করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলাদেশে

নতুন আক্রান্ত মোট আক্রান্ত সুস্থ মৃত্যু
১৪৮৪৪ ১২,৬৪,৩২৮ ১০,৯৩,২৬৬ ২০,৯১৬

নারীপাচার চক্রের অন্যতম মূল হোতা রাফি ও তার সহযোগী ম্যাডাম সাহিদাসহ চার সদস্য গ্রেপ্তার

ভারতে নারীপাচার এবং সম্প্রতি বাংলাদেশি তরুণীকে পৈশাচিক নির্যাতনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক নারীপাচার চক্রের অন্যতম মূল হোতা আশরাফুল মণ্ডল ওরফে বস রাফি ও তার সহযোগী ম্যাডাম সাহিদাসহ চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।
সোমবার (৩১ মে) থেকে মঙ্গলবার (০১ জুন) সকাল পর্যন্ত র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা ও র‌্যাব-৩ এর অভিযানে ঝিনাইদহ সদর, যশোরের অভয়নগর ও বেনাপোল হতে নারী পাচার চক্রের চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাফি (৩০) ও সাহিদা (৪৬) ছাড়া বাকি দুজন হলেন- ইসমাইল সরদার (৩৮) ও মো. আব্দুর রহমান শেখ ওরফে আরমান শেখ (২৬)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে জানায় র‌্যাব।

রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এ চক্রটি বিভিন্ন প্রতারণামূলক ফাঁদে ফেলে এবং প্রলোভন দেখিয়ে নারী ও তরুণীদের পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করত। দেশি-বিদেশিসহ প্রায় ৫০ জন সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে তারা জড়িত রয়েছে। এই চক্রের মূলহোতা রাফি এবং গ্রেপ্তারকৃত অন্য সদস্যরা তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এছাড়া ভারতে গ্রেপ্তারকৃত টিকটক হৃদয় তার অন্যতম সরবরাহকারী বা এজেন্ট। এছাড়া তার আরও এজেন্ট বা সরবরাহকারী রয়েছে।
তিনি বলেন, ভারতে ভুক্তভােগী এক তরুণীর বাবা গত ২৭ মে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় মানবপাচার আইন ও পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যােগাযােগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে আরো কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষিতে র‍্যাব ওই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে ও জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গােয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।

এর ধারাবাহিকতায় সোমবার (৩১ মে) থেকে মঙ্গলবার (০১ জুন) পর্যন্ত র‍্যাব সদর দপ্তরের গােয়েন্দা শাখা ও র‍্যাব-৩ এর অভিযানে ঝিনাইদহ সদর, যশােরের অভয়নগর ও বেনাপোল থেকে নারী পাচার চক্রের মূলহােতা মাে. আশরাফুল ইসলাম ওরফে বস রাফিসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করতো চক্রটি। দেশি-বিদেশিসহ প্রায় ৫০ জন এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। বিগত ৮ বছরে পাঁচ শতাধিত নারীকে পাচার করা হয়েছে বিভিন্ন দেশে।

রিফাদুল ইসলাম হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় টিকটসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্রুপ খুলে বিভিন্ন বয়সের নারী ও তরুণীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এই গ্রুপের তরুণীদের মডেল বানানো ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টিকটক হৃদয় আকৃষ্ট করতেন। পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী দেশের বিভিন্ন সুপারমল, সুপারশপ ও বিউটি পার্লারে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তরুণী ও নারীদের বস রাফির সহযোগিতায় বিদেশে পাচার করতেন। পার্শ্ববর্তী দেশে তাদের পাচারের পর প্রথমে একটি সেফ হাউজে নেওয়া হতো।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, সেফ হাউজে তাদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে এবং জোর করে মাদক সেবন করতে বাধ্য করতো তারা। মাদক সেবনের পর তাদের জোর পূর্বক যৌন নির্যাতন করে এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হতো। যাতে তাদের পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করা যায়।

আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, ভিকটিমদের বৈধ বা অবৈধ উভয় পথেই সীমান্ত অতিক্রম করানো হত। তারা কয়েকটি ধাপে পাচারের কাজটি সম্পন্ন করতো।জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায় যে, ভিকটিমদের বৈধ বা অবৈধ উভয় পথেই সীমান্ত অতিক্রম করানো হত। তারা কয়েকটি ধাপে পাচারের কাজটি সম্পাদন করত।

জিজ্ঞাসাবাদেরাফি আরও জানায়, মূলত বর্ণিত ভিকটিম দুজন বাংলাদেশি নারীকে দেশে পালিয়ে আসতে সহযোগিতা করায় তাকে নির্মম অত্যাচার করা হয় এবং তাকেও বলা হয় সে যদি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তাহলে বর্ণিত ভিডিওটি তার স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে ।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রাফির বিগত ৮ বছর ধরে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে গমনাগমন রয়েছে। সে সেখানে ট্যাক্সি ড্রাইভার, হোটেলে রিসোর্ট কর্মচারী ও কাপড়ের ব্যবসা করত। সে বিগত ৫ বছর যাবত নারী পাচারের সঙ্গে জড়িত হয়। বিগত ২ বছর পূর্বে তার সঙ্গে টিকটক হৃদয়ের পরিচয় ঘটে। সে টিকটক হৃদয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত প্রায় অর্ধশতাধিক তরুণীকে ভারতে পাচার করেছে। টিকটক হৃদয় ছাড়াও তার অন্যান্য এজেন্ট রয়েছে।

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিওর ভিকটিমকে পাচারের উদ্দেশ্যে টিকটক হৃদয় প্রলুব্ধ করে। অতঃপর বস রাফি তাকে গত বছরের অক্টোবরে পাচার করে বেঙ্গালুরে নিয়ে সবুজের বাড়ির সেফ হাউসে অবস্থান করায় যেখানে ভিডিওটি ধারণ করা হয় বলে জানায়। বেঙ্গালুরে বস রাফির বেশ কয়েকটি সেফ হাউস রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাসমূহে তার সেফ হাউস রয়েছে। তন্মধ্যে ম্যাডাম সাহিদার সেফ হাউস অন্যতম। যেখানে বর্ণিত ভিকটিমকে পাচারের পূর্বে অবস্থান করানো হয়েছিল।

বস রাফির অন্যতম নারী সহযোগী ম্যাডাম সাহিদা। তার একাধিক বিয়ে হয়েছিল। সে এবং তার দুই মেয়ে যথাক্রমে সোনিয়া ও তানিয়া বর্ণিত পাচার চক্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও সক্রিয়ভাবে জড়িত। সোনিয়া ও তানিয়া বর্তমানে বেঙ্গালুরে অবস্থান করছে বলে সাহিদা জানায়। ভাইরালকৃত ভিডিওতে তানিয়াকে সহযোগী হিসেবে দেখা গিয়েছে।

সাহিদা বাংলাদেশ এলাকায় একটি সেফ হাউস পরিচালনা করছে। উক্ত বাড়িটিতে বিভিন্ন নারী সংক্রান্ত অবৈধ কার্যক্রম করা হয়। এ জাতীয় ব্যবসায় সে দীর্ঘ ১০ বছর যাবত জড়িত। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত ইসমাইল ও আরমান শেখ মূলহোতা বস রাফির বিশেষ সহযোগী হিসেবে পাচার তদারকি করে থাকে। তারাও বর্ণিত নারী পাচারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলে জানায় র‌্যাব।
ঢাকা,মঙ্গলবার,০১ জুন,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

 

Facebook Comments Box

সর্বশেষ আপডেট



» আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অন্তঃসত্ত্বাদের টিকা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট একটা সিদ্ধান্ত চান হাইকোর্ট

» জনগণের সহযোগিতা ছাড়া এডিস মশা নিধন সম্ভব নয়-মেয়র আতিকুল ইসলাম

» পিয়াসার পর আরেক মডেল মরিয়ম আক্তার মৌ​আটক,বিপুল পরিমাণ মদ, ইয়াবা, সিসা উদ্ধার

» অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার (কোভিশিল্ড) দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু

» রাজধানীর বারিধারার বাসা থেকে মডেল পিয়াসাকে আটক করেছে ডিবি। মদ, ইয়াব ও সিসা উদ্ধার।

» ভূমধ্যসাগর থেকে ইউরোপে যাওয়ার পথে ৩৯৪ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার

» নতুন করে আরও ১৪৮৪৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত,মৃত্যু ২৩১ জন

» ৫ই আগস্টের পর দোকানপাট ও মার্কেট খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি।

» অসংখ্য ভুয়া পরিচয়ে পরিচিত ইশরাত রফিক ঈশিতা আটক

» রাজধানীতে বেপরোয়া মাইক্রোবাসের চাপায় সেখানে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ নিহত

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

 

 

সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ সোমবার, ২ আগস্ট ২০২১ খ্রিষ্টাব্দ, ১৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

নারীপাচার চক্রের অন্যতম মূল হোতা রাফি ও তার সহযোগী ম্যাডাম সাহিদাসহ চার সদস্য গ্রেপ্তার




ভারতে নারীপাচার এবং সম্প্রতি বাংলাদেশি তরুণীকে পৈশাচিক নির্যাতনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক নারীপাচার চক্রের অন্যতম মূল হোতা আশরাফুল মণ্ডল ওরফে বস রাফি ও তার সহযোগী ম্যাডাম সাহিদাসহ চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।
সোমবার (৩১ মে) থেকে মঙ্গলবার (০১ জুন) সকাল পর্যন্ত র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা ও র‌্যাব-৩ এর অভিযানে ঝিনাইদহ সদর, যশোরের অভয়নগর ও বেনাপোল হতে নারী পাচার চক্রের চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাফি (৩০) ও সাহিদা (৪৬) ছাড়া বাকি দুজন হলেন- ইসমাইল সরদার (৩৮) ও মো. আব্দুর রহমান শেখ ওরফে আরমান শেখ (২৬)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে জানায় র‌্যাব।

রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এ চক্রটি বিভিন্ন প্রতারণামূলক ফাঁদে ফেলে এবং প্রলোভন দেখিয়ে নারী ও তরুণীদের পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করত। দেশি-বিদেশিসহ প্রায় ৫০ জন সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে তারা জড়িত রয়েছে। এই চক্রের মূলহোতা রাফি এবং গ্রেপ্তারকৃত অন্য সদস্যরা তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এছাড়া ভারতে গ্রেপ্তারকৃত টিকটক হৃদয় তার অন্যতম সরবরাহকারী বা এজেন্ট। এছাড়া তার আরও এজেন্ট বা সরবরাহকারী রয়েছে।
তিনি বলেন, ভারতে ভুক্তভােগী এক তরুণীর বাবা গত ২৭ মে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় মানবপাচার আইন ও পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যােগাযােগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে আরো কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষিতে র‍্যাব ওই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে ও জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গােয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।

এর ধারাবাহিকতায় সোমবার (৩১ মে) থেকে মঙ্গলবার (০১ জুন) পর্যন্ত র‍্যাব সদর দপ্তরের গােয়েন্দা শাখা ও র‍্যাব-৩ এর অভিযানে ঝিনাইদহ সদর, যশােরের অভয়নগর ও বেনাপোল থেকে নারী পাচার চক্রের মূলহােতা মাে. আশরাফুল ইসলাম ওরফে বস রাফিসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করতো চক্রটি। দেশি-বিদেশিসহ প্রায় ৫০ জন এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। বিগত ৮ বছরে পাঁচ শতাধিত নারীকে পাচার করা হয়েছে বিভিন্ন দেশে।

রিফাদুল ইসলাম হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় টিকটসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্রুপ খুলে বিভিন্ন বয়সের নারী ও তরুণীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এই গ্রুপের তরুণীদের মডেল বানানো ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টিকটক হৃদয় আকৃষ্ট করতেন। পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী দেশের বিভিন্ন সুপারমল, সুপারশপ ও বিউটি পার্লারে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তরুণী ও নারীদের বস রাফির সহযোগিতায় বিদেশে পাচার করতেন। পার্শ্ববর্তী দেশে তাদের পাচারের পর প্রথমে একটি সেফ হাউজে নেওয়া হতো।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, সেফ হাউজে তাদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে এবং জোর করে মাদক সেবন করতে বাধ্য করতো তারা। মাদক সেবনের পর তাদের জোর পূর্বক যৌন নির্যাতন করে এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হতো। যাতে তাদের পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করা যায়।

আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, ভিকটিমদের বৈধ বা অবৈধ উভয় পথেই সীমান্ত অতিক্রম করানো হত। তারা কয়েকটি ধাপে পাচারের কাজটি সম্পন্ন করতো।জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায় যে, ভিকটিমদের বৈধ বা অবৈধ উভয় পথেই সীমান্ত অতিক্রম করানো হত। তারা কয়েকটি ধাপে পাচারের কাজটি সম্পাদন করত।

জিজ্ঞাসাবাদেরাফি আরও জানায়, মূলত বর্ণিত ভিকটিম দুজন বাংলাদেশি নারীকে দেশে পালিয়ে আসতে সহযোগিতা করায় তাকে নির্মম অত্যাচার করা হয় এবং তাকেও বলা হয় সে যদি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তাহলে বর্ণিত ভিডিওটি তার স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে ।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রাফির বিগত ৮ বছর ধরে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে গমনাগমন রয়েছে। সে সেখানে ট্যাক্সি ড্রাইভার, হোটেলে রিসোর্ট কর্মচারী ও কাপড়ের ব্যবসা করত। সে বিগত ৫ বছর যাবত নারী পাচারের সঙ্গে জড়িত হয়। বিগত ২ বছর পূর্বে তার সঙ্গে টিকটক হৃদয়ের পরিচয় ঘটে। সে টিকটক হৃদয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত প্রায় অর্ধশতাধিক তরুণীকে ভারতে পাচার করেছে। টিকটক হৃদয় ছাড়াও তার অন্যান্য এজেন্ট রয়েছে।

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিওর ভিকটিমকে পাচারের উদ্দেশ্যে টিকটক হৃদয় প্রলুব্ধ করে। অতঃপর বস রাফি তাকে গত বছরের অক্টোবরে পাচার করে বেঙ্গালুরে নিয়ে সবুজের বাড়ির সেফ হাউসে অবস্থান করায় যেখানে ভিডিওটি ধারণ করা হয় বলে জানায়। বেঙ্গালুরে বস রাফির বেশ কয়েকটি সেফ হাউস রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাসমূহে তার সেফ হাউস রয়েছে। তন্মধ্যে ম্যাডাম সাহিদার সেফ হাউস অন্যতম। যেখানে বর্ণিত ভিকটিমকে পাচারের পূর্বে অবস্থান করানো হয়েছিল।

বস রাফির অন্যতম নারী সহযোগী ম্যাডাম সাহিদা। তার একাধিক বিয়ে হয়েছিল। সে এবং তার দুই মেয়ে যথাক্রমে সোনিয়া ও তানিয়া বর্ণিত পাচার চক্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও সক্রিয়ভাবে জড়িত। সোনিয়া ও তানিয়া বর্তমানে বেঙ্গালুরে অবস্থান করছে বলে সাহিদা জানায়। ভাইরালকৃত ভিডিওতে তানিয়াকে সহযোগী হিসেবে দেখা গিয়েছে।

সাহিদা বাংলাদেশ এলাকায় একটি সেফ হাউস পরিচালনা করছে। উক্ত বাড়িটিতে বিভিন্ন নারী সংক্রান্ত অবৈধ কার্যক্রম করা হয়। এ জাতীয় ব্যবসায় সে দীর্ঘ ১০ বছর যাবত জড়িত। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত ইসমাইল ও আরমান শেখ মূলহোতা বস রাফির বিশেষ সহযোগী হিসেবে পাচার তদারকি করে থাকে। তারাও বর্ণিত নারী পাচারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলে জানায় র‌্যাব।
ঢাকা,মঙ্গলবার,০১ জুন,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

 

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

© Hbnews24 || Phone: +8801714043198, email: hbnews24@gmail.com

Translate »
error: Alert: Content is protected !!