খ্যাতিমান নাট্যকার অধ্যাপক মমতাজউদ্দীন আহমেদ আর নেই

Spread the love

খ্যাতিমান নাট্যকার অধ্যাপক মমতাজউদ্দীন আহমেদ আর নেই। রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (২ জুন) বিকেল ৩টা ৪৮ মিনিটে তিনি মারা যান। তাঁর স্বজন শাহরিয়ার প্রিন্স বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।মমতাজউদদীন মৃত্যুবরণ করার পর তার বড় ছেলে ডা. তিতাস মাহমুদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, হাসপাতাল থেকে এই কিংবদন্তির মরদেহ গুলশানের আজাদ মসজিদে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে তাকে গোসল করানো হবে। এরপর বাদ এশা তার মরদেহ রূপনগরের বাসার পাশে মদিনা মসজিদে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে তার প্রথম নামাজে জানাজা সম্পন্ন হবে।
এরপর সোমবার (৩ জুন) সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে মরহুমের দ্বিতীয় নামাজে জানাজা সম্পন্ন হবে। সেখান থেকে তাকে চাঁপাইনবাগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার হাবিবপুর থানার গ্রামে নিয়ে গিয়ে বাবার কবরের পাশে চিরশায়িত করা হবে। তার শেষ ইচ্ছে ছিল, বাবার কবরের পাশেই যেন দাফন করা হয়।ভাষাসৈনিক মমতাজউদদীন আহমদ স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের পথিকৃত। এক অঙ্কের নাটক লেখায় বিশেষ পারদর্শিতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ১৯৭৬ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও ১৯৯৭ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অন্তর্গত মালদহ জেলার হাবিবপুর থানার আইহো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মমতাজউদদীন আহমদ। দেশ বিভাগের পর তার পরিবার তদানিন্তন পূর্ববঙ্গে চলে আসে। তার বাবার নাম কলিমুদ্দিন আহমদ ও মায়ের নাম সখিনা বেগম।
শিল্প ও সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য তিনি জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছেন। তার মধ্যে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৬), একুশে পদক (১৯৯৭), নাট্যকলায় অবদানের জন্য ২০০৮ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃক বিশেষ সম্মাননা, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও আলাউল সাহিত্য পুরস্কার অন্যতম।
মমতাজউদদীন মালদহ আইহো জুনিয়র স্কুলে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে ১৯৫১ সালে ভোলাহাট রামেশ্বর পাইলট মডেল ইনস্টিটিউশন থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে রাজশাহী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় বিএ (অনার্স) ও এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।
মমতাজউদদীন আহমদ ১৯৬৪ সালে চট্টগ্রাম কলেজে বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে শিক্ষকতা শুরু করেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের খণ্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি ১৯৭৬-৭৮ সালে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়নে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ভারতের দিল্লি, জয়পুর এবং কলকাতায় নাট্যদলের নেতা হিসেবে ভ্রমণ ও নাট্য মঞ্চায়ন করেন। তার লেখা নাটক ‘কি চাহ শঙ্খ চিল’ এবং ‘রাজা অনুস্বরের পালা’ রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বেশ কিছু নাটক, বাংলাদেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
মমতাজউদদীন শিক্ষক ও লেখক হিসেবে পরিচিতি পেলেও থিয়েটারের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবনকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তিনি সংস্কৃতি অঙ্গনের একজন কর্মী হিসেবে সক্রিয়ভাবে বাংলা ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এ ছাড়া স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।
মমতাজউদদীন ১৯৭৭-৮০ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ছিলেন।
বিনোধন ডেস্ক:,রোববার,০২ জুন,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments
Download Nulled WordPress Themes
Free Download WordPress Themes
Free Download WordPress Themes
Download WordPress Themes Free
udemy course download free

সর্বশেষ আপডেট



» ঢাকায় এসেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর

» তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর

» মিরপুর-রূপনগরের ঝিলপাড় বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন ওবায়দুল কাদের

» বিএনপিকে জড়িয়ে সরকারের মন্ত্রীরা অর্বাচীনের মতো বক্তব্য দিচ্ছে-মির্জা ফখরুল

» বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার আসামি মিন্নির জামিন শুনানি আগামীকাল পর্যন্ত মুলতবি করেছেন হাইকোর্ট

» খুলনা, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আজ আরো তিনজনের মৃত্যু

» জঙ্গি সংগঠন ‘আল্লাহর দল বা আল্লাহর সরকারের’ ভারপ্রাপ্ত আমিরসহ চার সদস্যকে আটক

» রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারের নকশা জালিয়াতির মামলায় মালিক এইচ আই ফারুককে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

» নবম ওয়েজ বোর্ডের হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর শুনানি শেষ আদেশ মঙ্গলবার

» কলাপাড়ায় পরিচয়হীন এক বৃদ্ধা নারীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে স্বাস্থ্যা কর্মকর্তা

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

 

 

সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com

আজ মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৫ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

খ্যাতিমান নাট্যকার অধ্যাপক মমতাজউদ্দীন আহমেদ আর নেই

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

খ্যাতিমান নাট্যকার অধ্যাপক মমতাজউদ্দীন আহমেদ আর নেই। রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (২ জুন) বিকেল ৩টা ৪৮ মিনিটে তিনি মারা যান। তাঁর স্বজন শাহরিয়ার প্রিন্স বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।মমতাজউদদীন মৃত্যুবরণ করার পর তার বড় ছেলে ডা. তিতাস মাহমুদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, হাসপাতাল থেকে এই কিংবদন্তির মরদেহ গুলশানের আজাদ মসজিদে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে তাকে গোসল করানো হবে। এরপর বাদ এশা তার মরদেহ রূপনগরের বাসার পাশে মদিনা মসজিদে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে তার প্রথম নামাজে জানাজা সম্পন্ন হবে।
এরপর সোমবার (৩ জুন) সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে মরহুমের দ্বিতীয় নামাজে জানাজা সম্পন্ন হবে। সেখান থেকে তাকে চাঁপাইনবাগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার হাবিবপুর থানার গ্রামে নিয়ে গিয়ে বাবার কবরের পাশে চিরশায়িত করা হবে। তার শেষ ইচ্ছে ছিল, বাবার কবরের পাশেই যেন দাফন করা হয়।ভাষাসৈনিক মমতাজউদদীন আহমদ স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের পথিকৃত। এক অঙ্কের নাটক লেখায় বিশেষ পারদর্শিতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ১৯৭৬ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও ১৯৯৭ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অন্তর্গত মালদহ জেলার হাবিবপুর থানার আইহো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মমতাজউদদীন আহমদ। দেশ বিভাগের পর তার পরিবার তদানিন্তন পূর্ববঙ্গে চলে আসে। তার বাবার নাম কলিমুদ্দিন আহমদ ও মায়ের নাম সখিনা বেগম।
শিল্প ও সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য তিনি জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছেন। তার মধ্যে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৬), একুশে পদক (১৯৯৭), নাট্যকলায় অবদানের জন্য ২০০৮ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃক বিশেষ সম্মাননা, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও আলাউল সাহিত্য পুরস্কার অন্যতম।
মমতাজউদদীন মালদহ আইহো জুনিয়র স্কুলে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে ১৯৫১ সালে ভোলাহাট রামেশ্বর পাইলট মডেল ইনস্টিটিউশন থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে রাজশাহী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় বিএ (অনার্স) ও এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।
মমতাজউদদীন আহমদ ১৯৬৪ সালে চট্টগ্রাম কলেজে বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে শিক্ষকতা শুরু করেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের খণ্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি ১৯৭৬-৭৮ সালে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়নে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ভারতের দিল্লি, জয়পুর এবং কলকাতায় নাট্যদলের নেতা হিসেবে ভ্রমণ ও নাট্য মঞ্চায়ন করেন। তার লেখা নাটক ‘কি চাহ শঙ্খ চিল’ এবং ‘রাজা অনুস্বরের পালা’ রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বেশ কিছু নাটক, বাংলাদেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
মমতাজউদদীন শিক্ষক ও লেখক হিসেবে পরিচিতি পেলেও থিয়েটারের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবনকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তিনি সংস্কৃতি অঙ্গনের একজন কর্মী হিসেবে সক্রিয়ভাবে বাংলা ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এ ছাড়া স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।
মমতাজউদদীন ১৯৭৭-৮০ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ছিলেন।
বিনোধন ডেস্ক:,রোববার,০২ জুন,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

© Copyright BY HBnews24.Com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com