নিজস্ব পদ্ধতিতে নিজেরাই তৈরি করে মাস্টার কার্ড,জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি নিয়েছে ব্যাংকেরএই তিন কর্মকর্তা

Spread the love

ঢাকা: বিআর তারা নিজেরাও এই জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি নিয়েছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। ‘জালিয়াত চক্র’টির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তারা যে বৈদ্যুতিক যন্ত্র (ইলেক্ট্রনিকস ডিভাইস) ব্যবহার করে কাজ করে, সেটা বাজারে কিনতে পাওয়া যায় না। কারণ, এটি তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে তারা নিজেরাই তৈরি করে। তারা এটার নাম দিয়েছে মাস্টার  কার্ড। এটা শুধুমাত্র তৈরি করা হয়েছিল বিভিন্ন বেসরকারি-সরকারি চাকরির
পরীক্ষার জন্য, কিন্তু সম্প্রতি এই ডিভাইস দিয়ে তারা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সুবিধা দেবারও ব্যবস্থা করেছিল। এমনকি এই ডিভাইস দিয়ে তারা বিসিএস পরীক্ষারও হলেও প্রশ্ন ও উত্তরপত্র সরবাহ করত।
আজ ৭ এপ্রিল, শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. মশিউর রহমান। যেভাবে তৈরি হয় মাস্টার কার্ড
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ডিসি মশিউর রহমান জানান, এই চক্রটির মধ্যে বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছে। তাদের মধ্যে ব্যাংক কর্মকর্তা, প্রাইভেট বিশ্ববিদালয়ের কর্মকর্তা, চাকরিজীবী, ইঞ্জিনিয়ার ও শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন। চক্রের সদস্যদের মধ্যে এক একজনকে একেক কাজ ভাগ করে দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ
চাকরির পরীক্ষার্থী খোঁজ করেন। কেউ পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশের অবস্থান সম্পর্কে জানান। কেউ কেউ প্রশ্নের উত্তর দ্রুত সমাধান করেন।
আর তাদের চক্রের মধ্যে যেসব প্রকৌশলী রয়েছেন, তারা ব্যস্ত থাকেন মাস্টার কার্ড তৈরি ও অপারেট করার দায়িত্বে। এই প্রকৌশলীরা অনেক দক্ষ। কারণ, ব্যবহার করা কার্ডটি বাজারে কোথাও কিনতে পাওয়া যায় না। তারা অনলাইনের মাধ্যমে কিছু যন্ত্রাংশ ক্রয় করেন। এরপর সে সব যন্ত্রাংশ তাদের মতো করে সাজিয়ে এই কার্ডটি তৈরি করেন। কার্ডটি দেখতে প্রথমে মনে হবে যে, এটি কোনো বাংকের ক্রেডিট কার্ড। এটি বিভিন্ন রঙের
হয়। এই কার্ডের মধ্যে তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে বানানো একটি সার্কিট ও একটি মোবাইলের সিম কার্ড বাসানো থাকে। আর এই কার্ডের মধ্যে থাকা সার্কিটের সিমে বাইরের মোবাইল থেকে কল করা যায়। তবে সেই কার্ড থেকে অন্য মোবাইলে কল করা যায় না। কেন্দ্রে প্রবেশের সময় তারা টাকার মাধ্যমে চুক্তি করা পরীক্ষার্থীর হাতে
মাস্টার কার্ডটি স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে দেয়। আর কানের মধ্যে খুবই ক্ষুদ্র একটি ইয়ারফোন লাগিয়ে দেয়, যেটা দিয়ে তারা পরীক্ষার হলে বসেই উত্তরগুলো শুনতে পারে। এই মাস্টার কার্ডের মাধ্যমে শুধুমাত্র কল রিসিভ করে কথা শোনা যায় ও বলা যায়। কিন্তু এটা থেকে কেউ কল করতে পারে না।

মাস্টার কার্ডের নিয়ন্ত্রণ কৌশল
মাস্টার কার্ডের নিয়ন্ত্রণ কৌশল সম্পর্কে গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে মশিউর রহমান জানান, মূলত এই চক্রটি পরীক্ষার আগে থেকে কোনো প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে না। তারা পরীক্ষা শুরু হবার ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেই প্রশ্ন পেয়ে যায় এবং সেই প্রশ্নের সমাধান পরীক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেয় মাস্টার
কার্ডের মাধ্যেম। এ জন্য তাদের নির্ধারিত একজন ব্যক্তি পরীক্ষার্থী সেজে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। হাতে প্রশ্ন পাবার সঙ্গে সঙ্গেই মাস্টার কার্ডের মাধ্যমে বাইরে থাকা ওই চক্রের অন্য সদস্যদের জানিয়ে দেওয়া হয়। আর এই মাস্টার কার্ডটির সংযোগ থাকে রাজধানীর পান্থপথে তাদের একটি ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে। সেই সার্ভিস সেন্টারে
আগে থেকেই কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বসে থাকেন। প্রশ্নগুলো তাদের কাছে পৌঁছামাত্রই তারা সেটা সমাধান করার কাজ শুরু করে দেয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তারা প্রশ্নের উত্তরগুলো বের করে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে মাস্টার কার্ডের মাধ্যমে কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের কাছে পাঠিয়ে দেন। মাস্টার কার্ড ব্যবহার করে নিজেরাও চাকরি নিয়েছেন
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই এই পদ্ধতিতে চাকরি পেয়ছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির এই কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতাকৃদের মধ্যে মো. মনিরুল ইসলাম (পূবালী ব্যাংকের) কর্মকর্তা,অসীম কুমার দাস (সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা),মো. সোহেল আকন্দ (কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা)। এই তিনজনই সম্প্রতি জালিয়াতি করে ব্যাংকে চাকরি পেয়েছেন। এরপরে তারাও অন্যদের
এভাবে চাকরি দেবার জন্য কাজ শুরু করেছিলেন। তবে এই চক্রের মূলহোতা পুলকেশ দাস ওরফে বাচ্চুকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তারা এই পদ্ধতিতে ৭/৮ বছর ধরে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন। আর এজন্য চাকরি প্রার্থীদের কাছে থেকে ৩৫ হাজার থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছে চক্রটি।
এর আগে ডিবির যুগ্ম-কমিশনার আবদুল বাতেন আজ ৭ এপ্রিল, শনিবার বেলা সাড়ে ১২টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬ এপ্রিল (শুক্রবার) রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন, মো. মনিরুল ইসলাম (পূবালী ব্যাংকের কর্মকর্তা), অসীম কুমার দাস (সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা), মো. সোহেল আকন্দ (কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা), মো. জহিরুল ইসলাম, সাদ্দাতুর
রহমান, নাদিমুল ইসলাম, এনামুল হক, শেখ তরিকুজ্জামান, অর্ণব চক্রবর্তী ও আরিফুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে ডিবির যুগ্ম-কমিশনার আরও জানান, ওই সময় তাদের কাছ থেকে ছোট ছোট ব্যাটারি ও ১৩টি হেডফোন উদ্ধার করা হয়েছে। জালিয়াত চক্রের সদস্যরা পরীক্ষার কেন্দ্রে থাকা পরীক্ষার্থীর কানে এসব যন্ত্র
ব্যবহারের ব্যবস্থা করে দিতেন। তারা সরকারি চাকরির পরীক্ষা ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকের পরীক্ষার সময় বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে এই পদ্ধতিতে প্রশ্ন ও উত্তর সরববাহ করতেন।
উক্ত অভিযানটি গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগ এর উপ-পুলিশ কমিশনার জনাব মশিউর রহমান বিপিএম, পিপিএম-সেবা এর নির্দেশনায় এডিসি জনাব মোঃ শাহজাহান পিপিএম এর তত্ত¡াবধানে, এডিসি (টিম লিডার) মোঃ গোলাম সাকলায়েন এর নেতৃত্বে ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিম কর্তৃক পরিচালিত হয়।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) (উত্তর) বিভাগ এর উপ-পুলিশ কমিশনার জনাব মশিউর রহমান বিপিএম পিপিএম-সেবা,পূর্ব বিভাগের উপ কমিশনার খোন্দকার নুরুননবী, সিরিয়াস ক্রাইমের উপ কমিশনার মোদাছ্ছের হোসেন,জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার
মাসুদুর রহমান,অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি)মোঃ শাহজাহান পিপিএম ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত উপ কমিশনার পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত)মোঃ গোলাম সাকলায়েন।
মোঃ মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম,
ঢাকা,রোববার,০৭ এপ্রিল , এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

সর্বশেষ আপডেট



» ‘আইনসভায় বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

» কুয়াকাটায় আটটি খাবার হোটেল মালিককে অর্থদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত

» এক মাসের মধ্যে ৭ মার্চকে ঐতিহাসিক জাতীয় দিবস ঘোষণা করতে হাইকোর্টের নির্দেশ

» মিশরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক মারা গেছেন

» জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ১০৬ রানে বাংলাদেশের জয়

» বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত করে পুনঃবিচারের উদ্যোগ নেবে

» সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ মেঘলা,কিছু এলাকায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি

» রাজধানীর পুরান ঢাকায় এনামুল-রূপনের বাড়ি যেন টাকা-সোনার ভাণ্ডার!

» পিলখানা ট্র্যাজেডির ১১ বছর আজ

» পাপিয়া ও তার স্বামী মো. মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরীর ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

 

 

সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নিজস্ব পদ্ধতিতে নিজেরাই তৈরি করে মাস্টার কার্ড,জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি নিয়েছে ব্যাংকেরএই তিন কর্মকর্তা

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

ঢাকা: বিআর তারা নিজেরাও এই জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি নিয়েছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। ‘জালিয়াত চক্র’টির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তারা যে বৈদ্যুতিক যন্ত্র (ইলেক্ট্রনিকস ডিভাইস) ব্যবহার করে কাজ করে, সেটা বাজারে কিনতে পাওয়া যায় না। কারণ, এটি তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে তারা নিজেরাই তৈরি করে। তারা এটার নাম দিয়েছে মাস্টার  কার্ড। এটা শুধুমাত্র তৈরি করা হয়েছিল বিভিন্ন বেসরকারি-সরকারি চাকরির
পরীক্ষার জন্য, কিন্তু সম্প্রতি এই ডিভাইস দিয়ে তারা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সুবিধা দেবারও ব্যবস্থা করেছিল। এমনকি এই ডিভাইস দিয়ে তারা বিসিএস পরীক্ষারও হলেও প্রশ্ন ও উত্তরপত্র সরবাহ করত।
আজ ৭ এপ্রিল, শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. মশিউর রহমান। যেভাবে তৈরি হয় মাস্টার কার্ড
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ডিসি মশিউর রহমান জানান, এই চক্রটির মধ্যে বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছে। তাদের মধ্যে ব্যাংক কর্মকর্তা, প্রাইভেট বিশ্ববিদালয়ের কর্মকর্তা, চাকরিজীবী, ইঞ্জিনিয়ার ও শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন। চক্রের সদস্যদের মধ্যে এক একজনকে একেক কাজ ভাগ করে দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ
চাকরির পরীক্ষার্থী খোঁজ করেন। কেউ পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশের অবস্থান সম্পর্কে জানান। কেউ কেউ প্রশ্নের উত্তর দ্রুত সমাধান করেন।
আর তাদের চক্রের মধ্যে যেসব প্রকৌশলী রয়েছেন, তারা ব্যস্ত থাকেন মাস্টার কার্ড তৈরি ও অপারেট করার দায়িত্বে। এই প্রকৌশলীরা অনেক দক্ষ। কারণ, ব্যবহার করা কার্ডটি বাজারে কোথাও কিনতে পাওয়া যায় না। তারা অনলাইনের মাধ্যমে কিছু যন্ত্রাংশ ক্রয় করেন। এরপর সে সব যন্ত্রাংশ তাদের মতো করে সাজিয়ে এই কার্ডটি তৈরি করেন। কার্ডটি দেখতে প্রথমে মনে হবে যে, এটি কোনো বাংকের ক্রেডিট কার্ড। এটি বিভিন্ন রঙের
হয়। এই কার্ডের মধ্যে তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে বানানো একটি সার্কিট ও একটি মোবাইলের সিম কার্ড বাসানো থাকে। আর এই কার্ডের মধ্যে থাকা সার্কিটের সিমে বাইরের মোবাইল থেকে কল করা যায়। তবে সেই কার্ড থেকে অন্য মোবাইলে কল করা যায় না। কেন্দ্রে প্রবেশের সময় তারা টাকার মাধ্যমে চুক্তি করা পরীক্ষার্থীর হাতে
মাস্টার কার্ডটি স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে দেয়। আর কানের মধ্যে খুবই ক্ষুদ্র একটি ইয়ারফোন লাগিয়ে দেয়, যেটা দিয়ে তারা পরীক্ষার হলে বসেই উত্তরগুলো শুনতে পারে। এই মাস্টার কার্ডের মাধ্যমে শুধুমাত্র কল রিসিভ করে কথা শোনা যায় ও বলা যায়। কিন্তু এটা থেকে কেউ কল করতে পারে না।

মাস্টার কার্ডের নিয়ন্ত্রণ কৌশল
মাস্টার কার্ডের নিয়ন্ত্রণ কৌশল সম্পর্কে গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে মশিউর রহমান জানান, মূলত এই চক্রটি পরীক্ষার আগে থেকে কোনো প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে না। তারা পরীক্ষা শুরু হবার ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেই প্রশ্ন পেয়ে যায় এবং সেই প্রশ্নের সমাধান পরীক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেয় মাস্টার
কার্ডের মাধ্যেম। এ জন্য তাদের নির্ধারিত একজন ব্যক্তি পরীক্ষার্থী সেজে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। হাতে প্রশ্ন পাবার সঙ্গে সঙ্গেই মাস্টার কার্ডের মাধ্যমে বাইরে থাকা ওই চক্রের অন্য সদস্যদের জানিয়ে দেওয়া হয়। আর এই মাস্টার কার্ডটির সংযোগ থাকে রাজধানীর পান্থপথে তাদের একটি ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে। সেই সার্ভিস সেন্টারে
আগে থেকেই কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বসে থাকেন। প্রশ্নগুলো তাদের কাছে পৌঁছামাত্রই তারা সেটা সমাধান করার কাজ শুরু করে দেয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তারা প্রশ্নের উত্তরগুলো বের করে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে মাস্টার কার্ডের মাধ্যমে কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের কাছে পাঠিয়ে দেন। মাস্টার কার্ড ব্যবহার করে নিজেরাও চাকরি নিয়েছেন
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই এই পদ্ধতিতে চাকরি পেয়ছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির এই কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতাকৃদের মধ্যে মো. মনিরুল ইসলাম (পূবালী ব্যাংকের) কর্মকর্তা,অসীম কুমার দাস (সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা),মো. সোহেল আকন্দ (কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা)। এই তিনজনই সম্প্রতি জালিয়াতি করে ব্যাংকে চাকরি পেয়েছেন। এরপরে তারাও অন্যদের
এভাবে চাকরি দেবার জন্য কাজ শুরু করেছিলেন। তবে এই চক্রের মূলহোতা পুলকেশ দাস ওরফে বাচ্চুকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তারা এই পদ্ধতিতে ৭/৮ বছর ধরে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন। আর এজন্য চাকরি প্রার্থীদের কাছে থেকে ৩৫ হাজার থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছে চক্রটি।
এর আগে ডিবির যুগ্ম-কমিশনার আবদুল বাতেন আজ ৭ এপ্রিল, শনিবার বেলা সাড়ে ১২টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬ এপ্রিল (শুক্রবার) রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন, মো. মনিরুল ইসলাম (পূবালী ব্যাংকের কর্মকর্তা), অসীম কুমার দাস (সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা), মো. সোহেল আকন্দ (কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা), মো. জহিরুল ইসলাম, সাদ্দাতুর
রহমান, নাদিমুল ইসলাম, এনামুল হক, শেখ তরিকুজ্জামান, অর্ণব চক্রবর্তী ও আরিফুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে ডিবির যুগ্ম-কমিশনার আরও জানান, ওই সময় তাদের কাছ থেকে ছোট ছোট ব্যাটারি ও ১৩টি হেডফোন উদ্ধার করা হয়েছে। জালিয়াত চক্রের সদস্যরা পরীক্ষার কেন্দ্রে থাকা পরীক্ষার্থীর কানে এসব যন্ত্র
ব্যবহারের ব্যবস্থা করে দিতেন। তারা সরকারি চাকরির পরীক্ষা ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকের পরীক্ষার সময় বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে এই পদ্ধতিতে প্রশ্ন ও উত্তর সরববাহ করতেন।
উক্ত অভিযানটি গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগ এর উপ-পুলিশ কমিশনার জনাব মশিউর রহমান বিপিএম, পিপিএম-সেবা এর নির্দেশনায় এডিসি জনাব মোঃ শাহজাহান পিপিএম এর তত্ত¡াবধানে, এডিসি (টিম লিডার) মোঃ গোলাম সাকলায়েন এর নেতৃত্বে ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিম কর্তৃক পরিচালিত হয়।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) (উত্তর) বিভাগ এর উপ-পুলিশ কমিশনার জনাব মশিউর রহমান বিপিএম পিপিএম-সেবা,পূর্ব বিভাগের উপ কমিশনার খোন্দকার নুরুননবী, সিরিয়াস ক্রাইমের উপ কমিশনার মোদাছ্ছের হোসেন,জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার
মাসুদুর রহমান,অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি)মোঃ শাহজাহান পিপিএম ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত উপ কমিশনার পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত)মোঃ গোলাম সাকলায়েন।
মোঃ মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম,
ঢাকা,রোববার,০৭ এপ্রিল , এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

© Copyright BY HBnews24.Com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com