হংকং যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে প্রতারকদের ফাঁদে পা দেন সেই মামুনুর রশিদের গল্প

Spread the love

ঢাকা: জমি বিক্রি করে সাড়ে চার লাখ টাকা খরচা করে হংকং যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে প্রতারকদের ফাঁদে পা দেন মামুনুর রশিদ।হংকংয়ে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০ হাজার টাকা বেতনের
চাকরি পাইয়ে দেওয়ার এমন স্বপ্ন দেখান তানভীর আহম্মেদ নামের ব্যক্তিটি।কিন্তু মামুনুর রশীদ যেদিন রওনা হবেন, সেদিনই তানভীর হাওয়া। তবে পার পাননি তানভীর। আটকা পড়েছেন পুলিশের হাতে। এখন আছেন সিআইডির জিম্মায়।
পত্রিকার বিজ্ঞাপন দেখেই বিদেশে চাকরির আশায় তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ শুরু করেন। এরপর বাবার জমি বিক্রির টাকা ও শশুড়ের অবসর ভাতার টাকা সব কিছু খুইয়ে এখন নিঃস্ব তিনি। কারণ বিদেশে যাবার জন্য ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন মামুন। শুধুমাত্র মামুনুর রশিদই নয় তার মতো আরও অনেকে প্রতারিত হয়েছেন।
প্রতারণার শিকার মামুনুর রশিদ আজ ২৭ জানুয়ারি শনিবার বলেন, আমি যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছিলাম, সেটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।গত বছর সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞাপন দেখে সেখানে দেয়া নম্বরে যোগাযোগ করি। বিজ্ঞাপনে অফিসের ঠিকানা দেয়া ছিল উত্তরা এলাকার, কিন্তু ওই নাম্বারে ফোন করার পরে নাজমুল হাসান সুমন নামের একজন ফোন রিসিভ করেন। তিনি আমাকে বলেন, যমুনা ফিউচার পার্কে আগামীকাল দেখা করতে আসবেন। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম আপনাদের অফিস তো উত্তরা তবে যমুনা ফিউচার পার্কে কেন আসব? তখন নাজমুল বলে যে যমুনা ফিউচার পার্কে তাদের অনেক ক্লায়েন্ট আসে। সেখানেই তারা এই সব বিষয়ে বেশিরভাগ সময় আলোচনা করেন। এর পরের দিন নাজমুলের কথা মতো আমি যমুনা ফিউচার পার্কে যাই। সেদিন নাজমুল আমাকে তার বস তানভীর আহমেদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। তানভীর আমাকে বলেছিল যে খুব দ্রুতই আমার হংকংয়ের ভিসা হয়ে যাবে। আর সকল খরচ বিদেশে যাবার পরেই নিবেন তারা। তাদের দুজনের কথা শুনে আমি তাদেরকে বিশ্বাস করে ফেলেছিলাম। এ জন্য প্রথমে ভিসার ফি ২০ হাজার টাকা তাদেরকে দেই। এর কয়েক দিন পরে আরও ২০ হাজার টাকা চায় তানভীর। সে জানায় যে আমার ভিসা হয়ে গেছে এখন বিমানের টিকেটের দাম দিতে হবে। এর ঠিক দুইদিন পরে তানভীর আমাকে একটি ইউএস বাংলা এয়ার লাইন্সের টিকেট ও ভুয়া ভিসার কাগজ দেয়। সে বলে ১৭ সেপ্টেম্বরের আপনার ফ্লাইট, তবে সরাসরি হংকং যাওয়া যাবে না। নেপাল হয়ে হংকং যেতে হবে। আমি টিকেট হাতে পেয়ে খুশি হয়ে যাই। তবে ১৪ সেপ্টেম্বর তানভীর আমাকে জানায় যে আমার পাসপোর্টে কিছু ডলার এক্সচেঞ্জ করতে হবে। এ জন্য তারা আমার কাছে থেকে ৪ লাখ টাকা নেয়। কিন্তু সেদিন বিকেলে বলে যে আজকে ডলার এক্সচেঞ্জ করা সম্ভব হচ্ছে না, তবে আগামীকাল করা যাবে। এর পরের দিন ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ওই প্রতারকদের সঙ্গে আবারও আমার ফোনে কথা হয়। তারা বলে যে আপনার তো যাওয়ার ১৭ তারিখ, তার আগেই আপনার পাসপোর্ট ও ডলার পেয়ে যাবেন। কিন্তু ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকে তানভীর ও নাজমুলের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এর পর বুঝতে পারি যে প্রতারণার শিকার হয়েছি’। যাচাই বাছাই করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ছাপানোর দাবি করে মামুনুর রশিদ বলেন, ঘটনা বুঝতে পেরে আমি পরের দিন ভাটারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলাম। প্রায় তিন মাস পরে সিআইডি থেকে আমাকে ফোন করে
জানানো হয় যে ওই দুই প্রতারককে অন্য মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই প্রতারকদের কাছে থেকে আমার তথ্য পেয়ে আমাকে ডেকেছে সিআইডি। আমি ওই বিজ্ঞাপন দেখে আশ্বস্ত হয়েছিলাম। কারণ আমার একটা কাজ খুব দরকার ছিল। বেকার ছিলাম। তাই মাথায় কিছু আসেনি। আর এ জন্যই প্রতারিত হয়েছি। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে বিদেশে লোক পাঠানোর নামে মামুনের সঙ্গে প্রতারণা করা দুই জনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। আটককৃতরা হলো তানভীর আহম্মেদ ও নাজমুল হাসান সুমন। গত বুধবার (২৪ জানুয়ারি) তাদের আটক করা হয়।আজ শনিবার (২৭ জানুয়ারি ২০১৮)দুপুর ১২:৩০ টায় রাজধানীর মালিবাগে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান কার্যালয়ে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা
নজরুল ইসলাম তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি জানিয়েছেন। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার বলেন, এই দুইজনকে গত বুধবার আটক করা হয়েছে। তারা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে হংকং পাঠানোর নামে প্রতারণা করে আসছিল। এই দুইজন প্রথমে বিজ্ঞাপন দেয়। এরপর তাদের দেওয়া ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে তারা পরবর্তী ফাঁদ পাতে। তাদের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে লাখ লাখ টাকা
হারিয়েছেন অনেকে। আমরা কয়েকজন ভোক্তভোগীকে পেয়েছি।’ আটককৃত তানভীর ও নাজমুল সম্পর্কে মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সেনাবাহিনীতে তানভীর’র রিভার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে চাকরি হয়েছিল ২০০০ সালে। কিন্তু ভলিবল খেলতে গিয়ে পায়ে চোট পেয়ে চাকরি হারায়
সে। তার বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জে। আর নাজমুল হাসান সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইলের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি রাজবাড়ির গোয়ালন্দে।’
মোল্যা নজরুল ইসলাম জানান, বিজ্ঞাপন দেখে এই প্রতারকদের দেওয়া ফোন নম্বরে কেউ কল করলে হংকংয়ে ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখাতো তারা। অথচ তাদের নিজস্ব কোনও অফিস নেই। তারা অফিস না থাকার বিষয়টি আড়াল করে ক্লায়েন্টদের সঙ্গে দেখা করতো যমুনা ফিউচার পার্কের বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে। সেখানেই হংকং পাঠানোর জন্য মৌখিক চুক্তি করতো। এরপর চুক্তি অনুযায়ী টাকা নিয়ে শেষ পর্যন্ত বিদেশ না পাঠিয়েই লাপাত্তা হতো তারা।’ গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে ‘ভিসা প্রসেসিং’ শিরোনামে একটি বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। যেখানে হংকংয়ের কিছু ভিসা প্রসেস করা হবে বলে জানানো হয়। যোগাযোগের ঠিকানা
দেওয়া হয় উত্তরা, হাউজ বিল্ডিং, ঢাকা। সঙ্গে দেওয়া ছিল একটি ফোন নম্বর। সেই নম্বর দেখে যোগাযোগ করেন নারায়ণগঞ্জের জিয়াউল হক সুমন ও হায়াত আহম্মদ। তাদের সঙ্গে প্রতারকরা দেখা করে যমুনা ফিউচার পার্কের রেস্টুরেন্টে। হংকং পৌঁছার পর প্রত্যেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা করে দিতে হবে বলে মৌখিক চুক্তি হয়। তাদের দুজনকে জানানো হয় যে ২৪ সেপ্টেম্বর ফ্লাইটে তারা হংকং যাবেন। আর গিয়ে টাকা পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু ৮ হাজার ডলার এক্সচেঞ্জ করতে হবে আগেই। অবশেষে ২৪ সেপ্টেম্বর ফ্লাইটের দিনে জিয়াউল হক সুমন ও হায়াত আহম্মদ দুই প্রতারকের সাথে বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশ করে। এর পর তারা ৮ হাজার ইউএস ডলার দুই
প্রতারকের হাতে দিয়ে দেয়। এরপর প্রতারকরা দুই জনকে বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশ করতে বলে তারা নিজেরা ১ নং টার্মিনালের দিকে চলে যায়। এরপর ওই দুই প্রতারক আর ফিরে আসেনি। কিছুক্ষণ ফোনে আসছি-আসছি বললেও কিছুক্ষণ পর মোবাইল ফোন বন্ধ করে তারা পালিয়ে যায়।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় গত বছরের ১৪ নভেম্বর বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আর সেই ঘটনায় করা মামলাতেই তানভীর ও নাজমুলকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের গ্রেফতারের পরে ভিকটিম মামুনুর রশিদের সাথে প্রতারণার বিস্তাারিত তথ্য জানা যায়। গ্রেফতার আসামিদের আদালতে পাঠিয়ে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের বাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৯ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে ।
পত্রিকায় এমন ভুয়া বিজ্ঞাপন সম্পর্কে জানতে চাইলে মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন,পত্রিকাগুলো বিজ্ঞাপন ছাপানোর ক্ষেত্রে একটু সতর্ক হলে বা যাচাই-বাচাই করে ছাপানোর ব্যবস্থা করলে এই ধরনের প্রতারকরা এ সুযোগ নিতে পারবে না। আর যারা বিজ্ঞাপন দেখেই সরল বিশ্বাসে ফাঁদে পা দিচ্ছেন, তাদেরও প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির দেওয়া তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই চুক্তি বা লেনদেনে যাওয়া উচিত। তাহলেও এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মিনহাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আসলাম উদ্দিন এবং সহকারী পুলিশ শারমিন জাহান ।
মোঃ মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম,
ঢাকা,রোববার,২৮ জানুয়ারি, এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

সর্বশেষ আপডেট



» ‘আইনসভায় বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

» কুয়াকাটায় আটটি খাবার হোটেল মালিককে অর্থদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত

» এক মাসের মধ্যে ৭ মার্চকে ঐতিহাসিক জাতীয় দিবস ঘোষণা করতে হাইকোর্টের নির্দেশ

» মিশরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক মারা গেছেন

» জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ১০৬ রানে বাংলাদেশের জয়

» বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত করে পুনঃবিচারের উদ্যোগ নেবে

» সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ মেঘলা,কিছু এলাকায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি

» রাজধানীর পুরান ঢাকায় এনামুল-রূপনের বাড়ি যেন টাকা-সোনার ভাণ্ডার!

» পিলখানা ট্র্যাজেডির ১১ বছর আজ

» পাপিয়া ও তার স্বামী মো. মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরীর ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

 

 

সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

হংকং যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে প্রতারকদের ফাঁদে পা দেন সেই মামুনুর রশিদের গল্প

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

ঢাকা: জমি বিক্রি করে সাড়ে চার লাখ টাকা খরচা করে হংকং যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে প্রতারকদের ফাঁদে পা দেন মামুনুর রশিদ।হংকংয়ে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০ হাজার টাকা বেতনের
চাকরি পাইয়ে দেওয়ার এমন স্বপ্ন দেখান তানভীর আহম্মেদ নামের ব্যক্তিটি।কিন্তু মামুনুর রশীদ যেদিন রওনা হবেন, সেদিনই তানভীর হাওয়া। তবে পার পাননি তানভীর। আটকা পড়েছেন পুলিশের হাতে। এখন আছেন সিআইডির জিম্মায়।
পত্রিকার বিজ্ঞাপন দেখেই বিদেশে চাকরির আশায় তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ শুরু করেন। এরপর বাবার জমি বিক্রির টাকা ও শশুড়ের অবসর ভাতার টাকা সব কিছু খুইয়ে এখন নিঃস্ব তিনি। কারণ বিদেশে যাবার জন্য ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন মামুন। শুধুমাত্র মামুনুর রশিদই নয় তার মতো আরও অনেকে প্রতারিত হয়েছেন।
প্রতারণার শিকার মামুনুর রশিদ আজ ২৭ জানুয়ারি শনিবার বলেন, আমি যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছিলাম, সেটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।গত বছর সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞাপন দেখে সেখানে দেয়া নম্বরে যোগাযোগ করি। বিজ্ঞাপনে অফিসের ঠিকানা দেয়া ছিল উত্তরা এলাকার, কিন্তু ওই নাম্বারে ফোন করার পরে নাজমুল হাসান সুমন নামের একজন ফোন রিসিভ করেন। তিনি আমাকে বলেন, যমুনা ফিউচার পার্কে আগামীকাল দেখা করতে আসবেন। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম আপনাদের অফিস তো উত্তরা তবে যমুনা ফিউচার পার্কে কেন আসব? তখন নাজমুল বলে যে যমুনা ফিউচার পার্কে তাদের অনেক ক্লায়েন্ট আসে। সেখানেই তারা এই সব বিষয়ে বেশিরভাগ সময় আলোচনা করেন। এর পরের দিন নাজমুলের কথা মতো আমি যমুনা ফিউচার পার্কে যাই। সেদিন নাজমুল আমাকে তার বস তানভীর আহমেদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। তানভীর আমাকে বলেছিল যে খুব দ্রুতই আমার হংকংয়ের ভিসা হয়ে যাবে। আর সকল খরচ বিদেশে যাবার পরেই নিবেন তারা। তাদের দুজনের কথা শুনে আমি তাদেরকে বিশ্বাস করে ফেলেছিলাম। এ জন্য প্রথমে ভিসার ফি ২০ হাজার টাকা তাদেরকে দেই। এর কয়েক দিন পরে আরও ২০ হাজার টাকা চায় তানভীর। সে জানায় যে আমার ভিসা হয়ে গেছে এখন বিমানের টিকেটের দাম দিতে হবে। এর ঠিক দুইদিন পরে তানভীর আমাকে একটি ইউএস বাংলা এয়ার লাইন্সের টিকেট ও ভুয়া ভিসার কাগজ দেয়। সে বলে ১৭ সেপ্টেম্বরের আপনার ফ্লাইট, তবে সরাসরি হংকং যাওয়া যাবে না। নেপাল হয়ে হংকং যেতে হবে। আমি টিকেট হাতে পেয়ে খুশি হয়ে যাই। তবে ১৪ সেপ্টেম্বর তানভীর আমাকে জানায় যে আমার পাসপোর্টে কিছু ডলার এক্সচেঞ্জ করতে হবে। এ জন্য তারা আমার কাছে থেকে ৪ লাখ টাকা নেয়। কিন্তু সেদিন বিকেলে বলে যে আজকে ডলার এক্সচেঞ্জ করা সম্ভব হচ্ছে না, তবে আগামীকাল করা যাবে। এর পরের দিন ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ওই প্রতারকদের সঙ্গে আবারও আমার ফোনে কথা হয়। তারা বলে যে আপনার তো যাওয়ার ১৭ তারিখ, তার আগেই আপনার পাসপোর্ট ও ডলার পেয়ে যাবেন। কিন্তু ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকে তানভীর ও নাজমুলের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এর পর বুঝতে পারি যে প্রতারণার শিকার হয়েছি’। যাচাই বাছাই করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ছাপানোর দাবি করে মামুনুর রশিদ বলেন, ঘটনা বুঝতে পেরে আমি পরের দিন ভাটারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলাম। প্রায় তিন মাস পরে সিআইডি থেকে আমাকে ফোন করে
জানানো হয় যে ওই দুই প্রতারককে অন্য মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই প্রতারকদের কাছে থেকে আমার তথ্য পেয়ে আমাকে ডেকেছে সিআইডি। আমি ওই বিজ্ঞাপন দেখে আশ্বস্ত হয়েছিলাম। কারণ আমার একটা কাজ খুব দরকার ছিল। বেকার ছিলাম। তাই মাথায় কিছু আসেনি। আর এ জন্যই প্রতারিত হয়েছি। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে বিদেশে লোক পাঠানোর নামে মামুনের সঙ্গে প্রতারণা করা দুই জনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। আটককৃতরা হলো তানভীর আহম্মেদ ও নাজমুল হাসান সুমন। গত বুধবার (২৪ জানুয়ারি) তাদের আটক করা হয়।আজ শনিবার (২৭ জানুয়ারি ২০১৮)দুপুর ১২:৩০ টায় রাজধানীর মালিবাগে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান কার্যালয়ে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা
নজরুল ইসলাম তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি জানিয়েছেন। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার বলেন, এই দুইজনকে গত বুধবার আটক করা হয়েছে। তারা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে হংকং পাঠানোর নামে প্রতারণা করে আসছিল। এই দুইজন প্রথমে বিজ্ঞাপন দেয়। এরপর তাদের দেওয়া ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে তারা পরবর্তী ফাঁদ পাতে। তাদের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে লাখ লাখ টাকা
হারিয়েছেন অনেকে। আমরা কয়েকজন ভোক্তভোগীকে পেয়েছি।’ আটককৃত তানভীর ও নাজমুল সম্পর্কে মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সেনাবাহিনীতে তানভীর’র রিভার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে চাকরি হয়েছিল ২০০০ সালে। কিন্তু ভলিবল খেলতে গিয়ে পায়ে চোট পেয়ে চাকরি হারায়
সে। তার বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জে। আর নাজমুল হাসান সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইলের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি রাজবাড়ির গোয়ালন্দে।’
মোল্যা নজরুল ইসলাম জানান, বিজ্ঞাপন দেখে এই প্রতারকদের দেওয়া ফোন নম্বরে কেউ কল করলে হংকংয়ে ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখাতো তারা। অথচ তাদের নিজস্ব কোনও অফিস নেই। তারা অফিস না থাকার বিষয়টি আড়াল করে ক্লায়েন্টদের সঙ্গে দেখা করতো যমুনা ফিউচার পার্কের বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে। সেখানেই হংকং পাঠানোর জন্য মৌখিক চুক্তি করতো। এরপর চুক্তি অনুযায়ী টাকা নিয়ে শেষ পর্যন্ত বিদেশ না পাঠিয়েই লাপাত্তা হতো তারা।’ গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে ‘ভিসা প্রসেসিং’ শিরোনামে একটি বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। যেখানে হংকংয়ের কিছু ভিসা প্রসেস করা হবে বলে জানানো হয়। যোগাযোগের ঠিকানা
দেওয়া হয় উত্তরা, হাউজ বিল্ডিং, ঢাকা। সঙ্গে দেওয়া ছিল একটি ফোন নম্বর। সেই নম্বর দেখে যোগাযোগ করেন নারায়ণগঞ্জের জিয়াউল হক সুমন ও হায়াত আহম্মদ। তাদের সঙ্গে প্রতারকরা দেখা করে যমুনা ফিউচার পার্কের রেস্টুরেন্টে। হংকং পৌঁছার পর প্রত্যেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা করে দিতে হবে বলে মৌখিক চুক্তি হয়। তাদের দুজনকে জানানো হয় যে ২৪ সেপ্টেম্বর ফ্লাইটে তারা হংকং যাবেন। আর গিয়ে টাকা পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু ৮ হাজার ডলার এক্সচেঞ্জ করতে হবে আগেই। অবশেষে ২৪ সেপ্টেম্বর ফ্লাইটের দিনে জিয়াউল হক সুমন ও হায়াত আহম্মদ দুই প্রতারকের সাথে বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশ করে। এর পর তারা ৮ হাজার ইউএস ডলার দুই
প্রতারকের হাতে দিয়ে দেয়। এরপর প্রতারকরা দুই জনকে বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশ করতে বলে তারা নিজেরা ১ নং টার্মিনালের দিকে চলে যায়। এরপর ওই দুই প্রতারক আর ফিরে আসেনি। কিছুক্ষণ ফোনে আসছি-আসছি বললেও কিছুক্ষণ পর মোবাইল ফোন বন্ধ করে তারা পালিয়ে যায়।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় গত বছরের ১৪ নভেম্বর বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আর সেই ঘটনায় করা মামলাতেই তানভীর ও নাজমুলকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের গ্রেফতারের পরে ভিকটিম মামুনুর রশিদের সাথে প্রতারণার বিস্তাারিত তথ্য জানা যায়। গ্রেফতার আসামিদের আদালতে পাঠিয়ে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের বাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৯ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে ।
পত্রিকায় এমন ভুয়া বিজ্ঞাপন সম্পর্কে জানতে চাইলে মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন,পত্রিকাগুলো বিজ্ঞাপন ছাপানোর ক্ষেত্রে একটু সতর্ক হলে বা যাচাই-বাচাই করে ছাপানোর ব্যবস্থা করলে এই ধরনের প্রতারকরা এ সুযোগ নিতে পারবে না। আর যারা বিজ্ঞাপন দেখেই সরল বিশ্বাসে ফাঁদে পা দিচ্ছেন, তাদেরও প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির দেওয়া তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই চুক্তি বা লেনদেনে যাওয়া উচিত। তাহলেও এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মিনহাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আসলাম উদ্দিন এবং সহকারী পুলিশ শারমিন জাহান ।
মোঃ মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম,
ঢাকা,রোববার,২৮ জানুয়ারি, এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

© Copyright BY HBnews24.Com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com