করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলাদেশে

নতুন আক্রান্ত মোট আক্রান্ত সুস্থ মৃত্যু
৬৭৯ ২০,২৪,৪৮৯ ১৯,৬৪,৫০১ ২৯,৩৬২

জ্বালানী তেলের দাম বাড়ানো যেনো মরার উপর খারাপ ঘা – গোলাম মোহাম্মদ কাদের

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জনবন্ধু গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, সরকার নাকি আইএমএফ এর পরামর্শে জ্বালানী তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, আইএমএফ যদি মানুষ হত্যা করতে বলে, তাহলে কী সরকার মানুষ হত্যা করবে ? সরকার নজিরবিহীন ভাবে জ্বালানী তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এটাকে আমরা বলেছি নির্দয় সিদ্ধান্ত। মানুষের প্রতি ভালোবাসা থাকলে সরকার এমন গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। জ্বালানী তেলের দাম বাড়ানো যেনো মরার উপর খারাপ ঘা।
আজ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে জাতীয় পার্টি কাকরাইলস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। তেলে দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় পার্টি। ১০ আগস্ট দেশব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

এ সময় গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরও বলেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এর দেশ পরিচালনার সময় পেট্রোল, অকটেন, ডিজেলের দাম কমিয়েছিলেন। এরশাদ তেলের উপর ট্যাক্স নিতেন না। তেল এমন জিনিস এর দাম বাড়লে জনগণের হৃদয়ে আঘাত করে। আমরা মানুষের হৃদয়ে আঘাত সহ্য করতে পারি না। তেলের দাম যখন নিম্নমূখী তখন হঠাৎ করে দাম বাড়াতে হলো ? বিশ্ববাজারে যখন জ্বালানী তেলের মূল্য ১০৯ ডলার থেকে কমিয়ে ৮৯ ডলার হয়েছে, তখন কেন দেশে তেলের মূল্য বাড়াতে হবে ? তিনি বলেন যখন তেলের মূল্য কম ছিল, তখন হাজার কোটি টাকা লাভ হয়েছে, সেই টাকা গেলো কোথায় ? লুটপাট হয়েছে ? করোনা ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এমন অবস্থায় জ্বালানী তেলের দাম বাড়িয়ে মানুষের জীবনকে দুর্বল ও দুর্বিসহ করে তোলা হয়েছে।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, তেলের দাম বাড়ালেই পরিবহণ শ্রমিকরা নিজেরাই এক ধরনের হরতাল ডেকে গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়। তখন সরকার হাত-পা ধরে কিলোমিটারে ৩৫ থেকে ৪০ পয়সা বাড়িয়ে দেয়। আর পরিবহণ শ্রমিকরা কয়েকগুন বেশি টাকা আদায় করছে। যদি কেউ অতিরিক্ত ভাড়া দিতে রাজী না হয়, তাকে পথে নামিয়ে দেয়া হয়। জনগণের এই দুর্ভোগ দেখার যেনো কেউ নেই।

এসময় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরো বলেন, রেন্টাল, কুইক রেন্টাল আর ক্যাপাসিটি চার্জের নামে উৎপাদন ছাড়াই হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হচ্ছে। আমরা জ্বালানী খাতের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে বলছি। তিনি বলেন, বিশ্ব ব্যাংক আর আইএমএফ-কে সকাল সন্ধ্যা গালাগাল করলো সরকার। আমাদের নাকি অনেক রিজার্ভ আছে, কিন্তু এখন কেন ঋণের জন্য ধর্ণা দিচ্ছে ? আমাদের এত রিজার্ভ গেলো কোথায় ?

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, আগে যখন বলেছি দেশ শ্রীলঙ্কার দিকে যাচ্ছে। তখন আমাকে বলা হলো আমি নাকি মুর্খ। কিন্তু এখন এই অবস্থা কেন ? তিনি বলেন শ্রীলঙ্কার সঙ্গে কিছু মিল রয়েছে আমাদের। সেখানেও স্বৈরশাসন চলছে, জনগনের কাছে শাসকদের কোন জবাবদিহি নেই আর মেগা প্রকল্পের নামে লুটপাট ও দুর্নীতি চলছে। তিনি বলেন, জ্বালানী তেলের মূল্য পূর্বের জায়গায় আনতে হবে। অনেক দেশের তেলের মূল্যবৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু সেসব দেশে রেশন দেশে রেশন দেয়া হয় আর দুঃসময়ে নগদ টাকাও দেয়া হয় জনগণকে। সেসকল দেশে মানুষের প্রতি সরকারের জবাবদিহিতা আছে। আমাদের দেশের মানুষ প্রতিনিধি নির্বাচন করেন, এখন প্রতিনিধিরা রাজা হয়ে গেছেন, সাধারণ মানুষ হয়েছে প্রজা। আমরা আর রাজা চাইনা, দেশের মানুষ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার ফিরে পেতে চায়। তাই, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায় দেশের মানুষ।
এসময় গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন আরো বলেন, প্রত্যেকটি ব্যাংকে টাকা লুটপাট করা হয়েছে। ঋণের টাকা না দিলেও খেলাপি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে অনেককে। আমরা এই তালিকা চাই। সরকার বলছে, রিজার্ভ রয়েছে, কিন্তু আমরা দেখছি সরকার টাকার জন্য এদিক ওদিক ছুটাছুটি করছে।

আমরা শ্রীলঙ্কার মতো স্বৈরশাসন চাই না, মেগা প্রকল্প চাই না। মানুষের জন্য রেশন চালু করা হোক। তিনি বলেন, হাসপাতালের নামে বড় বড় ভবন করা হচ্ছে, সেখানে ডাক্তার নেই, যন্ত্রপাতি নেই। তাহলে কেনো ভবন করলেন ? লুটপাটের জন্যই ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। লুটপাটের টাকা বিদেশে পাচার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ৮০ হাজার কোটির টাকা সুদ দিতে হচ্ছে। ২/১ বছর পর সুদ ও আসল পরিশোধ করতে মহা বিপদের সামনে পড়বে দেশ। তিনি বলেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষমাত্রা পূরণ না হলে ঋণ করে বেতন-ভাতা দিতে হবে।
জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, গতবাজেট অধিবেশনে সরকারের পক্ষ যেতে ফলা হলো, সব ঠিক আছে। ২ মাসের মধ্যে কি হলো ? আইএমএফ থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে কেনো। বিনিয়োগকারীরা জানেন না, তাদের কি হবে। কানাডার বেগমপাড়ায় হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার মানুষের কথা চিন্তা করছে না, কৃষকের কথা চিন্তা করছে না। তিনি বলেন, মেগা প্রকল্পের খরচ কমান, মানুষের কথা ভাবুন। পার্টির চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করবো, চলুন আমরা রাজপথে থাকি, যতক্ষণ দাবী আদায় না হয়।

জাতীয় পার্টি মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেন, মানুষের আর পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের ইতিহাসে এতো বেশি তেলের দাম আর কখনো বাড়েনি। আমরা সরকারের সঙ্গে নির্বাচনী জোট করেছিলাম। তারা এতো লুটপাট, দুর্নীতি করবে এটা ভাবতেও পারিনি। গতকাল পরিকল্পনা মন্ত্রী বললেন, তারা আইএমএফ’র পরামর্শে দাম বাড়িয়েছে, অর্থমন্ত্রী বললেন আমরা আন্তর্জাতিক বাজার বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধি করেছি। তাদের কারো কথার ঠিক নেই। প্রধানমন্ত্রী আপনি গণভবনে গন্ডির মধ্যে সঠিক অবস্থা জানতে পারছেন না। আপনার দলের লোকজন কিভাবে লুটপাট করছে। সঠিক অবস্থা জেনে নিন, না হলে জাতীয় পার্টি মাঠ থেকে সরে যাবে না।
কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি বলেন, আমার মনে হয় দেশে সরকার নেই, সরকার থাকলে এভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে পারতো না। সরকার জনগণের কথা ভাবে না। সরকারকে ঘিরে রেখেছে কিছু আমলা ব্যবসায়ী। তাদের কথায় চলে সরকার। সমস্ত ব্যাংক লুটপাট করে বিদেশে টাকার পাহাড় গড়ছে।
কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, পল্লীবন্ধু জ্বালানী তেলের মূল্য কমিয়ে মানুষের প্রতি ভালোবাসা দেখেয়েছেন। জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারনে দেশের মানুষে আবস্থা চরম অবনতি হয়েছে। জ্বালানী তেলের মূল্য না কমালে আমরা ঘরে ফিরে যাবো না।

কো-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেছেন, অনতিবিলম্বে তেলের দাম কমিয়ে দিন। না হলে জাতীয় পার্টি ঘরে বসে থাকতে পারে না। জাপা জনগণের রাজনীতি করে, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে। জনগণের এই সংকটে জাতীয় পার্টি রাজপথে থাকবেই।

উক্ত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য- আলহাজ্ব সাহিদুর রহমান টেপা, ফকরুল ইমাম এমপি, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম সেন্টু, এড. মোঃ রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, নাজমা আখতার এমপি, আলমগীর সিকদার লোটন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মিয়া, এমরান হোসেন মিয়া, মোঃ জহিরুল ইসলাম জহির, মোস্তফা আল মাহমুদ, মোঃ জহিরুল আলম রুবেল, মাননীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা- অধ্যাক্ষা রওশন আরা মান্নান এমপি, ড. মোঃ নূরুল আজহার শামীম প্রমুখ।
ঢাকা,সোমবার ০৮আগষ্ট,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

 

 

সর্বশেষ আপডেট



» ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবির ৪২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী কেক কেটে পালিত॥

» নতুন করে আরও ৬৭৯ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত,দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

» গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫০৬ জন নতুন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি

» আবারও লাঠি নিয়ে মাঠে নামলে বিএনপির খবর আছে জাতীয় পতাকার অবমাননা করে রাজনীতি মেনে নেয়া হবে না

» তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আর ফিরে আসার সুযোগ নেই

» রাজধানীতে অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়ে এক ব্যবসায়ী মারা গেছেন

» পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় জাতীয় পার্টির নেতাকে কুপিয়ে পা বিচ্ছিন্ন করেছে সন্ত্রাসীরা

» মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চির আরও ৩ বছরের কারাদণ্ড

» ৭৬ পাউন্ড কেক কেটে প্রধান মন্ত্রীর  জন্মদিন পালন করল মাধবদী শহর আওয়ামীলীগ।

» অভিনব কায়দায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসা-বাড়ি ও দোকানের গ্রিল কেটে চুরি করতেন আজিজুল

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

 

 

 

প্রকাশক ও সম্পাদক: কাজী আবু তাহের মো. নাছির।

 

প্রধান নির্বাহী সম্পাদক: আফতাব খন্দকার (রনি)

 

সহ বার্তা সম্পাদক: কাজী আতিকুর রহমান আতিক (আবির)

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ, ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

জ্বালানী তেলের দাম বাড়ানো যেনো মরার উপর খারাপ ঘা – গোলাম মোহাম্মদ কাদের




জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জনবন্ধু গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, সরকার নাকি আইএমএফ এর পরামর্শে জ্বালানী তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, আইএমএফ যদি মানুষ হত্যা করতে বলে, তাহলে কী সরকার মানুষ হত্যা করবে ? সরকার নজিরবিহীন ভাবে জ্বালানী তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এটাকে আমরা বলেছি নির্দয় সিদ্ধান্ত। মানুষের প্রতি ভালোবাসা থাকলে সরকার এমন গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। জ্বালানী তেলের দাম বাড়ানো যেনো মরার উপর খারাপ ঘা।
আজ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে জাতীয় পার্টি কাকরাইলস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। তেলে দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় পার্টি। ১০ আগস্ট দেশব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

এ সময় গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরও বলেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এর দেশ পরিচালনার সময় পেট্রোল, অকটেন, ডিজেলের দাম কমিয়েছিলেন। এরশাদ তেলের উপর ট্যাক্স নিতেন না। তেল এমন জিনিস এর দাম বাড়লে জনগণের হৃদয়ে আঘাত করে। আমরা মানুষের হৃদয়ে আঘাত সহ্য করতে পারি না। তেলের দাম যখন নিম্নমূখী তখন হঠাৎ করে দাম বাড়াতে হলো ? বিশ্ববাজারে যখন জ্বালানী তেলের মূল্য ১০৯ ডলার থেকে কমিয়ে ৮৯ ডলার হয়েছে, তখন কেন দেশে তেলের মূল্য বাড়াতে হবে ? তিনি বলেন যখন তেলের মূল্য কম ছিল, তখন হাজার কোটি টাকা লাভ হয়েছে, সেই টাকা গেলো কোথায় ? লুটপাট হয়েছে ? করোনা ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এমন অবস্থায় জ্বালানী তেলের দাম বাড়িয়ে মানুষের জীবনকে দুর্বল ও দুর্বিসহ করে তোলা হয়েছে।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, তেলের দাম বাড়ালেই পরিবহণ শ্রমিকরা নিজেরাই এক ধরনের হরতাল ডেকে গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়। তখন সরকার হাত-পা ধরে কিলোমিটারে ৩৫ থেকে ৪০ পয়সা বাড়িয়ে দেয়। আর পরিবহণ শ্রমিকরা কয়েকগুন বেশি টাকা আদায় করছে। যদি কেউ অতিরিক্ত ভাড়া দিতে রাজী না হয়, তাকে পথে নামিয়ে দেয়া হয়। জনগণের এই দুর্ভোগ দেখার যেনো কেউ নেই।

এসময় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরো বলেন, রেন্টাল, কুইক রেন্টাল আর ক্যাপাসিটি চার্জের নামে উৎপাদন ছাড়াই হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হচ্ছে। আমরা জ্বালানী খাতের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে বলছি। তিনি বলেন, বিশ্ব ব্যাংক আর আইএমএফ-কে সকাল সন্ধ্যা গালাগাল করলো সরকার। আমাদের নাকি অনেক রিজার্ভ আছে, কিন্তু এখন কেন ঋণের জন্য ধর্ণা দিচ্ছে ? আমাদের এত রিজার্ভ গেলো কোথায় ?

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, আগে যখন বলেছি দেশ শ্রীলঙ্কার দিকে যাচ্ছে। তখন আমাকে বলা হলো আমি নাকি মুর্খ। কিন্তু এখন এই অবস্থা কেন ? তিনি বলেন শ্রীলঙ্কার সঙ্গে কিছু মিল রয়েছে আমাদের। সেখানেও স্বৈরশাসন চলছে, জনগনের কাছে শাসকদের কোন জবাবদিহি নেই আর মেগা প্রকল্পের নামে লুটপাট ও দুর্নীতি চলছে। তিনি বলেন, জ্বালানী তেলের মূল্য পূর্বের জায়গায় আনতে হবে। অনেক দেশের তেলের মূল্যবৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু সেসব দেশে রেশন দেশে রেশন দেয়া হয় আর দুঃসময়ে নগদ টাকাও দেয়া হয় জনগণকে। সেসকল দেশে মানুষের প্রতি সরকারের জবাবদিহিতা আছে। আমাদের দেশের মানুষ প্রতিনিধি নির্বাচন করেন, এখন প্রতিনিধিরা রাজা হয়ে গেছেন, সাধারণ মানুষ হয়েছে প্রজা। আমরা আর রাজা চাইনা, দেশের মানুষ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার ফিরে পেতে চায়। তাই, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায় দেশের মানুষ।
এসময় গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন আরো বলেন, প্রত্যেকটি ব্যাংকে টাকা লুটপাট করা হয়েছে। ঋণের টাকা না দিলেও খেলাপি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে অনেককে। আমরা এই তালিকা চাই। সরকার বলছে, রিজার্ভ রয়েছে, কিন্তু আমরা দেখছি সরকার টাকার জন্য এদিক ওদিক ছুটাছুটি করছে।

আমরা শ্রীলঙ্কার মতো স্বৈরশাসন চাই না, মেগা প্রকল্প চাই না। মানুষের জন্য রেশন চালু করা হোক। তিনি বলেন, হাসপাতালের নামে বড় বড় ভবন করা হচ্ছে, সেখানে ডাক্তার নেই, যন্ত্রপাতি নেই। তাহলে কেনো ভবন করলেন ? লুটপাটের জন্যই ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। লুটপাটের টাকা বিদেশে পাচার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ৮০ হাজার কোটির টাকা সুদ দিতে হচ্ছে। ২/১ বছর পর সুদ ও আসল পরিশোধ করতে মহা বিপদের সামনে পড়বে দেশ। তিনি বলেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষমাত্রা পূরণ না হলে ঋণ করে বেতন-ভাতা দিতে হবে।
জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, গতবাজেট অধিবেশনে সরকারের পক্ষ যেতে ফলা হলো, সব ঠিক আছে। ২ মাসের মধ্যে কি হলো ? আইএমএফ থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে কেনো। বিনিয়োগকারীরা জানেন না, তাদের কি হবে। কানাডার বেগমপাড়ায় হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার মানুষের কথা চিন্তা করছে না, কৃষকের কথা চিন্তা করছে না। তিনি বলেন, মেগা প্রকল্পের খরচ কমান, মানুষের কথা ভাবুন। পার্টির চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করবো, চলুন আমরা রাজপথে থাকি, যতক্ষণ দাবী আদায় না হয়।

জাতীয় পার্টি মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেন, মানুষের আর পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের ইতিহাসে এতো বেশি তেলের দাম আর কখনো বাড়েনি। আমরা সরকারের সঙ্গে নির্বাচনী জোট করেছিলাম। তারা এতো লুটপাট, দুর্নীতি করবে এটা ভাবতেও পারিনি। গতকাল পরিকল্পনা মন্ত্রী বললেন, তারা আইএমএফ’র পরামর্শে দাম বাড়িয়েছে, অর্থমন্ত্রী বললেন আমরা আন্তর্জাতিক বাজার বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধি করেছি। তাদের কারো কথার ঠিক নেই। প্রধানমন্ত্রী আপনি গণভবনে গন্ডির মধ্যে সঠিক অবস্থা জানতে পারছেন না। আপনার দলের লোকজন কিভাবে লুটপাট করছে। সঠিক অবস্থা জেনে নিন, না হলে জাতীয় পার্টি মাঠ থেকে সরে যাবে না।
কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি বলেন, আমার মনে হয় দেশে সরকার নেই, সরকার থাকলে এভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে পারতো না। সরকার জনগণের কথা ভাবে না। সরকারকে ঘিরে রেখেছে কিছু আমলা ব্যবসায়ী। তাদের কথায় চলে সরকার। সমস্ত ব্যাংক লুটপাট করে বিদেশে টাকার পাহাড় গড়ছে।
কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, পল্লীবন্ধু জ্বালানী তেলের মূল্য কমিয়ে মানুষের প্রতি ভালোবাসা দেখেয়েছেন। জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারনে দেশের মানুষে আবস্থা চরম অবনতি হয়েছে। জ্বালানী তেলের মূল্য না কমালে আমরা ঘরে ফিরে যাবো না।

কো-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেছেন, অনতিবিলম্বে তেলের দাম কমিয়ে দিন। না হলে জাতীয় পার্টি ঘরে বসে থাকতে পারে না। জাপা জনগণের রাজনীতি করে, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে। জনগণের এই সংকটে জাতীয় পার্টি রাজপথে থাকবেই।

উক্ত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য- আলহাজ্ব সাহিদুর রহমান টেপা, ফকরুল ইমাম এমপি, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম সেন্টু, এড. মোঃ রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, নাজমা আখতার এমপি, আলমগীর সিকদার লোটন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মিয়া, এমরান হোসেন মিয়া, মোঃ জহিরুল ইসলাম জহির, মোস্তফা আল মাহমুদ, মোঃ জহিরুল আলম রুবেল, মাননীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা- অধ্যাক্ষা রওশন আরা মান্নান এমপি, ড. মোঃ নূরুল আজহার শামীম প্রমুখ।
ঢাকা,সোমবার ০৮আগষ্ট,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

প্রকাশক ও সম্পাদক: কাজী আবু তাহের মো. নাছির।

 

প্রধান নির্বাহী সম্পাদক: আফতাব খন্দকার (রনি)

 

সহ বার্তা সম্পাদক: কাজী আতিকুর রহমান আতিক (আবির)

প্রধান কার্যালয়: গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২ | ব্রাঞ্চ অফিস: ২৪৭ পশ্চিম মনিপুর, ২য় তলা, মিরপুর-২, ঢাকা -১২১৬।

Phone: +8801714043198, Email: hbnews24@gmail.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © HBnews24.com