আর্থিক সহায়তার আড়ালে রোহিঙ্গাদের টার্গেট করে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন ইসহাক খান-র‌্যাব

সিনিয়ার নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ৩-৪ বার পরিদর্শনে গিয়েছিলেন আনসার আল ইসলামের অন্যতম সদস্য ইসহাক খান। এ কয়েকবার পরিদর্শনে রোহিঙ্গাদেরকে অন্তত লক্ষাধিক টাকা আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। সহায়তার আড়ালে রোহিঙ্গাদের টার্গেট করে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন ইসহাক বলে জানিয়েছে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এমরানুল হাসান। মঙ্গলবার (১০ জুলাই) রাতে মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের মিডিয়া উইংয়ের অন্যতম সমন্বয়ক ইসহাক খানকে (৩২) আটক করে র‌্যাব-৩। এ সময় তার কাছ থেকে ল্যাপটপ ও বিপুল সংখ্যক উগ্রবাদী বই জব্দ করা হয়।
আজ বুধবার (১১ জুলাই ২০১৮) বিকাল সোয়া ৪টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইসহাককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এমরানুল হাসান সাংবাদিকদের একথা জানান। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক জানান,প্রচলিত গণতন্ত্রে অবিশ্বাসী ইসহাক ভৌগলিকভাবে এক দেশ এবং শরীয়ত আইনে বিশ্বাস করতেন। আর এজন্য লেখনির মাধ্যমে যুব সমাজকে জিহাদে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছিলেন।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে এমরানুল হাসান বলেন, ২০০৬ সালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসা থেকে দাওরা হাদিস পাস করেন ইসহাক খান। তখন থেকেই আনসার আল ইসলামের আধ্যাত্মিক নেতা জসীম উদ্দিন রাহমানীর ছাত্র ছিলেন। একপর্যায়ে ইসহাক জসীম উদ্দিন রাহমানীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন স্থানে উগ্রবাদী প্রচারণা ও দাওয়াতি কার্যক্রম শুরু করেন। খান প্রকাশনী নামে নিজস্ব প্রকাশনী সংস্থার আড়ালে জসীম উদ্দিন রাহমানীর বিভিন্ন বক্তব্য ও মতাদর্শ বই আকারে প্রকাশ করে আসছিলেন তিনি।
২০১৩ সালে জসীম উদ্দিন রাহমানী গ্রেফতার হওয়ার পর ইসহাক আত্মগোপনে চলে যায়। এরপর নিজের খান প্রকাশনী ও মাকবুল প্রকাশনী থেকে রাহমানী ও আনওয়ার আল আওলাকীসহ বিশ্বের বিভিন্ন বিতর্কিত ধর্মীয় নেতার উগ্রবাদী বইয়ের সংকলন প্রকাশ করে আসছিলেন। তিনি রাহমানী ও আওলাকীর মতবাদে উদ্বুদ্ধ। তার সংকলিত বইয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ অনলাইনে প্রচার করে যুবসমাজকে আকৃষ্ট করতেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় এসব বই সরবরাহ করতেন। পরবর্তীতে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে নিজের প্রতিষ্ঠিত মারকাজুল কোরআন ওয়াল হিকমাহ নামের মাদ্রাসার ছাত্রদের সেসব বই পড়তে বাধ্য করতেন। এমরানুল হাসান জানান,ইসহাকের ভাই আশরাফ আলী খান আনসার আল ইসলামের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও আরেক ভাই রাকিব হিজবুত তাহরীরের সদস্য। এদের মধ্যে রাকিব জেলে রয়েছেন আর আশরাফকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে ।
আনসার আল ইসলামের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে ইসহাক জড়িত কি-না জানতে চাইলে র‌্যাব-৩ অধিনায়ক বলেন, কোনো হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি-না, তার অর্থের উৎস আরো কিছু বিষয় তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

মোঃ মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম,
ঢাকা, বুধবার,১১ জুলাই,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

সর্বশেষ আপডেট



» জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামালের গাড়িতে হামলার ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

» মঙ্গলবার সকালে হোটেল সোনারগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের ইশতেহার ঘোষণা করবেন দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

» জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গিগোষ্ঠী, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নকে পুনর্বাসিত করছে

» শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মাহিন্দা রাজাপক্ষে

» ড. কামাল যে দম্ভোক্তি করেছেন তাতেই প্রমাণ করছেন তিনি বাংলাদেশের নষ্ট রাজনীতির প্রবক্তা

» সরকার আবারো একতরফা নির্বাচন করতে চায়-মির্জা ফখরুল

» শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বিতর্কিত নেতা মাহিন্দা রাজাপক্ষে

» শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে সৃষ্ট ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ড. কামাল হোসেন

» সাংবাদিকদের উদ্দেশে ‘বিরূপ’ মন্তব্য করায় ড. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

» ২৪শে ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত ১০ দিন স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

 

 

সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

আর্থিক সহায়তার আড়ালে রোহিঙ্গাদের টার্গেট করে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন ইসহাক খান-র‌্যাব

সিনিয়ার নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ৩-৪ বার পরিদর্শনে গিয়েছিলেন আনসার আল ইসলামের অন্যতম সদস্য ইসহাক খান। এ কয়েকবার পরিদর্শনে রোহিঙ্গাদেরকে অন্তত লক্ষাধিক টাকা আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। সহায়তার আড়ালে রোহিঙ্গাদের টার্গেট করে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন ইসহাক বলে জানিয়েছে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এমরানুল হাসান। মঙ্গলবার (১০ জুলাই) রাতে মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের মিডিয়া উইংয়ের অন্যতম সমন্বয়ক ইসহাক খানকে (৩২) আটক করে র‌্যাব-৩। এ সময় তার কাছ থেকে ল্যাপটপ ও বিপুল সংখ্যক উগ্রবাদী বই জব্দ করা হয়।
আজ বুধবার (১১ জুলাই ২০১৮) বিকাল সোয়া ৪টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইসহাককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এমরানুল হাসান সাংবাদিকদের একথা জানান। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক জানান,প্রচলিত গণতন্ত্রে অবিশ্বাসী ইসহাক ভৌগলিকভাবে এক দেশ এবং শরীয়ত আইনে বিশ্বাস করতেন। আর এজন্য লেখনির মাধ্যমে যুব সমাজকে জিহাদে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছিলেন।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে এমরানুল হাসান বলেন, ২০০৬ সালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসা থেকে দাওরা হাদিস পাস করেন ইসহাক খান। তখন থেকেই আনসার আল ইসলামের আধ্যাত্মিক নেতা জসীম উদ্দিন রাহমানীর ছাত্র ছিলেন। একপর্যায়ে ইসহাক জসীম উদ্দিন রাহমানীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন স্থানে উগ্রবাদী প্রচারণা ও দাওয়াতি কার্যক্রম শুরু করেন। খান প্রকাশনী নামে নিজস্ব প্রকাশনী সংস্থার আড়ালে জসীম উদ্দিন রাহমানীর বিভিন্ন বক্তব্য ও মতাদর্শ বই আকারে প্রকাশ করে আসছিলেন তিনি।
২০১৩ সালে জসীম উদ্দিন রাহমানী গ্রেফতার হওয়ার পর ইসহাক আত্মগোপনে চলে যায়। এরপর নিজের খান প্রকাশনী ও মাকবুল প্রকাশনী থেকে রাহমানী ও আনওয়ার আল আওলাকীসহ বিশ্বের বিভিন্ন বিতর্কিত ধর্মীয় নেতার উগ্রবাদী বইয়ের সংকলন প্রকাশ করে আসছিলেন। তিনি রাহমানী ও আওলাকীর মতবাদে উদ্বুদ্ধ। তার সংকলিত বইয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ অনলাইনে প্রচার করে যুবসমাজকে আকৃষ্ট করতেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় এসব বই সরবরাহ করতেন। পরবর্তীতে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে নিজের প্রতিষ্ঠিত মারকাজুল কোরআন ওয়াল হিকমাহ নামের মাদ্রাসার ছাত্রদের সেসব বই পড়তে বাধ্য করতেন। এমরানুল হাসান জানান,ইসহাকের ভাই আশরাফ আলী খান আনসার আল ইসলামের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও আরেক ভাই রাকিব হিজবুত তাহরীরের সদস্য। এদের মধ্যে রাকিব জেলে রয়েছেন আর আশরাফকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে ।
আনসার আল ইসলামের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে ইসহাক জড়িত কি-না জানতে চাইলে র‌্যাব-৩ অধিনায়ক বলেন, কোনো হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি-না, তার অর্থের উৎস আরো কিছু বিষয় তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

মোঃ মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম,
ঢাকা, বুধবার,১১ জুলাই,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

© Copyright BY HBnews24.Com

Design & Developed BY PopularITLimited