কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি।

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি। 77

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি।পটুয়াখালীর কলাপাড়ার গ্রামের পর গ্রাম ঘুরেও শোনা যায় না ঢেঁকির ঢাঁকুর ঢুঁকুর শব্দ। একসময় গ্রামের প্রতিটি ঘরে ছিল অবাধ ব্যবহার। ডিজেল আর বিদ্যুৎ চালিত যন্ত্রের কারনে হারিয়ে যেতে বসেছে সেই চিরচেনা ঢেঁকি। এখন আর পাওয়া যায়না বাঙ্গালীর প্রধান খাদ্য ঢেঁকিছাটা চালের সু-স্বাদু ভাত। শোনা যায়না গ্রাম্য নববধুদের হয়লা গান। এক সময় গ্রামে গ্রামে ঢেঁকিছাটা চালের বাহারী পিঠা-পায়েস সহ চিড়া-মুড়ি খাওয়ার ধুম পড়ে যেত। এখন যেন সবকিছুই অতীত।
জানা গেছে, নতুন ধান বাড়িতে তোলার সাথে সাথে শুরু হতো ছোট-বড় সব বয়সের মানুষের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ। গ্রামের প্রতিটি ঘর এক সময় ঢেঁকির শব্দে মুখরিত থাকত। আর মনে হত যেন ঢেঁকি চালানোর প্রতিযোগীতা চলছে। পালাক্রমে দু’জন করে গ্রাম্য বধূ দিন রাত ঢেঁকি চালাতেন। বিরামহীনভাবে ঢেঁকির মাধ্যমে ধান থেকে চাল বানানোর মহাউৎসবে মেতে উঠতো গ্রামের নারীরা। তাদের মুখে শোনা যেত পাড়া মাতানো গান। গৃহবধূরা কায়িক পরিশ্রমকে ভুলে যেত ঢেঁকি ছাটা নতুন চালের গন্ধে। গৃহবধূ মমতাজ বেগম বলেন, একসময় গ্রামের অসহায় মহিলাদের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল এ ঢেঁকি। ধানের সময় গ্রামের বিত্তবানদের বাড়িবাড়ি গিয়ে ওইসব মহিলারা ঢেঁকির সাহায্যে ধান থেকে চাল বানিয়ে অর্থ উপার্জন করতো। ঢেঁকি বিলীন হওয়ায় তারাও অসহায় হয়ে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে তাদের আয়ের পথ। আরেক পঞ্চাশর্ধো বিধবা নারী মাজেদা বেগম জানান, আগে গ্রামের সবাই ঢেঁকি দিয়ে ধান ভাঙ্গাতো। সেই সময় ঢেঁকি চালিয়ে সাংসার চালাতাম। এখন সবাই যন্ত্র চালিত মেশিনে ধান ভাঙ্গে। ফলে আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে গেছে। কৃষক মনিন্দ্র চন্দ্র কীর্তনিয়া বলেন, একসময় ধান ভাঙ্গাতে ঢেঁিকর কোন বিকল্প ছিলনা। এখন গ্রামের পর গ্রাম ঘুরেও একটি ঢেঁিক পাওয়া যাবেনা। আধুনিক প্রযুক্তি ও যুগের কবলে পড়ে হারিয়ে গেছে সেই ঢেঁকি।
বিজ্ঞ মহল মনে করেন, যেসকল মহিলারা ঢেঁকি চালিয়ে সংসার চালাতো সেইসব বেকার মহিলাদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টির লক্ষ্যে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করলে তারা দেশ গড়ায় দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড কনসার্ন’র উপজেলা সমন্ময়কারী জেমস রাজিব বিশ্বাস বলেন,সময় এবং যুগ পরিবর্তন হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির আবির্ভাবের ফলে এখন ঢেঁকির ব্যবহার হারিয়ে গেছে। ঢেঁকি চালনাকারী যেসব মহিলারা বেকার হয়েছিল তারা এখন বিভিন্ন রাইচমিলে কাজ করছেন।
উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি,
পটুয়াখালী,বুধবার,০৯ জানুয়ারি,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments
Free Download WordPress Themes
Download WordPress Themes Free
Free Download WordPress Themes
Download Best WordPress Themes Free Download
download udemy paid course for free

সর্বশেষ আপডেট



» রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ছুরিকাঘাত করে এক মুদি দোকানিকে হত্যা

» টুকু এবং বেগম সেলিমা রহমানকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে

» পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বাংলাদেশি ও চীনা শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ

» রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস

» রাজধানীর কল্যাণপুরে রাজিয়া পেট্রল পাম্পে আগুন,নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস সার্ভিসের ১০টি ইউনিট

» আফগানিস্তানের বিপক্ষে টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড

» মানহানির দুই মামলায় খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট

» পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের শেষ ধাপে ২০ উপজেলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত

» বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ, সাকিব আল হাসানের সেঞ্চুরি

» টনটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সাত উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

 

 

সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি।

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি। 77

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি।পটুয়াখালীর কলাপাড়ার গ্রামের পর গ্রাম ঘুরেও শোনা যায় না ঢেঁকির ঢাঁকুর ঢুঁকুর শব্দ। একসময় গ্রামের প্রতিটি ঘরে ছিল অবাধ ব্যবহার। ডিজেল আর বিদ্যুৎ চালিত যন্ত্রের কারনে হারিয়ে যেতে বসেছে সেই চিরচেনা ঢেঁকি। এখন আর পাওয়া যায়না বাঙ্গালীর প্রধান খাদ্য ঢেঁকিছাটা চালের সু-স্বাদু ভাত। শোনা যায়না গ্রাম্য নববধুদের হয়লা গান। এক সময় গ্রামে গ্রামে ঢেঁকিছাটা চালের বাহারী পিঠা-পায়েস সহ চিড়া-মুড়ি খাওয়ার ধুম পড়ে যেত। এখন যেন সবকিছুই অতীত।
জানা গেছে, নতুন ধান বাড়িতে তোলার সাথে সাথে শুরু হতো ছোট-বড় সব বয়সের মানুষের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ। গ্রামের প্রতিটি ঘর এক সময় ঢেঁকির শব্দে মুখরিত থাকত। আর মনে হত যেন ঢেঁকি চালানোর প্রতিযোগীতা চলছে। পালাক্রমে দু’জন করে গ্রাম্য বধূ দিন রাত ঢেঁকি চালাতেন। বিরামহীনভাবে ঢেঁকির মাধ্যমে ধান থেকে চাল বানানোর মহাউৎসবে মেতে উঠতো গ্রামের নারীরা। তাদের মুখে শোনা যেত পাড়া মাতানো গান। গৃহবধূরা কায়িক পরিশ্রমকে ভুলে যেত ঢেঁকি ছাটা নতুন চালের গন্ধে। গৃহবধূ মমতাজ বেগম বলেন, একসময় গ্রামের অসহায় মহিলাদের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল এ ঢেঁকি। ধানের সময় গ্রামের বিত্তবানদের বাড়িবাড়ি গিয়ে ওইসব মহিলারা ঢেঁকির সাহায্যে ধান থেকে চাল বানিয়ে অর্থ উপার্জন করতো। ঢেঁকি বিলীন হওয়ায় তারাও অসহায় হয়ে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে তাদের আয়ের পথ। আরেক পঞ্চাশর্ধো বিধবা নারী মাজেদা বেগম জানান, আগে গ্রামের সবাই ঢেঁকি দিয়ে ধান ভাঙ্গাতো। সেই সময় ঢেঁকি চালিয়ে সাংসার চালাতাম। এখন সবাই যন্ত্র চালিত মেশিনে ধান ভাঙ্গে। ফলে আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে গেছে। কৃষক মনিন্দ্র চন্দ্র কীর্তনিয়া বলেন, একসময় ধান ভাঙ্গাতে ঢেঁিকর কোন বিকল্প ছিলনা। এখন গ্রামের পর গ্রাম ঘুরেও একটি ঢেঁিক পাওয়া যাবেনা। আধুনিক প্রযুক্তি ও যুগের কবলে পড়ে হারিয়ে গেছে সেই ঢেঁকি।
বিজ্ঞ মহল মনে করেন, যেসকল মহিলারা ঢেঁকি চালিয়ে সংসার চালাতো সেইসব বেকার মহিলাদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টির লক্ষ্যে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করলে তারা দেশ গড়ায় দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড কনসার্ন’র উপজেলা সমন্ময়কারী জেমস রাজিব বিশ্বাস বলেন,সময় এবং যুগ পরিবর্তন হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির আবির্ভাবের ফলে এখন ঢেঁকির ব্যবহার হারিয়ে গেছে। ঢেঁকি চালনাকারী যেসব মহিলারা বেকার হয়েছিল তারা এখন বিভিন্ন রাইচমিলে কাজ করছেন।
উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি,
পটুয়াখালী,বুধবার,০৯ জানুয়ারি,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

© Copyright BY HBnews24.Com

Design & Developed BY PopularITLimited