উপকূলের মাঠে মাঠে ধান কাটা মহাউৎসব

Spread the love

কলাপাড়া(পটুয়ালী)প্রতিনিধি,২৬ নভেম্বর।। পটুয়াখালীর কলাপাড়াসহ উপকূলীয় এলাকার বি¯ৃÍর্ন মাঠ জুড়ে ধান কাটার মহা উৎসব শুরু হয়েছে। কেউ কেউ ধান কাটছেন, কেউ আঁটি বাঁধছে। আবার কেউবা মাথায় করে ধানের আঁটি নিয়ে যাচ্ছেন বাড়ির উঠানে। যেন দম ফেলার ফুরসত নেই। এমন চিত্র এখন এ উপজেলার বিস্তৃর্ন মাঠ জুড়ে। এরই সাথে চলছে প্রতিটি কৃষক পরিবারের বাড়িতে নবান্নের উৎসব। ভাল ফলন হওয়ায় ওইসব কৃষকদের চোখে মুখে লেগে আছে সোনালী স্বপ্ন পূরনের ছাপ। কিন্তু ফরিয়া বা মধ্যস্বত্বভোগীদের তৎপরতায় ফসলের কাংখিত মূল্য পাওয়া নিয়ে কৃষকদের মধ্যে রয়েছে শংকা।
কৃষি অফিসের তথ্য সূত্রে জানা যায়, এবছর এ উপজেলায় ৩৪ হাজার ৪৯০ হেক্টার জমিতে আমন চাষ, ২৪ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীন ও শুধুমাত্র ১০ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের ধান চাষ করেছে কৃষকরা। তবে ঘূর্নিঝড় বুলবুল’র তান্ডবে কিছু কিছু ধানের ক্ষেতে ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকালের মিষ্টি রোদ এসে পড়তেই দেখা গেল দিগন্ত জোড়া সোনালি ঢেউ। মাঠ জুড়ে সোনালি ধান। আমন ধানের গন্ধে ভরে উঠেছে গ্রামীণ জনপদ। হালকা বাতাসে পাকা ধানের শীষ দোলা খাচ্ছে।
স্বপ্নের সোনালী ধান কাটতে কাস্তে হাতে ব্যস্ত কৃষকরা। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসির ঝিলিক। এ সব মিলিয়ে পরিপূর্ণ এক দৃশ্য যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবি।
একাধিক কৃষকরা জানিয়েছেন, ঘুর্নিঝড় বুলবুল’র তান্ডবে আমন ধানের ক্ষেত তেমন কোন ক্ষতি সাধন হয়নি। সব মিলিয়ে এ বছর ক্ষেতে ভাল ফলন হয়েছে। তবে ধানের দাম নিয়ে ওইসব কৃষক চিন্তিত হয়ে পড়েছে।
কৃষক মো.রুহুল আমিন বলেন, কেবল মাত্র ক্ষেতে ধানের থোর বের হয়েছিল। ঠিক সেই সময় ঘূর্নিঝড় বুলবুল আঘাত হানে। প্রচন্ড ঝড়ো হাওয়ায় ক্ষেতের কিছু কিছু অংশের ধান নুয়ে পড়েছে। এর ফলে ধানে চিটা হওয়ার আশংকা দেখা দিতে পারে বলে জানান ওই কৃষক। কৃষক মন্টু চন্দ্র সরকার বলেন, এ বছর তিনি ১৬ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। এ পরিমান জমিতে ধান ফলাতে ট্রাক্টরে দিতে হয়েছে ১৬ হাজার টাকা, বীজ বপনে শ্রমিকদের মজুরী ১২ হাজার টাকা এবং সার ঔষধে ১২ হাজার টাকা সহ তার মোট ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে ঘুর্নিঝড় বুলবুল’র আঘাতে তার ক্ষেতের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। বাজারে ধানের দাম ভাল পেলে ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। কৃষক এরশাদ খাঁ বলেন, ঘূর্নিঝড় বুলবুল’র
কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তার পারও ক্ষেতে ভাল ধান হয়েছে। বাজারে ভাল মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারলে সবকিছু পুষিয়ে যাবে। দুই এক দিনের মধ্যে ধান কাটা শুরু করবে বলে তিনি জানিয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, ঘূর্নিঝড় বুলবুল যেভাবে আঘাত হেনেছে তাতে অনেকটা ক্ষতির আশংকা ছিল। ধান ক্ষেতের দৈহিক অবস্থান গত কারনে সে ভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হয়নি। যে ধান গুলো পরিপক্ক ছিল সে গুলো পরে গেছে। এ উপজেলায় তেমন কোন ক্ষতি সাধন হয়নি। যা হয়েছে তার তালিকা করে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি
পটুয়াখালী,মঙ্গলবার,২৬ নভেম্বর,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

সর্বশেষ আপডেট



» প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান ও ক্যাটরিনা কাইফ

» বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু বিপিএলের শুভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

» সামাজিক অবক্ষয় রোধে জীবন ঘনিষ্ঠ সুস্থ চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

» স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পা হত্যার ঘটনায় সাবেক প্রেমিক রহমান সৈকতের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

» চলচ্চিত্র শিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য সর্বোচ্চ স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৭ ও ২০১৮ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

» দেশের সার্বিক উন্নয়নকে টেকসই করতে কাজ করছে সরকার : এলজিআরডি মন্ত্রী

» বিএনপি নেতিবাচক রাজনীতি করতে করতে আজকে জনসমর্থন হারিয়ে ফেলেছে

» সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষে আহত ৪০

» রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মৃত্যুর ঘটনায় তার কথিত প্রেমিক সৈকত গ্রেফতার

» রংপুরে ২ সন্তানসহ অন্তঃসত্ত্বা নারীর মরদেহ উদ্ধার

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

 

 

সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

উপকূলের মাঠে মাঠে ধান কাটা মহাউৎসব

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

কলাপাড়া(পটুয়ালী)প্রতিনিধি,২৬ নভেম্বর।। পটুয়াখালীর কলাপাড়াসহ উপকূলীয় এলাকার বি¯ৃÍর্ন মাঠ জুড়ে ধান কাটার মহা উৎসব শুরু হয়েছে। কেউ কেউ ধান কাটছেন, কেউ আঁটি বাঁধছে। আবার কেউবা মাথায় করে ধানের আঁটি নিয়ে যাচ্ছেন বাড়ির উঠানে। যেন দম ফেলার ফুরসত নেই। এমন চিত্র এখন এ উপজেলার বিস্তৃর্ন মাঠ জুড়ে। এরই সাথে চলছে প্রতিটি কৃষক পরিবারের বাড়িতে নবান্নের উৎসব। ভাল ফলন হওয়ায় ওইসব কৃষকদের চোখে মুখে লেগে আছে সোনালী স্বপ্ন পূরনের ছাপ। কিন্তু ফরিয়া বা মধ্যস্বত্বভোগীদের তৎপরতায় ফসলের কাংখিত মূল্য পাওয়া নিয়ে কৃষকদের মধ্যে রয়েছে শংকা।
কৃষি অফিসের তথ্য সূত্রে জানা যায়, এবছর এ উপজেলায় ৩৪ হাজার ৪৯০ হেক্টার জমিতে আমন চাষ, ২৪ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীন ও শুধুমাত্র ১০ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের ধান চাষ করেছে কৃষকরা। তবে ঘূর্নিঝড় বুলবুল’র তান্ডবে কিছু কিছু ধানের ক্ষেতে ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকালের মিষ্টি রোদ এসে পড়তেই দেখা গেল দিগন্ত জোড়া সোনালি ঢেউ। মাঠ জুড়ে সোনালি ধান। আমন ধানের গন্ধে ভরে উঠেছে গ্রামীণ জনপদ। হালকা বাতাসে পাকা ধানের শীষ দোলা খাচ্ছে।
স্বপ্নের সোনালী ধান কাটতে কাস্তে হাতে ব্যস্ত কৃষকরা। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসির ঝিলিক। এ সব মিলিয়ে পরিপূর্ণ এক দৃশ্য যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবি।
একাধিক কৃষকরা জানিয়েছেন, ঘুর্নিঝড় বুলবুল’র তান্ডবে আমন ধানের ক্ষেত তেমন কোন ক্ষতি সাধন হয়নি। সব মিলিয়ে এ বছর ক্ষেতে ভাল ফলন হয়েছে। তবে ধানের দাম নিয়ে ওইসব কৃষক চিন্তিত হয়ে পড়েছে।
কৃষক মো.রুহুল আমিন বলেন, কেবল মাত্র ক্ষেতে ধানের থোর বের হয়েছিল। ঠিক সেই সময় ঘূর্নিঝড় বুলবুল আঘাত হানে। প্রচন্ড ঝড়ো হাওয়ায় ক্ষেতের কিছু কিছু অংশের ধান নুয়ে পড়েছে। এর ফলে ধানে চিটা হওয়ার আশংকা দেখা দিতে পারে বলে জানান ওই কৃষক। কৃষক মন্টু চন্দ্র সরকার বলেন, এ বছর তিনি ১৬ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। এ পরিমান জমিতে ধান ফলাতে ট্রাক্টরে দিতে হয়েছে ১৬ হাজার টাকা, বীজ বপনে শ্রমিকদের মজুরী ১২ হাজার টাকা এবং সার ঔষধে ১২ হাজার টাকা সহ তার মোট ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে ঘুর্নিঝড় বুলবুল’র আঘাতে তার ক্ষেতের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। বাজারে ধানের দাম ভাল পেলে ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। কৃষক এরশাদ খাঁ বলেন, ঘূর্নিঝড় বুলবুল’র
কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তার পারও ক্ষেতে ভাল ধান হয়েছে। বাজারে ভাল মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারলে সবকিছু পুষিয়ে যাবে। দুই এক দিনের মধ্যে ধান কাটা শুরু করবে বলে তিনি জানিয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, ঘূর্নিঝড় বুলবুল যেভাবে আঘাত হেনেছে তাতে অনেকটা ক্ষতির আশংকা ছিল। ধান ক্ষেতের দৈহিক অবস্থান গত কারনে সে ভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হয়নি। যে ধান গুলো পরিপক্ক ছিল সে গুলো পরে গেছে। এ উপজেলায় তেমন কোন ক্ষতি সাধন হয়নি। যা হয়েছে তার তালিকা করে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি
পটুয়াখালী,মঙ্গলবার,২৬ নভেম্বর,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

© Copyright BY HBnews24.Com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com