করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলাদেশে

নতুন আক্রান্ত মোট আক্রান্ত সুস্থ মৃত্যু
১৬৯৬ ৩,৯৪,৮২৭ ৩,১০,৫৩২ ৫৭৪৭

কলাপাড়ায় কৃষকরা গোলের রস সংগ্রহে ব্যস্ত

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শতাধিক কৃষক প্রতিদিন সূর্য ওঠার সাথে সাথে প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে ঘর থেকে বেড়িয়ে পড়ে গোলের রস সংগ্রহ করতে। এর পর বাড়ির উঠানে বসে শুরু হয় রস দিয়ে গুড় তৈরী কাজ। আর সেই গুর স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছে ওই সব কৃষকরা। কিন্তু জলবায়ুর প্রভাব জনিত কারন ও প্রয়োজনীয়
রক্ষনাবেক্ষন আর চাষাবাদের অভাবে ঐতিহ্যবাহী এ গোলগাছ এখন ক্রমশই ধ্বংস হতে বসেছে। এক সময় এ উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন খাল-বিল ও নদীর তীরে প্রচুর
গোলের বাগান দেখা যেতো। গাছের নাম গোল হলেও আকৃতি অনেকটা নারিকেল পাতার মতো। এর উচ্চতা প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুটের বেশী। সাধারনত লবণাক্ত পলিযুক্ত মাটিতে ভাল জন্মায় বলে স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন।
সোমবার দুপুরে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের গিয়ে দেখা দেছে প্রায় ৭০ বছরের উর্ধে বৃদ্ধা শিখা রানী হাওলাদার তাফালে কুটা দিয়ে আগুন
জ¦ালিয়ে ঢোঙ্গায় রস দিয়ে গুড় তৈরী করছে। এসময় তিনি বলেন, বাবারে বিয়ে পর থেকেই প্রতি বছর এই সময় রস জ¦াল দিতে হইছে। আগে বেশি ছিলো। এখন
কমে গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের সর্ববৃহৎ বনাঞ্চল সুন্দরবনসহ উপকূলীয় দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে গোলগাছ রয়েছে। তবে বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া, কুয়াকাটা, রাঙ্গাবালি, গলাচিপা, দশমিনা, বাউফল,বরগুনার আমতলী, তালতলী, পাথরঘাটা, ভোলা ও খুলনা জেলার বিস্তীর্ন এলাকাসহ চরাঞ্চলের গোলগাছ একধিক বাগন রয়েছে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, এই জনপদের সর্বত্র রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন সহ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ঘরের ছাউনী হিসাবে গোলপাতা ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া শীত মৌসুমে গোলবাগানের মালিকরা এর রস দিয়ে গুড় উৎপাদন করে বাড়তি অর্থ উপার্জন করে থাকে। রস দিয়ে সুস্বাদু পায়েস তৈরি করা হয়। গোলের গুড় কৃমিনাশক বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।

সংশ্লিষ্ট কৃষকদের সাথে আলাপ করলে তারা জনান, উপকূলীয় এলাকায় যে সকল গোলগাছের বাগান রয়েছে তা প্রকৃতির অশেষ দান। বনবিভাগের এক শ্রেনীর অসাধু বনকর্মিদের সহযোগিতায় বনদস্যুরা অবাধে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে এ গোল বাগান গুলো ধ্বংস হতে বসেছে। গোলগাছ চাষী নিঠুর হাওলাদার জানান, গোলগাছ চাষাবাদ অত্যন্ত লাভজনক,সহজসাধ্য এবং ব্যয়ও খুব কম। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োজন হয়না। এতে কোন পরিচর্যা করতে হয়না।একই এলাকার অমল ঘরামি জানান, শুধু মাত্র গোলগাছের বীজ (গাবনা) সংরক্ষন করে তা নিচু জমিতে পুতে রাখলেই চারা গজায়। এর এক একটি ছড়ায় একশ থেকে দেড়শ টি বীজ থাকে। এতে ব্যয়ের চেয়ে আয় অনেক গুন বেশী। তবে এ বছর ছড়া থেকে রস অনেক কম বের হচ্ছে।

বনবিভাগের মহিপুর রেঞ্চ কর্মকর্তা এস এম শামসুর দোহা জানান, পরিক্ষামূলক ভাবে বেশ কয়েকটি স্থানে গোলগাছের বিচী রোপন করা হয়েছে। এতে আমরা ব্যাপক সফলতা পেয়েছি। এ গাছ গুলো উপকূলীয় এলাকার প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় বিরাট সহায়ক হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

উত্তম কুমার হাত্তলাদার,কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি
পটুয়াখালী,সোমবার, ২৩ জানুয়ারি, এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

সর্বশেষ আপডেট



» ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

» নতুন করে আরও ১০৯৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত,মৃত্যু ১৯ জন

» আগুনমুখা নদীতে স্পিডবোট ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ পাঁচ জনের মরদেহ উদ্ধার

» সিলেটে রায়হান হত্যা: কনস্টেবল হারুন গ্রেফতার

» বায়তুল মোকাররমে ও সুপ্রিম কোর্টে জানাজা শেষে বনানীর পথে রফিক-উল হকের মরদেহ

» প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আর নেই

» নতুন করে আরও ১৫৮৬ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত,মৃত্যু ১৪ জন

» রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মিয়ানমারে ফেরত নেয়া হবে বলে সম্প্রতি মিয়ানমার আবারও চীনকে আশ্বস্ত করেছে

» দেশে বৈরী আবহাওয়া থাকায় বরিশালের অভ্যন্তরীণ রুটে সব ধরনের লঞ্চ চলাচল বন্ধ

» গভীর নিম্নচাপের কারণে দেশের সমুদ্র বন্দরগুলোকে স্থানীয় ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

 

 

সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com




আজ রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ, ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কলাপাড়ায় কৃষকরা গোলের রস সংগ্রহে ব্যস্ত

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শতাধিক কৃষক প্রতিদিন সূর্য ওঠার সাথে সাথে প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে ঘর থেকে বেড়িয়ে পড়ে গোলের রস সংগ্রহ করতে। এর পর বাড়ির উঠানে বসে শুরু হয় রস দিয়ে গুড় তৈরী কাজ। আর সেই গুর স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছে ওই সব কৃষকরা। কিন্তু জলবায়ুর প্রভাব জনিত কারন ও প্রয়োজনীয়
রক্ষনাবেক্ষন আর চাষাবাদের অভাবে ঐতিহ্যবাহী এ গোলগাছ এখন ক্রমশই ধ্বংস হতে বসেছে। এক সময় এ উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন খাল-বিল ও নদীর তীরে প্রচুর
গোলের বাগান দেখা যেতো। গাছের নাম গোল হলেও আকৃতি অনেকটা নারিকেল পাতার মতো। এর উচ্চতা প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুটের বেশী। সাধারনত লবণাক্ত পলিযুক্ত মাটিতে ভাল জন্মায় বলে স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন।
সোমবার দুপুরে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের গিয়ে দেখা দেছে প্রায় ৭০ বছরের উর্ধে বৃদ্ধা শিখা রানী হাওলাদার তাফালে কুটা দিয়ে আগুন
জ¦ালিয়ে ঢোঙ্গায় রস দিয়ে গুড় তৈরী করছে। এসময় তিনি বলেন, বাবারে বিয়ে পর থেকেই প্রতি বছর এই সময় রস জ¦াল দিতে হইছে। আগে বেশি ছিলো। এখন
কমে গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের সর্ববৃহৎ বনাঞ্চল সুন্দরবনসহ উপকূলীয় দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে গোলগাছ রয়েছে। তবে বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া, কুয়াকাটা, রাঙ্গাবালি, গলাচিপা, দশমিনা, বাউফল,বরগুনার আমতলী, তালতলী, পাথরঘাটা, ভোলা ও খুলনা জেলার বিস্তীর্ন এলাকাসহ চরাঞ্চলের গোলগাছ একধিক বাগন রয়েছে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, এই জনপদের সর্বত্র রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন সহ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ঘরের ছাউনী হিসাবে গোলপাতা ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া শীত মৌসুমে গোলবাগানের মালিকরা এর রস দিয়ে গুড় উৎপাদন করে বাড়তি অর্থ উপার্জন করে থাকে। রস দিয়ে সুস্বাদু পায়েস তৈরি করা হয়। গোলের গুড় কৃমিনাশক বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।

সংশ্লিষ্ট কৃষকদের সাথে আলাপ করলে তারা জনান, উপকূলীয় এলাকায় যে সকল গোলগাছের বাগান রয়েছে তা প্রকৃতির অশেষ দান। বনবিভাগের এক শ্রেনীর অসাধু বনকর্মিদের সহযোগিতায় বনদস্যুরা অবাধে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে এ গোল বাগান গুলো ধ্বংস হতে বসেছে। গোলগাছ চাষী নিঠুর হাওলাদার জানান, গোলগাছ চাষাবাদ অত্যন্ত লাভজনক,সহজসাধ্য এবং ব্যয়ও খুব কম। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োজন হয়না। এতে কোন পরিচর্যা করতে হয়না।একই এলাকার অমল ঘরামি জানান, শুধু মাত্র গোলগাছের বীজ (গাবনা) সংরক্ষন করে তা নিচু জমিতে পুতে রাখলেই চারা গজায়। এর এক একটি ছড়ায় একশ থেকে দেড়শ টি বীজ থাকে। এতে ব্যয়ের চেয়ে আয় অনেক গুন বেশী। তবে এ বছর ছড়া থেকে রস অনেক কম বের হচ্ছে।

বনবিভাগের মহিপুর রেঞ্চ কর্মকর্তা এস এম শামসুর দোহা জানান, পরিক্ষামূলক ভাবে বেশ কয়েকটি স্থানে গোলগাছের বিচী রোপন করা হয়েছে। এতে আমরা ব্যাপক সফলতা পেয়েছি। এ গাছ গুলো উপকূলীয় এলাকার প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় বিরাট সহায়ক হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

উত্তম কুমার হাত্তলাদার,কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি
পটুয়াখালী,সোমবার, ২৩ জানুয়ারি, এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

© Copyright BY HBnews24.Com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com

Translate »