উপকূল থেকে বিলুপ্তির পথে জাতীয় পাখি দোয়েল

উপকূল থেকে বিলুপ্তির পথে জাতীয় পাখি দোয়েল 221

কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি,২৮ সেপ্টেম্বর।।জাতীয় পাখি দোয়েল। বেশির ভাগই একাকী এর বিচরণ। এটি অত্যন্ত অস্থির পাখি। কোথাও একদন্ড বসে থাকার সময় নেই, সারাদিন ওড়াউড়ি। এক সময় সমুদ্র উপকূলবর্তী পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার গ্রামগঞ্জের বন-জঙ্গলে গাছের ডালে ডালে অবাধ বিচরন ছিল। চিরচেনা এ পাখি এখন আর দেখা যায়না। কানে বাজে না এর সু-মিষ্টি সুর। ক্রমশ পরিবেশ দূষণ, নির্বিচারে বন থেকে গাছ কাটা, জমিতে অধিক পরিমানে কিটনাশক ব্যবহার, পাখির
বিচরণ ক্ষেত্র আর খাদ্য সংকট সহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দোয়ল পাখি
আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে যেতে বসেছে। জানা গেছে, বাংলাদেশের পাখির তালিকায় মোট ৭৪৪ টি পাখি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ সমস্ত পাখির মধ্যে গত দুই শতকে বাংলাদেশে ছিল (কিন্তু এখন নেই) এবং বর্তমানে আছে এমন পাখির সংখ্যা মোট ৬৫০টি। এর মধ্যে ৩০টি বর্তমানে বিলুপ্ত। অবশিষ্ট ৬২০টি প্রজাতির পাখি
সাম্প্রতিককালে এদেশে দেখা গেছে বলে অনলাইন উইকিপিডিয়াতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পাখি গবেষকরা। পরিবেশবীদরা জানান, পাখি কমে যাওয়ার কারন শুধুই প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়, এখানে মানব সৃষ্ট অনেক কারন রয়েছে। এর মধ্যে ফলজ গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, তাই সমস্যায় পড়েছে পাখিরা। পাখির বাচ্চারা বিভিন্ন ধরনের
ছোট ছোট পোকামাকড় খায়। পোকামাকড়ের সংখ্যা কমে যাওয়ায় তাদের
জীবনধারণও সঙ্কটে পরে আনেক পাখি অন্যত্র চলে গেছে।
জীববিজ্ঞানবীদ শিক্ষক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, গত এক দশক আগেও এ অঞ্চলে দোয়েল পাখি বুক ফুলিয়ে মিষ্টি সুরে ডেকে বেড়াতো।
আর সব সময় মানুষের সান্নিধ্যে থাকতে দেখা যেত এ পাখি। আবার মাটিতে লাফিয়ে লাফিয়ে খাদ্য সংগ্রহ করতো। কিন্তু আজ কালের পরিক্রমায় প্রায় বিলুপ্তির পথে। যেন চোখের আড়াল হয়ে গেছে। জাতীয় পুরুস্কার প্রাপ্ত পাখী প্রেমী মো.হান্নান খান বলেন, দোয়েল আমদের জাতীয় পাখি। এখন নাই বললেই চলে। এর কারন হিসাবে তিনি আরো বলেন, শিল্পায়ন, নগরায়ন ও যানবাহনের শব্দদূষনে প্রতিনিয়ত পাখিরা অন্যত্র চলে যাচ্ছে। এছাড়া নির্বিচারে বৃক্ষনিধনের মাধ্যমে পাখিদের আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে। কৃষকরা অধিক ফসল পাওয়ার আসায় ক্ষেতে ক্ষতিকারণ কীটনাশক প্রয়োগে খাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছে। আবার পাখি শিকারীরা বেশ পাখি মেরে ফেলেছে। এর ফলে দিন দিন এ অঞ্চল থেকে চিরচেনা অনেক প্রজাতির পাখিই প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
উত্তম কুমার হাওলাদার, (কলাপাড়া)প্রতিনিধি
পটুয়াখালী,শুক্রবার,২৮ সেপ্টম্বর,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments
Download Premium WordPress Themes Free
Premium WordPress Themes Download
Download Best WordPress Themes Free Download
Download WordPress Themes Free
free download udemy course

সর্বশেষ আপডেট



» লঙ্কানদের বিপক্ষে তিন ম্যাচে ওয়ানডে সিরিজে দলকে নেতৃত্ব দিবেন তামিম ইকবাল খান।

» রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি মিন্নির

» লন্ডনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

» ইনজুরিতে শ্রীলঙ্কা সফরে যাওয়া হচ্ছে না মাশরাফির, শ্রীলঙ্কা সিরিজের জন্য নতুন অধিনায়ক তামিম ইকবাল

» দেশের বিভিন্ন স্থানে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে ভাঙছে নদী, বন্যা ও শহররক্ষা বাঁধ

» প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ

» যেকোনো মূল্যে ডেঙ্গুকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

» রিশান ফরাজীর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

» সরকারি সফরে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

» সমাজ থেকে জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ ও হিংসা-বিদ্বেষ দূর করতে সংস্কৃতির বিকাশ খুবই জরুরি-রাষ্ট্রপতি

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

 

 

সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

উপকূল থেকে বিলুপ্তির পথে জাতীয় পাখি দোয়েল

উপকূল থেকে বিলুপ্তির পথে জাতীয় পাখি দোয়েল 221

কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি,২৮ সেপ্টেম্বর।।জাতীয় পাখি দোয়েল। বেশির ভাগই একাকী এর বিচরণ। এটি অত্যন্ত অস্থির পাখি। কোথাও একদন্ড বসে থাকার সময় নেই, সারাদিন ওড়াউড়ি। এক সময় সমুদ্র উপকূলবর্তী পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার গ্রামগঞ্জের বন-জঙ্গলে গাছের ডালে ডালে অবাধ বিচরন ছিল। চিরচেনা এ পাখি এখন আর দেখা যায়না। কানে বাজে না এর সু-মিষ্টি সুর। ক্রমশ পরিবেশ দূষণ, নির্বিচারে বন থেকে গাছ কাটা, জমিতে অধিক পরিমানে কিটনাশক ব্যবহার, পাখির
বিচরণ ক্ষেত্র আর খাদ্য সংকট সহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দোয়ল পাখি
আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে যেতে বসেছে। জানা গেছে, বাংলাদেশের পাখির তালিকায় মোট ৭৪৪ টি পাখি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ সমস্ত পাখির মধ্যে গত দুই শতকে বাংলাদেশে ছিল (কিন্তু এখন নেই) এবং বর্তমানে আছে এমন পাখির সংখ্যা মোট ৬৫০টি। এর মধ্যে ৩০টি বর্তমানে বিলুপ্ত। অবশিষ্ট ৬২০টি প্রজাতির পাখি
সাম্প্রতিককালে এদেশে দেখা গেছে বলে অনলাইন উইকিপিডিয়াতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পাখি গবেষকরা। পরিবেশবীদরা জানান, পাখি কমে যাওয়ার কারন শুধুই প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়, এখানে মানব সৃষ্ট অনেক কারন রয়েছে। এর মধ্যে ফলজ গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, তাই সমস্যায় পড়েছে পাখিরা। পাখির বাচ্চারা বিভিন্ন ধরনের
ছোট ছোট পোকামাকড় খায়। পোকামাকড়ের সংখ্যা কমে যাওয়ায় তাদের
জীবনধারণও সঙ্কটে পরে আনেক পাখি অন্যত্র চলে গেছে।
জীববিজ্ঞানবীদ শিক্ষক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, গত এক দশক আগেও এ অঞ্চলে দোয়েল পাখি বুক ফুলিয়ে মিষ্টি সুরে ডেকে বেড়াতো।
আর সব সময় মানুষের সান্নিধ্যে থাকতে দেখা যেত এ পাখি। আবার মাটিতে লাফিয়ে লাফিয়ে খাদ্য সংগ্রহ করতো। কিন্তু আজ কালের পরিক্রমায় প্রায় বিলুপ্তির পথে। যেন চোখের আড়াল হয়ে গেছে। জাতীয় পুরুস্কার প্রাপ্ত পাখী প্রেমী মো.হান্নান খান বলেন, দোয়েল আমদের জাতীয় পাখি। এখন নাই বললেই চলে। এর কারন হিসাবে তিনি আরো বলেন, শিল্পায়ন, নগরায়ন ও যানবাহনের শব্দদূষনে প্রতিনিয়ত পাখিরা অন্যত্র চলে যাচ্ছে। এছাড়া নির্বিচারে বৃক্ষনিধনের মাধ্যমে পাখিদের আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে। কৃষকরা অধিক ফসল পাওয়ার আসায় ক্ষেতে ক্ষতিকারণ কীটনাশক প্রয়োগে খাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছে। আবার পাখি শিকারীরা বেশ পাখি মেরে ফেলেছে। এর ফলে দিন দিন এ অঞ্চল থেকে চিরচেনা অনেক প্রজাতির পাখিই প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
উত্তম কুমার হাওলাদার, (কলাপাড়া)প্রতিনিধি
পটুয়াখালী,শুক্রবার,২৮ সেপ্টম্বর,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

© Copyright BY HBnews24.Com

Design & Developed BY PopularITLimited