স্বাধীনতাবিরোধী ও প্রতিক্রিয়াশীলরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী

Spread the love

সিনিয়র রিপোর্টার,ঢাকা : গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, “স্বাধীনতাবিরোধী ও প্রতিক্রিয়াশীলরা মিলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড সংগঠিত করেছে। আর বঙ্গবন্ধুর খুনীদেরকে অগণতান্ত্রিক সরকারগুলো পুনর্বাসন করেছে। জিয়াউর রহমান নিজে বঙ্গবন্ধু হত্যার উপকারভোগী এবং মদদ দাতা। তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনীদেরকে দেশের বাইরে পুনর্বাসন করেছেন। আত্মস্বীকৃত খুনীদের বিচার না করে তাদেরকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ইনডেমনিটি অডিন্যান্সকে সংবিধানের অংশে পরিণত করেছেন। এরপর এরশাদ বঙ্গবন্ধুর খুনীদের সরাসরি রাজনীতিতে পুনর্বাসন ও প্রটেকশন দিয়েছেন। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনীদেরকে বিভিন্ন মিশনে চাকরী ও পদোন্নতি দিয়েছেন। জিয়াউর রহমান, এরশাদ ও খালেদা জিয়া একইরূপে কলঙ্কজনক অধ্যায় রচনা করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনীদেরকে সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মীদেরকে ধ্বংস করতে সহায়তা করেছেন”।
বুধবার রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অডিটোরিয়ামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আয়োজিত জাতির পিতার জীবন, কর্ম ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন রাজউকের সদস্য (পরিকল্পনা) সাঈদ নূর আলম, মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ শহীদ উল্লা খন্দকার এবং অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির ও রাজউক কর্মচারী শ্রমিক লীগের সভাপতি মোঃ আব্দুল মালেক মিয়া। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও রাজউকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশকে, বাঙালি সত্ত্বাকে, একাত্তরের চেতনাকে ধ্বংস করার জন্য আগস্ট মাসেই বড় অভিযান চালিয়েছে স্বাধীনতাবিরোধী, প্রতিক্রিয়াশীল দেশীয় ও বিদেশী চক্র। ৭৫ এর ১৫ই আগস্টের ঘটনা শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৭১ সালে যারা পরাজিত হয়েছিলো, তারা পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে এবং তার সহযোদ্ধাদের সাথে নিষ্ঠুর, নৃশংস ও বর্বরভাবে হত্যা করে। এরপর ৩রা নভেম্বর জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। তারপরও তারা শঙ্কামুক্ত হতে পারেনি বলে আবার ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট আঘাত হানে শেখ হাসিনাসহ গোটা আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য। ৭১, ৭৫ এর ১৫ই আগস্ট ও ০৩রা নভেম্বর, ২০০৪ এর ২১শে আগস্ট এর আঘাতকারীরা এবং অন্তত ১৯ বার শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টাকারীরা একইসূত্রে গ্রোথিত। ১৭৫৭ সালে এসেছিলো মীর জাফর নামে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশী ঐ জাতীয় বিশ্বাসঘাতকরা পশ্চিম পাকিস্তানীদের দোসর হিসেবে, ৭৫ এর ১৫ই আগস্ট মোস্তাক-জিয়া নামে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট এসেছে খালেদা জিয়া, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ, তারেক রহমানের নামে।”

মন্ত্রী আরো বলেন, “বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা মানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হত্যা করা, বাঙালিত্বকে হত্যা করা, ৩০ লক্ষ শহিদের প্রত্যাশা ও স্বপ্নকে হত্যা করা। বাংলাদেশের সমস্ত উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় দুটি বাধা। তার একটি হলো স্বাধীনতাবিরোধী, আরেকটি হলো প্রতিক্রিয়াশীল, যারা তত্ত্ব কথা বলেন সব সময়। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে তাদের কোনো ভূমিকা নেই”।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, “জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে খুনীদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিলেন। তার খুনের বিচার হয়নি বাংলাদেশে। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থেকেও স্বামী হত্যাকান্ডের বিচার করেননি। এমনকি তিনি খুনীদের পুনর্বাসন করেছেন, সংসদে নিয়ে এসেছেন। তিনিও আজ এতিমের টাকা অত্মসাতের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে রয়েছেন। ২১শে আগস্টের খুনের দায়ে, দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমান বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন, বিদেশে টাকা পাচার করেছেন, মনোনয়ন বাণিজ্য করে টাকা আয় করেছেন। অপরদিকে বঙ্গবন্ধুর রক্ত ও আদর্শের উত্তরসূরি শেখ হাসিনা সকল দেশী-বিদেশী চাপ ঝুঁকি ও ভয় উপেক্ষা করে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের অপরাধের বিচার করে এবং বিচারের রায় কার্যকর করে বাঙালি জাতিকে ১৯৭১ সালের কলঙ্কের দায় থেকে মুক্ত করেছেন। খুনীদের ফাঁসির রায় কার্যকর করে প্রমাণ করেছেন বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে অপরাধ করে অপরাধীর দায়মুক্তি চলবে না”।

মন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগ না করলেও যে দলই করুন না কেনো মনে রাখবেন, আমাদের অস্তিত্বের উৎস মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ। যেখানে ধনী-দরিদ্র বৈষম্য থাকবে না, যেখানে সাম্প্রদায়িকতা থাকবে না। এই বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে আমরা পৌঁছেছি। এটাকে ধরে রাখতে সততার সাথে স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং খুনী ও প্রতিক্রিয়াশীলদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে”।

মন্ত্রী অরো বলেন, “৭৫ এর খুনীদের নতুন প্রজন্ম যেনো আবার জন্ম নিতে না পারে। এই খুনীরা একেক সময় একেক নামে আবির্ভূত হলেও তাদের লক্ষ্য একই। বারবার শেখ হাসিনা খুনীদের লক্ষ্যে পরিণত হচ্ছেন। কারন তাঁর ভেতরে আছে বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্পিরিট। তাঁর কাছে বাংলাদেশ নিরাপদ। তাঁর কাছেই হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃস্টান-মুসলমানের সম্প্রীতির বাংলাদেশকে খুঁজে পাওয়া যায়। তার কাছেই ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূর করে আধুনিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্টিয়ারিং দেখা যায়”।
মোঃ মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম,
ঢাকা,বুধবার, ২৮ আগষ্ট,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

সর্বশেষ আপডেট



» ৬ উইকটে হারিয়ে ১৩৬ রান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বাহিনী

» তুরস্কে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কমপক্ষে ১৮ জনের মৃত্যু

» বরগুনায় আমতলীতে বাস ও অটোরিক্সার সংঘর্ষে মা-ছেলেসহ ৩ জন নিহত

» বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : উপমন্ত্রী

» পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রানে করে রিয়াদ বাহিনী

» চট্টগ্রামের মির্জাপোল বস্তিতে ভয়াবহ আগুন পুড়ে গেছে আড়াইশ ঘর

» বিএনপি জিতবে না জেনেই ইভিএম নিয়ে নানা ধরনের কথা বলছে-বায়দুল কাদের

» ঢাকা থেকে দুঃশাসন ও দুর্নীতি দূর করতে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহ্বান মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল

» গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

» মিয়ানমারের রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলা চলবে-আন্তর্জাতিক বিচার আদালত

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

 

 

সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ, ১৩ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

স্বাধীনতাবিরোধী ও প্রতিক্রিয়াশীলরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

সিনিয়র রিপোর্টার,ঢাকা : গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, “স্বাধীনতাবিরোধী ও প্রতিক্রিয়াশীলরা মিলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড সংগঠিত করেছে। আর বঙ্গবন্ধুর খুনীদেরকে অগণতান্ত্রিক সরকারগুলো পুনর্বাসন করেছে। জিয়াউর রহমান নিজে বঙ্গবন্ধু হত্যার উপকারভোগী এবং মদদ দাতা। তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনীদেরকে দেশের বাইরে পুনর্বাসন করেছেন। আত্মস্বীকৃত খুনীদের বিচার না করে তাদেরকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ইনডেমনিটি অডিন্যান্সকে সংবিধানের অংশে পরিণত করেছেন। এরপর এরশাদ বঙ্গবন্ধুর খুনীদের সরাসরি রাজনীতিতে পুনর্বাসন ও প্রটেকশন দিয়েছেন। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনীদেরকে বিভিন্ন মিশনে চাকরী ও পদোন্নতি দিয়েছেন। জিয়াউর রহমান, এরশাদ ও খালেদা জিয়া একইরূপে কলঙ্কজনক অধ্যায় রচনা করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনীদেরকে সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মীদেরকে ধ্বংস করতে সহায়তা করেছেন”।
বুধবার রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অডিটোরিয়ামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আয়োজিত জাতির পিতার জীবন, কর্ম ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন রাজউকের সদস্য (পরিকল্পনা) সাঈদ নূর আলম, মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ শহীদ উল্লা খন্দকার এবং অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির ও রাজউক কর্মচারী শ্রমিক লীগের সভাপতি মোঃ আব্দুল মালেক মিয়া। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও রাজউকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশকে, বাঙালি সত্ত্বাকে, একাত্তরের চেতনাকে ধ্বংস করার জন্য আগস্ট মাসেই বড় অভিযান চালিয়েছে স্বাধীনতাবিরোধী, প্রতিক্রিয়াশীল দেশীয় ও বিদেশী চক্র। ৭৫ এর ১৫ই আগস্টের ঘটনা শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৭১ সালে যারা পরাজিত হয়েছিলো, তারা পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে এবং তার সহযোদ্ধাদের সাথে নিষ্ঠুর, নৃশংস ও বর্বরভাবে হত্যা করে। এরপর ৩রা নভেম্বর জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। তারপরও তারা শঙ্কামুক্ত হতে পারেনি বলে আবার ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট আঘাত হানে শেখ হাসিনাসহ গোটা আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য। ৭১, ৭৫ এর ১৫ই আগস্ট ও ০৩রা নভেম্বর, ২০০৪ এর ২১শে আগস্ট এর আঘাতকারীরা এবং অন্তত ১৯ বার শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টাকারীরা একইসূত্রে গ্রোথিত। ১৭৫৭ সালে এসেছিলো মীর জাফর নামে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশী ঐ জাতীয় বিশ্বাসঘাতকরা পশ্চিম পাকিস্তানীদের দোসর হিসেবে, ৭৫ এর ১৫ই আগস্ট মোস্তাক-জিয়া নামে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট এসেছে খালেদা জিয়া, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ, তারেক রহমানের নামে।”

মন্ত্রী আরো বলেন, “বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা মানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হত্যা করা, বাঙালিত্বকে হত্যা করা, ৩০ লক্ষ শহিদের প্রত্যাশা ও স্বপ্নকে হত্যা করা। বাংলাদেশের সমস্ত উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় দুটি বাধা। তার একটি হলো স্বাধীনতাবিরোধী, আরেকটি হলো প্রতিক্রিয়াশীল, যারা তত্ত্ব কথা বলেন সব সময়। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে তাদের কোনো ভূমিকা নেই”।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, “জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে খুনীদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিলেন। তার খুনের বিচার হয়নি বাংলাদেশে। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থেকেও স্বামী হত্যাকান্ডের বিচার করেননি। এমনকি তিনি খুনীদের পুনর্বাসন করেছেন, সংসদে নিয়ে এসেছেন। তিনিও আজ এতিমের টাকা অত্মসাতের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে রয়েছেন। ২১শে আগস্টের খুনের দায়ে, দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমান বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন, বিদেশে টাকা পাচার করেছেন, মনোনয়ন বাণিজ্য করে টাকা আয় করেছেন। অপরদিকে বঙ্গবন্ধুর রক্ত ও আদর্শের উত্তরসূরি শেখ হাসিনা সকল দেশী-বিদেশী চাপ ঝুঁকি ও ভয় উপেক্ষা করে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের অপরাধের বিচার করে এবং বিচারের রায় কার্যকর করে বাঙালি জাতিকে ১৯৭১ সালের কলঙ্কের দায় থেকে মুক্ত করেছেন। খুনীদের ফাঁসির রায় কার্যকর করে প্রমাণ করেছেন বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে অপরাধ করে অপরাধীর দায়মুক্তি চলবে না”।

মন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগ না করলেও যে দলই করুন না কেনো মনে রাখবেন, আমাদের অস্তিত্বের উৎস মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ। যেখানে ধনী-দরিদ্র বৈষম্য থাকবে না, যেখানে সাম্প্রদায়িকতা থাকবে না। এই বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে আমরা পৌঁছেছি। এটাকে ধরে রাখতে সততার সাথে স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং খুনী ও প্রতিক্রিয়াশীলদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে”।

মন্ত্রী অরো বলেন, “৭৫ এর খুনীদের নতুন প্রজন্ম যেনো আবার জন্ম নিতে না পারে। এই খুনীরা একেক সময় একেক নামে আবির্ভূত হলেও তাদের লক্ষ্য একই। বারবার শেখ হাসিনা খুনীদের লক্ষ্যে পরিণত হচ্ছেন। কারন তাঁর ভেতরে আছে বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্পিরিট। তাঁর কাছে বাংলাদেশ নিরাপদ। তাঁর কাছেই হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃস্টান-মুসলমানের সম্প্রীতির বাংলাদেশকে খুঁজে পাওয়া যায়। তার কাছেই ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূর করে আধুনিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্টিয়ারিং দেখা যায়”।
মোঃ মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম,
ঢাকা,বুধবার, ২৮ আগষ্ট,এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

© Copyright BY HBnews24.Com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com