আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি

ঢাকা: এসেছে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। বাঙালি চেতনা, গৌরব আর সম্মুজ্জ্বল ইতিহাসের এক অপর নাম ফেব্রুয়ারি। ফেব্রুয়ারি এলেই হৃদয় কোণে বেঁজে ওঠে আঁ আঁ আঁ আঁ…….. আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি? ফেব্রুয়ারি মাসেই প্রতিবাদ, ফেব্রুয়ারি মানেই অধিকার আদায়, ফেব্রুয়ারি মানেই বাঙালির স্বাধীনতা লাভের অনুপ্রেরণা। সময় ১৯৪৭ তৎকালিন পাকিস্তানের গর্ভনর জেনালের মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকার এক জনসভায় ঘোষণা করেন উর্দু একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। সে দিন সেখানে উপস্থিত ছাত্র জনতা এক স্বরে এ ঘোষনার প্রতিবাদ জানিয়ে দিয়েছিলেন। মায়ের ভাষায় কথা বলার অভিকার হননের এহেন নেক্কার জনক ঘোষণায় কেঁদে ওঠেছিল বাঙালির হৃদয়, জেগে ওঠেছিল প্রতিবাদের বারুদ। ১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভাষা-বিক্ষোভ শুরু হয় পূর্ববঙ্গের রাজধানী ঢাকায়। ১৯৪৮ সালের মার্চে এ নিয়ে সীমিত পর্যায়ে আন্দোলন হয় ধীরে ধীরে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর রূপ ধারণ করে। সময় ১৯৫২-এর ২১ ফ্রেব্রুয়ারি সকল প্রকার মিছিল, সমাবেশ ও র‌্যালির উপর ১৪৪ ধারা জারি করে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠি।ঐদিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাজপথে বেরিয়ে এলে পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালায়। এতে আবুল বরকত, আবদুল জব্বার, আবদুস সালামসহ কয়েকজন ছাত্রযুবা হতাহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ ঢাকাবাসী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেলে সমবেত হয়। নানা নির্যাতন সত্ত্বেও ছাত্রদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানাতে পরের দিন ২২ ফেব্রুয়ারি পুণরায় রাজপথে নেমে আসে। তারা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে শহীদদের জন্য অনুষ্ঠিত গায়েবি জানাজায় অংশগ্রহণ করে। ভাষাশহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি এক রাতের মধ্যে মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে গড়ে ওঠে একটি স্মৃতিস্তম্ভ, যা সরকার ২৬ ফেব্রুয়ারি গুঁড়িয়ে দেয়। একুশে ফেব্রুয়ারির এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন আরও বেগবান হয়। ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে ৯ মে অণুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি যে চেতনায় উদ্দীপিত হয়ে বাঙালিরা রক্ত দিয়ে মাতৃভাষাকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিল, আজ তা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
তবে অপ্রিয় হলেও সত্য পাশ্চাত্যের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে আজ বাঙলা ভাষার মর্যাদা ভুলন্ঠিত হচ্ছে। বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞান, গনিত ও ইংরেজীর উপর প্রশ্ন করা হচ্ছে। বাঙলার স্থান কোথায়? যে দেশের বর্ণ শহীদদের রক্তে রঞ্জিত? বাঙলা ভাষার সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে সম্যক অবগত নন শিক্ষার্থীরা। অধিকতর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে অন্যান্য বিষয়গুলোকে। আসুন ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে আমাদের বর্তমান প্রজন্মকে এর সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে অবগত করি। ছালাম, রফিক, জব্বার, শফিউলের রক্ত বৃথা যেতে পারে না। ওদের রক্তের দাগ শুকিয়ে বিলিন হলেও স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জন বর্ণের প্রতিটি অক্ষরের পরতে পরতে তাদের রক্তের ঘ্রাণ এখনো বহমান। বহমান থাকবে পৃথিবী তার অস্তিত্ব ধরে রাখবে যতদিন। সবাইকে এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে জানাই একুশিয় রক্তিম শুভেচ্ছা………

কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
(সম্পাদক- এইচ বি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম।)
নির্বাহী সম্পাদক,
আফতাব খন্দকার (রনি)
এইচ বি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম।
ঢাকা, ফেব্রুয়ারি, ২১ বুধবার, এইচবি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

সর্বশেষ আপডেট



» নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চোখের চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি

» ট্রেনের আগাম টিকেট বিক্রির শেষ দিন আজ

» আদালত স্থানান্তর চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার রিট, কাল শুনানি : ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

» গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে এক কাপড় ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

» কলাপাড়ায় যাত্রীবাহি বাস উল্টে খাদে

» ‘ক্ষমতা আমার কাছে ভোগের বস্তু নয়। ক্ষমতা আমার কাছে মানুষের সেবা করার একটা সুযোগ-প্রধানমন্ত্রী

» বান্দরবানে অপহৃত আওয়ামী লীগ নেতার র্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

» আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২০তম জন্মবার্ষিকী

» দ্বিতীয় মেঘনা সেতু ও দ্বিতীয় গোমতী সেতুর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

» ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রাকচাপায় নারীসহ তিনজন নিহত

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

 

 

সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি

ঢাকা: এসেছে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। বাঙালি চেতনা, গৌরব আর সম্মুজ্জ্বল ইতিহাসের এক অপর নাম ফেব্রুয়ারি। ফেব্রুয়ারি এলেই হৃদয় কোণে বেঁজে ওঠে আঁ আঁ আঁ আঁ…….. আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি? ফেব্রুয়ারি মাসেই প্রতিবাদ, ফেব্রুয়ারি মানেই অধিকার আদায়, ফেব্রুয়ারি মানেই বাঙালির স্বাধীনতা লাভের অনুপ্রেরণা। সময় ১৯৪৭ তৎকালিন পাকিস্তানের গর্ভনর জেনালের মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকার এক জনসভায় ঘোষণা করেন উর্দু একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। সে দিন সেখানে উপস্থিত ছাত্র জনতা এক স্বরে এ ঘোষনার প্রতিবাদ জানিয়ে দিয়েছিলেন। মায়ের ভাষায় কথা বলার অভিকার হননের এহেন নেক্কার জনক ঘোষণায় কেঁদে ওঠেছিল বাঙালির হৃদয়, জেগে ওঠেছিল প্রতিবাদের বারুদ। ১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভাষা-বিক্ষোভ শুরু হয় পূর্ববঙ্গের রাজধানী ঢাকায়। ১৯৪৮ সালের মার্চে এ নিয়ে সীমিত পর্যায়ে আন্দোলন হয় ধীরে ধীরে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর রূপ ধারণ করে। সময় ১৯৫২-এর ২১ ফ্রেব্রুয়ারি সকল প্রকার মিছিল, সমাবেশ ও র‌্যালির উপর ১৪৪ ধারা জারি করে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠি।ঐদিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাজপথে বেরিয়ে এলে পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালায়। এতে আবুল বরকত, আবদুল জব্বার, আবদুস সালামসহ কয়েকজন ছাত্রযুবা হতাহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ ঢাকাবাসী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেলে সমবেত হয়। নানা নির্যাতন সত্ত্বেও ছাত্রদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানাতে পরের দিন ২২ ফেব্রুয়ারি পুণরায় রাজপথে নেমে আসে। তারা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে শহীদদের জন্য অনুষ্ঠিত গায়েবি জানাজায় অংশগ্রহণ করে। ভাষাশহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি এক রাতের মধ্যে মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে গড়ে ওঠে একটি স্মৃতিস্তম্ভ, যা সরকার ২৬ ফেব্রুয়ারি গুঁড়িয়ে দেয়। একুশে ফেব্রুয়ারির এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন আরও বেগবান হয়। ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে ৯ মে অণুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি যে চেতনায় উদ্দীপিত হয়ে বাঙালিরা রক্ত দিয়ে মাতৃভাষাকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিল, আজ তা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
তবে অপ্রিয় হলেও সত্য পাশ্চাত্যের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে আজ বাঙলা ভাষার মর্যাদা ভুলন্ঠিত হচ্ছে। বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞান, গনিত ও ইংরেজীর উপর প্রশ্ন করা হচ্ছে। বাঙলার স্থান কোথায়? যে দেশের বর্ণ শহীদদের রক্তে রঞ্জিত? বাঙলা ভাষার সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে সম্যক অবগত নন শিক্ষার্থীরা। অধিকতর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে অন্যান্য বিষয়গুলোকে। আসুন ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে আমাদের বর্তমান প্রজন্মকে এর সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে অবগত করি। ছালাম, রফিক, জব্বার, শফিউলের রক্ত বৃথা যেতে পারে না। ওদের রক্তের দাগ শুকিয়ে বিলিন হলেও স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জন বর্ণের প্রতিটি অক্ষরের পরতে পরতে তাদের রক্তের ঘ্রাণ এখনো বহমান। বহমান থাকবে পৃথিবী তার অস্তিত্ব ধরে রাখবে যতদিন। সবাইকে এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে জানাই একুশিয় রক্তিম শুভেচ্ছা………

কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
(সম্পাদক- এইচ বি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম।)
নির্বাহী সম্পাদক,
আফতাব খন্দকার (রনি)
এইচ বি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম।
ঢাকা, ফেব্রুয়ারি, ২১ বুধবার, এইচবি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

© Copyright BY HBnews24.Com

Design & Developed BY PopularITLimited