দেশবিরোধী ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরা

দেশে বিদেশে বসে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা রুখে দিতে নানা ষড়যন্ত্র করছে দেশবিরোধী ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরা। দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে যেন কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে সে বিষয়ে সকলকে সজাগ থাকার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বর্তমান সরকারের তৃতীয় বর্ষপূতি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়ক বেয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এটা অনেকেরই সহ্য হবে না বা হচ্ছে না। দেশ-বিদেশে বসে বাংলাদেশবিরোধী শক্তি, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি তাই নানা ষড়যন্ত্র করছে এই অগ্রযাত্রাকে রুখে দেওয়ার জন্য। ’

মিথ্যা ও কাল্পনিক তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মিথ্যা-বানোয়াট-কাল্পনিক তথ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। বিদেশে আমাদের উন্নয়ন সহযোগীদের ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছে। ’

ষড়যন্ত্রের বিষয়ে জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘কেউ যাতে মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেদিকে আমাদের সকলকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে কোনভাবেই ব্যাহত হতে দেওয়া যাবে না। জনগণই ক্ষমতার উৎস। আমরা জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করি। তাই জনগণের সঙ্গেই আমাদের অবস্থান। ’সরকার প্রধান বলেন, ‘বিগত ১৩ বছরে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে। দারিদ্র্য দূরীকরণ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, মাতৃমৃত্যু-শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষার হার বৃদ্ধিসহ নানা আর্থ-সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ আজ দক্ষিণ এশিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। এটা সম্ভব হয়েছে আমাদের উপর আস্থা রাখার ফলে। পর পর তিনবার রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ দিয়ে আপনারা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছেন। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে আমরা একটি কল্যাণকামী, উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি যাতে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশগুলোর কাতারে সামিল হতে পারে।

বর্তমান এবং আগামি দিনের সকল কার্যক্রমের লক্ষ্য হচ্ছে নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত বিনির্মাণ। তারুণ্যের শক্তিই পারবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এখনই সাবধান হতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। যারা টিকা নেননি তাদের দ্রুত টিকা নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। এখন পুরোদমে কোভিড-১৯ টিকাকরণের কাজ চলছে। চলতি মাস থেকে গণটিকা প্রদানের মাধ্যমে প্রতি মাসে ১ কোটি মানুষকে টিকার আওতায় আনার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

ভাষণে জনগণকে দেয়া সরকারের সব ওয়াদা বাস্তবায়ন হয়েছে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। ২০২২ সাল বাংলাদেশের জন্য অবকাঠামো উন্নয়নের বছর হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, জনগণের সরকার হিসেবে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বলেই মনে করি। গত ১৩ বছরে জনগণের জন্য কি কি করেছি তারাই তা মূল্যায়ন করবে। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি আমরা যেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম সেটি পালন করেছি।বিগত ১৩ বছরে বিদ্যুৎ, গ্যাস, যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা, প্রযুক্তি, খাদ্য উৎপাদন, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ কয়েকটি সেক্টরে সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সালে আমাদের সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির কথা আপনাদের মনে আছে। তখন সাকুল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল ৪২০০ মেগাওয়াট। বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াটে। ’

তিনি বলেন, ‘মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে শতভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমরা সে প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করেছি। ’

বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পায়রাতে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। রামপাল, পায়রা, বাঁশখালী, মহেষখালী এবং মাতারবাড়িতে আরও মোট ৭ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট শক্তিসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। ’

এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট আগামী বছরের এপ্রিল নাগাদ চালু হবে বলেও আশা করেন সরকারপ্রধান।

জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০৯ সালে জাতীয় গ্রিডে ১ হাজার ৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো, বর্তমানে যা ২ হাজার ৫২৫ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। গ্যাসের অব্যাহত চাহিদা মেটাতে ২০১৮ থেকে তরলীকৃত গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। ’

বঙ্গোপসাগরে নতুন গ্যাস ক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নববর্ষের শুরুতে আমাদের জন্য সুখবর হচ্ছে, বঙ্গোপসাগরে যে গ্যাস হাইড্রেটের সন্ধান পাওয়া গেছে তার পরিমাণ ১৭ থেকে ১০৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। ’

খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ং-সম্পূর্ণ জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘বর্তমানে দানাদার খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৫৫ লাখ মেট্রিক টন। বাংলাদেশ বিশ্বে ধান, সবজি ও পেঁয়াজ উৎপাদনে ৩র্থ স্থানে উন্নীত হয়েছে। মাছ-মাংস, ডিম, শাকসবজি উৎপাদনেও বাংলাদেশ স্বয়ং-সম্পূর্ণ। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থানে এবং ইলিশ উৎপাদনকারী ১১ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম। ’

আওয়ামী লীগ সরকার গ্রামের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অতীতের সরকারগুলোর আমলে আমাদের গ্রামগুলো বরাবরই উন্নয়ন ভাবনার বাইরে ছিল। আমরাই প্রথম গ্রামোন্নয়নকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করি। ’

গ্রামীন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কথা তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত পল্লী এলাকায় ৬৬ হাজার ৭৫৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন, ৩ লাখ ৯৪ হাজার ব্রিজ-কার্লভার্ট, ১ হাজার ৭৬৭টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, ১ হাজার ২৫টি সাইক্লোন সেন্টার এবং ৩২৬টি উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ’

মহাসড়ক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০০৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ৪৫৮ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক চতুর্থ বা তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীত করা হয়েছে। আরও ৮৮৭ কিলোমিটার মহাসড়ক চার এবং তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। ঢাকায় বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত ৪৬.৭৩ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ ২০২৩ সাল নাগাদ শেষ হবে। ’

রেলওয়েকে যুগপোযোগী এবং আধুনিক গণপরিবহন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্তমানে ১৩ হাজার ৩৭১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৭টি প্রকল্পের কাজ চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘২০০৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত ৪৫১ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ এবং ১ হাজার ১৮১ কিলোমিটার রেলপথ পুনর্বাসন করা হয়েছে। ৪২৮টি নতুন রেলসেতু নির্মাণ করা হয়েছে। যমুনা নদীর উপর ৪.৮ কিলোমটির দীর্ঘ বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ’

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ যুক্ত করার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের বিমানবহরে ১২টি নতুন অত্যাধুনিক বোয়িং এবং ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ সংযোজিত হয়েছে। সংযোজিত হয়েছে তিনটি ড্যাশ-৮-৪০০ উড়োজাহাজ। ’

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় ‘বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ শীর্ষক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং এর আওতায় ৬৪টি জেলায় প্রায় ৪ হাজার ৪৩৯ কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় খনন করা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং গুণগত মানোন্নয়নের ফলে মানুষের গড় আয়ু ২০১৯-২০ বছরে ৭২.৮ বছরে উন্নীত হয়েছে। ৫-বছর বয়সী শিশু মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ২৮ ও অনূর্ধ্ব ১ বছর বয়সী শিশু মৃত্যুর হার ১৫-তে হ্রাস পেয়েছে। মাতৃমৃত্যু হার কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি লাখে ১৬৫ জনে।
ঢাকা,শুক্রবার ০৭ জানুয়ারি,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

 

সর্বশেষ আপডেট



» রাজধানীর মগবাজার মোড়ে দুই বাসের রেষারেষিতে প্রাণ হারালো এক কিশোর

» ৪৩তম বিসিএসের প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ

» নতুন করে আরও ১০৮৮৮ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত, মৃত্যু ৪ জন

» নরসিংদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ছোট ভাই নিহত

» ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন পেয়েছেন অভিনেতা ও গায়ক তাহসান খান

» উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শাবিপ্রবিতে অনশনরত এক শিক্ষার্থী অসুস্থ

» করোনা নিয়ন্ত্রণে সামাজিক বা যেকোনো অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

» গাজীপুরে মহুয়া এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনসহ দুইটি বগি লাইনচ্যুত

» ওয়ারীতে ভাড়া নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক ব্যক্তিকে বাস থেকে ফেলে দিয়ে হত্যার অভিযোগ

» টেকনাফে পিকআপ ভ্যান ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ দুইজন নিহত

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

 

 

সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ শুক্রবার, ২১ জানুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ, ৭ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা রুখে দিতে নানা ষড়যন্ত্র করছে দেশবিরোধী ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরা




দেশে বিদেশে বসে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা রুখে দিতে নানা ষড়যন্ত্র করছে দেশবিরোধী ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরা। দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে যেন কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে সে বিষয়ে সকলকে সজাগ থাকার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বর্তমান সরকারের তৃতীয় বর্ষপূতি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়ক বেয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এটা অনেকেরই সহ্য হবে না বা হচ্ছে না। দেশ-বিদেশে বসে বাংলাদেশবিরোধী শক্তি, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি তাই নানা ষড়যন্ত্র করছে এই অগ্রযাত্রাকে রুখে দেওয়ার জন্য। ’

মিথ্যা ও কাল্পনিক তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মিথ্যা-বানোয়াট-কাল্পনিক তথ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। বিদেশে আমাদের উন্নয়ন সহযোগীদের ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছে। ’

ষড়যন্ত্রের বিষয়ে জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘কেউ যাতে মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেদিকে আমাদের সকলকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে কোনভাবেই ব্যাহত হতে দেওয়া যাবে না। জনগণই ক্ষমতার উৎস। আমরা জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করি। তাই জনগণের সঙ্গেই আমাদের অবস্থান। ’সরকার প্রধান বলেন, ‘বিগত ১৩ বছরে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে। দারিদ্র্য দূরীকরণ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, মাতৃমৃত্যু-শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষার হার বৃদ্ধিসহ নানা আর্থ-সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ আজ দক্ষিণ এশিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। এটা সম্ভব হয়েছে আমাদের উপর আস্থা রাখার ফলে। পর পর তিনবার রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ দিয়ে আপনারা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছেন। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে আমরা একটি কল্যাণকামী, উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি যাতে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশগুলোর কাতারে সামিল হতে পারে।

বর্তমান এবং আগামি দিনের সকল কার্যক্রমের লক্ষ্য হচ্ছে নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত বিনির্মাণ। তারুণ্যের শক্তিই পারবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এখনই সাবধান হতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। যারা টিকা নেননি তাদের দ্রুত টিকা নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। এখন পুরোদমে কোভিড-১৯ টিকাকরণের কাজ চলছে। চলতি মাস থেকে গণটিকা প্রদানের মাধ্যমে প্রতি মাসে ১ কোটি মানুষকে টিকার আওতায় আনার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

ভাষণে জনগণকে দেয়া সরকারের সব ওয়াদা বাস্তবায়ন হয়েছে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। ২০২২ সাল বাংলাদেশের জন্য অবকাঠামো উন্নয়নের বছর হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, জনগণের সরকার হিসেবে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বলেই মনে করি। গত ১৩ বছরে জনগণের জন্য কি কি করেছি তারাই তা মূল্যায়ন করবে। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি আমরা যেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম সেটি পালন করেছি।বিগত ১৩ বছরে বিদ্যুৎ, গ্যাস, যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা, প্রযুক্তি, খাদ্য উৎপাদন, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ কয়েকটি সেক্টরে সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সালে আমাদের সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির কথা আপনাদের মনে আছে। তখন সাকুল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল ৪২০০ মেগাওয়াট। বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াটে। ’

তিনি বলেন, ‘মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে শতভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমরা সে প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করেছি। ’

বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পায়রাতে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। রামপাল, পায়রা, বাঁশখালী, মহেষখালী এবং মাতারবাড়িতে আরও মোট ৭ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট শক্তিসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। ’

এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট আগামী বছরের এপ্রিল নাগাদ চালু হবে বলেও আশা করেন সরকারপ্রধান।

জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০৯ সালে জাতীয় গ্রিডে ১ হাজার ৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো, বর্তমানে যা ২ হাজার ৫২৫ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। গ্যাসের অব্যাহত চাহিদা মেটাতে ২০১৮ থেকে তরলীকৃত গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। ’

বঙ্গোপসাগরে নতুন গ্যাস ক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নববর্ষের শুরুতে আমাদের জন্য সুখবর হচ্ছে, বঙ্গোপসাগরে যে গ্যাস হাইড্রেটের সন্ধান পাওয়া গেছে তার পরিমাণ ১৭ থেকে ১০৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। ’

খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ং-সম্পূর্ণ জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘বর্তমানে দানাদার খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৫৫ লাখ মেট্রিক টন। বাংলাদেশ বিশ্বে ধান, সবজি ও পেঁয়াজ উৎপাদনে ৩র্থ স্থানে উন্নীত হয়েছে। মাছ-মাংস, ডিম, শাকসবজি উৎপাদনেও বাংলাদেশ স্বয়ং-সম্পূর্ণ। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থানে এবং ইলিশ উৎপাদনকারী ১১ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম। ’

আওয়ামী লীগ সরকার গ্রামের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অতীতের সরকারগুলোর আমলে আমাদের গ্রামগুলো বরাবরই উন্নয়ন ভাবনার বাইরে ছিল। আমরাই প্রথম গ্রামোন্নয়নকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করি। ’

গ্রামীন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কথা তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত পল্লী এলাকায় ৬৬ হাজার ৭৫৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন, ৩ লাখ ৯৪ হাজার ব্রিজ-কার্লভার্ট, ১ হাজার ৭৬৭টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, ১ হাজার ২৫টি সাইক্লোন সেন্টার এবং ৩২৬টি উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ’

মহাসড়ক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০০৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ৪৫৮ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক চতুর্থ বা তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীত করা হয়েছে। আরও ৮৮৭ কিলোমিটার মহাসড়ক চার এবং তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। ঢাকায় বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত ৪৬.৭৩ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ ২০২৩ সাল নাগাদ শেষ হবে। ’

রেলওয়েকে যুগপোযোগী এবং আধুনিক গণপরিবহন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্তমানে ১৩ হাজার ৩৭১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৭টি প্রকল্পের কাজ চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘২০০৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত ৪৫১ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ এবং ১ হাজার ১৮১ কিলোমিটার রেলপথ পুনর্বাসন করা হয়েছে। ৪২৮টি নতুন রেলসেতু নির্মাণ করা হয়েছে। যমুনা নদীর উপর ৪.৮ কিলোমটির দীর্ঘ বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ’

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ যুক্ত করার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের বিমানবহরে ১২টি নতুন অত্যাধুনিক বোয়িং এবং ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ সংযোজিত হয়েছে। সংযোজিত হয়েছে তিনটি ড্যাশ-৮-৪০০ উড়োজাহাজ। ’

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় ‘বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ শীর্ষক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং এর আওতায় ৬৪টি জেলায় প্রায় ৪ হাজার ৪৩৯ কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় খনন করা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং গুণগত মানোন্নয়নের ফলে মানুষের গড় আয়ু ২০১৯-২০ বছরে ৭২.৮ বছরে উন্নীত হয়েছে। ৫-বছর বয়সী শিশু মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ২৮ ও অনূর্ধ্ব ১ বছর বয়সী শিশু মৃত্যুর হার ১৫-তে হ্রাস পেয়েছে। মাতৃমৃত্যু হার কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি লাখে ১৬৫ জনে।
ঢাকা,শুক্রবার ০৭ জানুয়ারি,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

© Hbnews24 || Phone: +8801714043198, email: hbnews24@gmail.com