কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হলেন আমজাদ হোসেন

প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে।সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে শনিবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় আমজাদ হোসেনের মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে।
মরদেহ শহীদ মিনারে আনার পর প্রথমে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর একে একে সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী শ্রদ্ধা জানায় তাকে।অগণিত ভক্ত, অনুরাগী ফুল হাতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে শিল্পীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।সর্বস্তরের মানুষের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দুপুর ১২টা ৫০মিনিটের দিকে আমজাদ হোসেনের মরদেহ শহীদ মিনার থেকে নিয়ে যাওয়া হয় এটিএন বাংলা টেলিভিশন ভবনে। এরপর বাদ জোহর তার প্রিয় কর্মস্থল বিএফডিসিতে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে।
বিএফডিসিতে জানাজা শেষে জামালপুর নিজ গ্রামের বাড়িতে রওনা হবে গুণী এই নির্মাতার মরদেহ। সেখানে পারিবারিক কবর স্থানে তার বাবার কবরে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে ৩টায় ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আমজাদ হোসেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।আমজাদ হোসেন অভিনেতা, পরিচালক হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। ১৯৬১ সালে ‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রে অভিনয় দিয়ে চলচ্চিত্র শুরু করেন তিনি। পরে চিত্রনাট্য রচনা ও পরিচালনা শুরু করেন।প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘আগুন নিয়ে খেলা’; ছবিটি পরিচালনা করেন ১৯৬৭ সালে। পরিচালক হিসেবে ‘নয়নমণি’ (১৯৭৬), ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ (১৯৭৮), ‘ভাত দে’ (১৯৮৪) তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র।‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ ও ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্রের জন্য আমজাদ হোসেন শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেন। সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক (১৯৯৩) ও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।এ ছাড়া সাহিত্য রচনার জন্য আমজাদ হোসেন ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে দুবার অগ্রণী শিশু সাহিত্য পুরস্কার ও ২০০৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

বিনোধন ডেস্ক:,শনিবার,২২ ডিসেম্বর,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

সর্বশেষ আপডেট



» আজ ২৬ মার্চ। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস

» ব্ল্যাক আউটের মধ্য দিয়ে দেশবাসী স্মরণ করলো ১৯৭১-এর এই দিনে গণহত্যার শিকার হওয়া শহীদদের

» ব্ল্যাকআউট কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশবাসী স্মরণ করলো ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ কালোরাতে গণহত্যার শিকার হওয়া শহীদদের

» এইচএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে আগামী ১ এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে – শিক্ষামন্ত্রী

» বাঙালি জাতির জীবনে আজ এক বিভীষিকাময় বেদনাবিধুর রাত। আজ ২৫ মার্চ

» মাদারীপুরে ছাত্রলীগ নেতা লিমন মজুমদারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

» বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখায় ১২ ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

» রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে কাউসার নামের এক যুবককের লাশ উদ্ধার

» রাজধানীতে তেঁতুলিয়া পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

» প্রাথমিক শিক্ষায় তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা তুলে দেওয়ার বিষয়ে কাজ করছে কমিটি

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

 

 

সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হলেন আমজাদ হোসেন

প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে।সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে শনিবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় আমজাদ হোসেনের মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে।
মরদেহ শহীদ মিনারে আনার পর প্রথমে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর একে একে সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী শ্রদ্ধা জানায় তাকে।অগণিত ভক্ত, অনুরাগী ফুল হাতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে শিল্পীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।সর্বস্তরের মানুষের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দুপুর ১২টা ৫০মিনিটের দিকে আমজাদ হোসেনের মরদেহ শহীদ মিনার থেকে নিয়ে যাওয়া হয় এটিএন বাংলা টেলিভিশন ভবনে। এরপর বাদ জোহর তার প্রিয় কর্মস্থল বিএফডিসিতে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে।
বিএফডিসিতে জানাজা শেষে জামালপুর নিজ গ্রামের বাড়িতে রওনা হবে গুণী এই নির্মাতার মরদেহ। সেখানে পারিবারিক কবর স্থানে তার বাবার কবরে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে ৩টায় ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আমজাদ হোসেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।আমজাদ হোসেন অভিনেতা, পরিচালক হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। ১৯৬১ সালে ‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রে অভিনয় দিয়ে চলচ্চিত্র শুরু করেন তিনি। পরে চিত্রনাট্য রচনা ও পরিচালনা শুরু করেন।প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘আগুন নিয়ে খেলা’; ছবিটি পরিচালনা করেন ১৯৬৭ সালে। পরিচালক হিসেবে ‘নয়নমণি’ (১৯৭৬), ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ (১৯৭৮), ‘ভাত দে’ (১৯৮৪) তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র।‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ ও ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্রের জন্য আমজাদ হোসেন শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেন। সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক (১৯৯৩) ও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।এ ছাড়া সাহিত্য রচনার জন্য আমজাদ হোসেন ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে দুবার অগ্রণী শিশু সাহিত্য পুরস্কার ও ২০০৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

বিনোধন ডেস্ক:,শনিবার,২২ ডিসেম্বর,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

© Copyright BY HBnews24.Com

Design & Developed BY PopularITLimited