ডিএমপির তেওজগাঁ থানায় কর্মরত পুলিশের নারী কর্মকর্তা পপি মানবিক ও আদর্শ পুলিশ

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা: মানুষের সবচেয়ে কাছের বন্ধু পুলিশ। সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশের ভূমিকা অনবদ্য। কিছু পুলিশের খারাপ কর্মকাণ্ডের জন্য এই নামটি সাধারণ মানুষের কাছে অনেক সময় বন্ধুর পরিবর্তে আতঙ্কের হলেও সমাজে শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশই সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করে। খারাপ কাজ করে কিছু পুলিশ সদস্য যেমন নিন্দনীয় হন,আবার ভালো কাজ করেও অনেকে পুলিশ সদস্য সংবাদের শিরোনাম হন। তেমনি ভালো কাজ করে গণমাধ্যমে জায়গা করে নিয়েছেন একজন নারী পুলিশ সদস্য, যিনি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক গাড়ি চালককে নিজ হাতে সেবা দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যা ঘটেছিল সেদিন
গত ২২ এপ্রিল রবিবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচে আজিমপুর-গাজীপুর রুটে চলাচলকারী ভিআইপি পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা কয়েকটি গাড়িকে প্রচণ্ডবেগে ধাক্কা দেয়। এতে অন্তত ৮-১০টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন।
দুর্ঘটনার সময় আহতদের কাতরানোর দৃশ্য অনেকে দাঁড়িয়ে দঁড়িয়ে প্রত্যক্ষ করলেও কেউ তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেননি। ঘটনাস্থলে পেট্রোলিং দায়িত্বে থাকা ডিএমপির তেজগাঁও থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শবনম সুলতানা পপি এগিয়ে আসেন।

 

চালক না থাকায় সবাইকে অবাক করে নিজেই গাড়িটি চালিয়ে নিরাপদে সরিয়ে রাস্তার যান চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ীর লোকদের আশ্বাস দিয়ে বলেন,এই গাড়ীটি আটক করা হয়েছে। আপনারা থানায় যোগাযোগ করুন, আপনাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে। পরে রাস্তার যানজট স্বাভাবিক করে দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত ছেলেটির কাছে ছুটে যান। ছেলেটির পায়ে নিজে বরফ দিয়ে দেন এবং ছেলেটি যেন হাটতে পারে সেজন্য তাকে সহযোগিতা করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানবতার প্রতীক শবনম পুলিশ কর্মকর্তা শবনমের অসাধারণ কর্মকাণ্ড সেখানে উপস্থিত থাকা কয়েকজন মুঠোফোনে ধারণ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর ওই পুলিশ কর্মকর্তার এই কাজকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।এছাড়া পুলিশের অনেক বড় কর্মকর্তাও তাকে নিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের প্রশংসামূলক মন্তব্য করেন।

গুলশান বিভাগের ডিসি মোস্তাক আহমেদ গর্ব করে লিখেছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত একজন পথচারীর পা‌য়ের শুশ্রুষা কর‌ছেন একজন পু‌লিশ সদস্য। এ‌ই ছ‌বি শুধু পু‌লি‌শের সেবার কথা ব‌লে না, প‌রিবর্ত‌নের কথাও ব‌লে।

শ্রদ্ধা।
পপির মানবিক কাজের ছবি ফেসবুকে জুড়ে দিয়ে কবির চৌধুরী তন্ময় নামে একজন লিখেছেন, এটি একটি পুলিশ অফিসার কর্তৃক সাধারণ মানুষের সেবা প্রদানের ছবি। এক নারী পুলিশ অফিসার তার নিজহাত দিয়ে পায়ে ব্যান্ডেজ পড়িয়ে দিচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মানুষকে। এটি রাজধানীর মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারালে সড়ক দুর্ঘটনা কাহিনী। আর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান পুলিশ অফিসার পপি। এই দৃশ্য ফেসবুকে তুলে ধরার কারণ, আমি বরাবরই স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করি। আমি বড্ড আশাবাদী। সকল অন্ধকার দূর করে একদিন তারাই আলোকিত করবে সমাজ-সভ্যতাকে। ঘটনার পজেটিভ দিকগুলো সবার সাথে
শেয়ার করতে আমার ভালো লাগে। তাই ফেসবুক বন্ধুদের সাথে। কাজী ফয়সাল নামে এক সাংবাদিক ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে লিখেছেন, জনগনের সেবক পুলিশ
প্রকৃত পুলিশিং We Love This Types of Policing.ধন্যবাদ আপনাকে এসআই শবনম আক্তার পপি।

এমন আরো অনেক সিনিয়র ও জুনিয়র পুলিশ সদস্য রয়েছেন। যাদের ওপর নাগরিকদের আস্থা রয়েছে। কৃতজ্ঞতা তাদের প্রতি। তবে গুটিকয়েকের জন্য গোটা পুলিশ বাহিনীর ওপর দোষারোপ হয়ে থাকে, যা কলঙ্কজনক ও বেদনাদায়ক! যাদের প্রকৃত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, নৈতিকতা ও উদ্দ্যেশ্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছেন।
আসাদ রহমান নামে আরেক সাংবাদিক গত দুদিন আগে মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার আনোয়ার হোসেন কর্তৃক সাংবাদিক নির্যাতনের ছবি ও লিখেছেন, প্রথম ছবিটি (নারী পুলিশ) দ্বিতীয় ছবির পুলিশ ভাইকে উৎসর্গ। অনেকেই বলছেন, পুলিশের খারাপ কাজ গুলোই সামনে আসে, পুলিশের দোষারোপ করা হয় কিন্তু ভালো কাজকে কেউ সম্মান জানায় না।

শরিয়তপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ফেসবুকে লিখেছেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের তেজগাঁও থানায় কর্মরত এসআই শবনম আক্তার পপি তুমি আমাদের গর্বিত করেছ। একই থানার সাবেক সহকর্মী হিসেবে আমি অত্যন্ত সম্মানবোধ করছি। ধন্যবাদ শবনম আক্তার পপি।
সোহেল আহমেদ নামের একজন লিখেছেন, গুটিকয়েক পুলিশের জন্যে সমস্ত পুলিশ বাহিনী খারাপ হতে পারে না। “স্যালুট বোন আপনাকে, আপনি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর গর্ব এবং মানবতার প্রতীক। ইকবাল হাসান ফরিদ বিপরীত দুই কর্মের ছবি জুড়ে দিয়ে লিখেছেন, ভালো পুলিশ মন্দ পুলিশ।
মানবিক পুলিশের প্রশংসা ঝড়ে পড়েছে সাংবাদিক জামশেদ নাজিমের স্ট্যাটাসে।
তিনি লিখেছেন, পুলিশ, শব্দটার অনেক সংজ্ঞা। কখনো নির্যাতনকারী, কখনো ঘুষখোর, কখনো স্বার্থপর। একটু ভুল করলে কিংবা কেউ খারাপ করলে আমরা পুলিশের ১৪ গোষ্ঠী উদ্ধার করি। তবে এই ছবিগুলো আমি কিংবা আমাদের মতো পুলিশ বিরোধী মানুষরা কী বলবেন? দুর্ঘটনা কবলিতদের সেবা দেয়া মানুষটার পুলিশি আচরণ কই?
তাকে দেখে তো আমার মনে হয়- কোনো বোন তার আহত ভাইকে সেবা দিচ্ছে কিংবা কোনো মা তার সন্তানের ক্ষত পায়ে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। তুমি নারী নও একজন মা পুলিশ।

স্যালুট তোমায়, তোমার মানসিকতাকে!!

সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে এখন পপি বন্দনা। এমন মানবিক পুলিশকেই দেখতে চান জনগণ। ঘটনার পর থেকে নিয়মিতই আপনজন, সহকর্মীদের ভালবাসায় সিক্ত হচ্ছেন শবনম সুলতানা। মুঠোফোনেও পাচ্ছেন শুভেচ্ছা বার্তা।
জানতে চাইলে শবনম সুলতানা পপি জানান, মহাখালীর শাহীনবাগ সিভিল এভিয়েশনের সামনে ভিআইপি পরিবহনের একটি বাস ব্রেক ফেল করে বেশ কয়েকটি প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পরই বাসটির চালক-হেলপাররা পালিয়ে যায়। বাসের ধাক্কায় বেশ কয়েকটি গাড়ি অচল হয়ে পড়লে ফ্লাইওভার থেকে বনানী সড়কের যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রথমে যানজট নিরসনে আমি বাসটি চালিয়ে রাস্তার পাশে নিয়ে সেটা পার্কিং করি। পরে দেখি বাসের ধাক্কায় একটি পিকআপ উল্টে একটি ছেলে আহত হয়ে রাস্তায় শুয়ে
আছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে তাকে তুলে হাঁটানোর চেষ্টা করি এবং একজনকে কিছু টাকা দিয়ে পাশের একটি স্কুলের সামনে থেকে আইসক্রিম কিনিয়ে এনে তার হাতে পায়ে ধরি। যখন দাঁড়ানোর মত হয় তখন তাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে তার পরিবারকে খবর দিই। এরপর গতকাল স্বজনদের কাছে কল করে জানতে পেরেছি সে সুস্থ আছে। এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আমি চেয়েছিলাম ছেলেটি যেন স্বাভাবিক হাঁটা চলা ফেরা করে স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারে। আর তখন তাকে উদ্ধার না করা হলে হয়ত ওর অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেত।
এছাড়া সবারই তো পরিবার আছে। পুলিশের চাকরিতে যোগদানের সময়ই আমাদের শেখানো হয়েছে মানবতার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে হবে। তাই আমি প্রতিনিয়ত মানুষের সেবাই নিজেকে বিলিয়ে দেই।
রাজধানীর নতুনবাজারে বসবাস করলেও স্থায়ী নিবাস পাবনার চাটমোহরে বেড়ে উঠা পপির মানুষের সেবা করার টান ছিল ছোটবেলা থেকেই। মানুষের কোনো কষ্ট দেখলে সইতে পারেন না। বাড়িয়ে দেন সহযোগিতার হাত। সেদিনের মতো গত বুধবারও আরেকটি ভালো কাজের দৃষ্টান্ত রাখেন পুলিশের এই নারী কর্মকর্তা।
শবনম সুলতানা পপি জানান, গত বুধবার ডিউটি শেষ করে বাসায় ফেরার পথে দেখি একজন মোটরসাইকেল ঠেলতে ঠেলতে নিয়ে যাচ্ছেন। পরে জানতে পারি তার গাড়ির তেল শেষ হয়ে গেছে। পরে আমি আমার ইস্কুটি থেকে তেল বের তাকে দেই।

 

পপি বলেন, ছোটবেলা থেকেই মানুষের উপকারের প্রতি টান ছিল। মনে পড়ে অনেক সময় নিজের বাড়ির খাবার চুরি করে অন্যকে খাওয়াতাম। এমনকি নিজের পুকুরের মাছ চুরি করে অন্যের বাড়িতে দিয়ে আসতাম। ছোটবেলা থেকেই মনে মনে ভাবতাম আমার একটা হাত নির্ভরযোগ্য, যে হাতটাকে মানুষ বিশ্বাস করবে। যেটা
দিয়ে মানুষকে উপকার করতে পারব। ছোট থেকে বাবা-মায়ের কাছ থেকে মানুষের উপকার করতে শিখেছি। তারা সবসময় আমার ভালো কাজকে অনুপ্রাণিত করতো। ২০০১ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগদানের পর বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালন করেছি। কোনদিন মানুষের উপকার ছাড়া ক্ষতি করিনি। পপির এমন কাজের প্রশংসা করে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার
পর পপি যেভাবে নিরলসভাবে কাজ করেছেন তা প্রশংসার দাবিদার। তার এই কাজে পুলিশ বিভাগের প্রতি মানুষের বিরুপ মনোভাব কমে যাবে।

মোঃ মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম,
ঢাকা,শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল , এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

সর্বশেষ আপডেট



» পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রানে করে রিয়াদ বাহিনী

» চট্টগ্রামের মির্জাপোল বস্তিতে ভয়াবহ আগুন পুড়ে গেছে আড়াইশ ঘর

» বিএনপি জিতবে না জেনেই ইভিএম নিয়ে নানা ধরনের কথা বলছে-বায়দুল কাদের

» ঢাকা থেকে দুঃশাসন ও দুর্নীতি দূর করতে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহ্বান মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল

» গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

» মিয়ানমারের রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলা চলবে-আন্তর্জাতিক বিচার আদালত

» আধুনিক শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়তে সেনা নৌ ও বিমান বাহিনীকে একযোগে উন্নত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

» দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ১৪তম অবস্থানে উঠেছে বাংলাদেশ-টিআইবি

» বসানো হলো পদ্মা সেতুর ২২তম স্প্যান,দৃশ্যমান হলো ৩ হাজার ৩০০ মিটার

» প্রচার প্রচারণায় বেশ ব্যস্ততা বাড়ছে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

 

 

সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ, ১১ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ডিএমপির তেওজগাঁ থানায় কর্মরত পুলিশের নারী কর্মকর্তা পপি মানবিক ও আদর্শ পুলিশ

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা: মানুষের সবচেয়ে কাছের বন্ধু পুলিশ। সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশের ভূমিকা অনবদ্য। কিছু পুলিশের খারাপ কর্মকাণ্ডের জন্য এই নামটি সাধারণ মানুষের কাছে অনেক সময় বন্ধুর পরিবর্তে আতঙ্কের হলেও সমাজে শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশই সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করে। খারাপ কাজ করে কিছু পুলিশ সদস্য যেমন নিন্দনীয় হন,আবার ভালো কাজ করেও অনেকে পুলিশ সদস্য সংবাদের শিরোনাম হন। তেমনি ভালো কাজ করে গণমাধ্যমে জায়গা করে নিয়েছেন একজন নারী পুলিশ সদস্য, যিনি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক গাড়ি চালককে নিজ হাতে সেবা দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যা ঘটেছিল সেদিন
গত ২২ এপ্রিল রবিবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচে আজিমপুর-গাজীপুর রুটে চলাচলকারী ভিআইপি পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা কয়েকটি গাড়িকে প্রচণ্ডবেগে ধাক্কা দেয়। এতে অন্তত ৮-১০টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন।
দুর্ঘটনার সময় আহতদের কাতরানোর দৃশ্য অনেকে দাঁড়িয়ে দঁড়িয়ে প্রত্যক্ষ করলেও কেউ তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেননি। ঘটনাস্থলে পেট্রোলিং দায়িত্বে থাকা ডিএমপির তেজগাঁও থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শবনম সুলতানা পপি এগিয়ে আসেন।

 

চালক না থাকায় সবাইকে অবাক করে নিজেই গাড়িটি চালিয়ে নিরাপদে সরিয়ে রাস্তার যান চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ীর লোকদের আশ্বাস দিয়ে বলেন,এই গাড়ীটি আটক করা হয়েছে। আপনারা থানায় যোগাযোগ করুন, আপনাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে। পরে রাস্তার যানজট স্বাভাবিক করে দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত ছেলেটির কাছে ছুটে যান। ছেলেটির পায়ে নিজে বরফ দিয়ে দেন এবং ছেলেটি যেন হাটতে পারে সেজন্য তাকে সহযোগিতা করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানবতার প্রতীক শবনম পুলিশ কর্মকর্তা শবনমের অসাধারণ কর্মকাণ্ড সেখানে উপস্থিত থাকা কয়েকজন মুঠোফোনে ধারণ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর ওই পুলিশ কর্মকর্তার এই কাজকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।এছাড়া পুলিশের অনেক বড় কর্মকর্তাও তাকে নিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের প্রশংসামূলক মন্তব্য করেন।

গুলশান বিভাগের ডিসি মোস্তাক আহমেদ গর্ব করে লিখেছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত একজন পথচারীর পা‌য়ের শুশ্রুষা কর‌ছেন একজন পু‌লিশ সদস্য। এ‌ই ছ‌বি শুধু পু‌লি‌শের সেবার কথা ব‌লে না, প‌রিবর্ত‌নের কথাও ব‌লে।

শ্রদ্ধা।
পপির মানবিক কাজের ছবি ফেসবুকে জুড়ে দিয়ে কবির চৌধুরী তন্ময় নামে একজন লিখেছেন, এটি একটি পুলিশ অফিসার কর্তৃক সাধারণ মানুষের সেবা প্রদানের ছবি। এক নারী পুলিশ অফিসার তার নিজহাত দিয়ে পায়ে ব্যান্ডেজ পড়িয়ে দিচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মানুষকে। এটি রাজধানীর মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারালে সড়ক দুর্ঘটনা কাহিনী। আর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান পুলিশ অফিসার পপি। এই দৃশ্য ফেসবুকে তুলে ধরার কারণ, আমি বরাবরই স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করি। আমি বড্ড আশাবাদী। সকল অন্ধকার দূর করে একদিন তারাই আলোকিত করবে সমাজ-সভ্যতাকে। ঘটনার পজেটিভ দিকগুলো সবার সাথে
শেয়ার করতে আমার ভালো লাগে। তাই ফেসবুক বন্ধুদের সাথে। কাজী ফয়সাল নামে এক সাংবাদিক ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে লিখেছেন, জনগনের সেবক পুলিশ
প্রকৃত পুলিশিং We Love This Types of Policing.ধন্যবাদ আপনাকে এসআই শবনম আক্তার পপি।

এমন আরো অনেক সিনিয়র ও জুনিয়র পুলিশ সদস্য রয়েছেন। যাদের ওপর নাগরিকদের আস্থা রয়েছে। কৃতজ্ঞতা তাদের প্রতি। তবে গুটিকয়েকের জন্য গোটা পুলিশ বাহিনীর ওপর দোষারোপ হয়ে থাকে, যা কলঙ্কজনক ও বেদনাদায়ক! যাদের প্রকৃত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, নৈতিকতা ও উদ্দ্যেশ্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছেন।
আসাদ রহমান নামে আরেক সাংবাদিক গত দুদিন আগে মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার আনোয়ার হোসেন কর্তৃক সাংবাদিক নির্যাতনের ছবি ও লিখেছেন, প্রথম ছবিটি (নারী পুলিশ) দ্বিতীয় ছবির পুলিশ ভাইকে উৎসর্গ। অনেকেই বলছেন, পুলিশের খারাপ কাজ গুলোই সামনে আসে, পুলিশের দোষারোপ করা হয় কিন্তু ভালো কাজকে কেউ সম্মান জানায় না।

শরিয়তপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ফেসবুকে লিখেছেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের তেজগাঁও থানায় কর্মরত এসআই শবনম আক্তার পপি তুমি আমাদের গর্বিত করেছ। একই থানার সাবেক সহকর্মী হিসেবে আমি অত্যন্ত সম্মানবোধ করছি। ধন্যবাদ শবনম আক্তার পপি।
সোহেল আহমেদ নামের একজন লিখেছেন, গুটিকয়েক পুলিশের জন্যে সমস্ত পুলিশ বাহিনী খারাপ হতে পারে না। “স্যালুট বোন আপনাকে, আপনি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর গর্ব এবং মানবতার প্রতীক। ইকবাল হাসান ফরিদ বিপরীত দুই কর্মের ছবি জুড়ে দিয়ে লিখেছেন, ভালো পুলিশ মন্দ পুলিশ।
মানবিক পুলিশের প্রশংসা ঝড়ে পড়েছে সাংবাদিক জামশেদ নাজিমের স্ট্যাটাসে।
তিনি লিখেছেন, পুলিশ, শব্দটার অনেক সংজ্ঞা। কখনো নির্যাতনকারী, কখনো ঘুষখোর, কখনো স্বার্থপর। একটু ভুল করলে কিংবা কেউ খারাপ করলে আমরা পুলিশের ১৪ গোষ্ঠী উদ্ধার করি। তবে এই ছবিগুলো আমি কিংবা আমাদের মতো পুলিশ বিরোধী মানুষরা কী বলবেন? দুর্ঘটনা কবলিতদের সেবা দেয়া মানুষটার পুলিশি আচরণ কই?
তাকে দেখে তো আমার মনে হয়- কোনো বোন তার আহত ভাইকে সেবা দিচ্ছে কিংবা কোনো মা তার সন্তানের ক্ষত পায়ে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। তুমি নারী নও একজন মা পুলিশ।

স্যালুট তোমায়, তোমার মানসিকতাকে!!

সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে এখন পপি বন্দনা। এমন মানবিক পুলিশকেই দেখতে চান জনগণ। ঘটনার পর থেকে নিয়মিতই আপনজন, সহকর্মীদের ভালবাসায় সিক্ত হচ্ছেন শবনম সুলতানা। মুঠোফোনেও পাচ্ছেন শুভেচ্ছা বার্তা।
জানতে চাইলে শবনম সুলতানা পপি জানান, মহাখালীর শাহীনবাগ সিভিল এভিয়েশনের সামনে ভিআইপি পরিবহনের একটি বাস ব্রেক ফেল করে বেশ কয়েকটি প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পরই বাসটির চালক-হেলপাররা পালিয়ে যায়। বাসের ধাক্কায় বেশ কয়েকটি গাড়ি অচল হয়ে পড়লে ফ্লাইওভার থেকে বনানী সড়কের যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রথমে যানজট নিরসনে আমি বাসটি চালিয়ে রাস্তার পাশে নিয়ে সেটা পার্কিং করি। পরে দেখি বাসের ধাক্কায় একটি পিকআপ উল্টে একটি ছেলে আহত হয়ে রাস্তায় শুয়ে
আছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে তাকে তুলে হাঁটানোর চেষ্টা করি এবং একজনকে কিছু টাকা দিয়ে পাশের একটি স্কুলের সামনে থেকে আইসক্রিম কিনিয়ে এনে তার হাতে পায়ে ধরি। যখন দাঁড়ানোর মত হয় তখন তাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে তার পরিবারকে খবর দিই। এরপর গতকাল স্বজনদের কাছে কল করে জানতে পেরেছি সে সুস্থ আছে। এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আমি চেয়েছিলাম ছেলেটি যেন স্বাভাবিক হাঁটা চলা ফেরা করে স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারে। আর তখন তাকে উদ্ধার না করা হলে হয়ত ওর অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেত।
এছাড়া সবারই তো পরিবার আছে। পুলিশের চাকরিতে যোগদানের সময়ই আমাদের শেখানো হয়েছে মানবতার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে হবে। তাই আমি প্রতিনিয়ত মানুষের সেবাই নিজেকে বিলিয়ে দেই।
রাজধানীর নতুনবাজারে বসবাস করলেও স্থায়ী নিবাস পাবনার চাটমোহরে বেড়ে উঠা পপির মানুষের সেবা করার টান ছিল ছোটবেলা থেকেই। মানুষের কোনো কষ্ট দেখলে সইতে পারেন না। বাড়িয়ে দেন সহযোগিতার হাত। সেদিনের মতো গত বুধবারও আরেকটি ভালো কাজের দৃষ্টান্ত রাখেন পুলিশের এই নারী কর্মকর্তা।
শবনম সুলতানা পপি জানান, গত বুধবার ডিউটি শেষ করে বাসায় ফেরার পথে দেখি একজন মোটরসাইকেল ঠেলতে ঠেলতে নিয়ে যাচ্ছেন। পরে জানতে পারি তার গাড়ির তেল শেষ হয়ে গেছে। পরে আমি আমার ইস্কুটি থেকে তেল বের তাকে দেই।

 

পপি বলেন, ছোটবেলা থেকেই মানুষের উপকারের প্রতি টান ছিল। মনে পড়ে অনেক সময় নিজের বাড়ির খাবার চুরি করে অন্যকে খাওয়াতাম। এমনকি নিজের পুকুরের মাছ চুরি করে অন্যের বাড়িতে দিয়ে আসতাম। ছোটবেলা থেকেই মনে মনে ভাবতাম আমার একটা হাত নির্ভরযোগ্য, যে হাতটাকে মানুষ বিশ্বাস করবে। যেটা
দিয়ে মানুষকে উপকার করতে পারব। ছোট থেকে বাবা-মায়ের কাছ থেকে মানুষের উপকার করতে শিখেছি। তারা সবসময় আমার ভালো কাজকে অনুপ্রাণিত করতো। ২০০১ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগদানের পর বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালন করেছি। কোনদিন মানুষের উপকার ছাড়া ক্ষতি করিনি। পপির এমন কাজের প্রশংসা করে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার
পর পপি যেভাবে নিরলসভাবে কাজ করেছেন তা প্রশংসার দাবিদার। তার এই কাজে পুলিশ বিভাগের প্রতি মানুষের বিরুপ মনোভাব কমে যাবে।

মোঃ মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম,
ঢাকা,শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল , এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

© Copyright BY HBnews24.Com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com