অপরুপ নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ঘেরা গঙ্গামতি সৈকত

অপরুপ নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ঘেরা গঙ্গামতি সৈকত 183

গঙ্গামতি সৈকত। একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যস্তের মত অপরুপ দৃশ্য উপভোগ করার একমাত্র স্থান। প্রকৃতির নিপুণ হাতে নিখুঁত ভাবে সাঁজানো এ সৈকতটি। এখানে রয়েছে বিশাল আয়তনের সবুজ বেষ্টনী, ছোট ছোট লেক আর সৈকতে লাল কাকড়ার অবাদ বিচারন। ইতোমধ্যেই দেশি-বিদেশি ভ্রমণপিপাসু পর্যকদের দৃষ্টি কেড়েছে। পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা থেকে পূর্বদিকে কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নে নৈসর্গিক সৌন্দর্য ঘেরা এ গঙ্গামতি সৈকতের অবস্থন।
স্থানীয়রা জানান, কুয়াকাটায় আগত ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান গঙ্গামতির সৈকত। পুরো সৈকত জুড়ে রয়েছে প্রাণজুড়ানো মনোরম প্রাকৃতিক নৈসর্গিক সৌন্দর্য। সাগরের জোয়ার ভাটার রাতে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের নজর কেড়ে নিবে। এখানে রয়েছে স্বচ্ছ নীল জলরাশির একাধিক লেক আর প্রাকৃতির কারুকাজ খচিত বিশাল বেলাভূমি। প্রকৃতির যেন নিপুণ হাতে গড়া এ গঙ্গামতির সৈকত। এখানে আগত পর্যটকদের স্পিডবোট, ট্রলার অথবা নৌকা যোগে ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে। তবে খুব সকালে গঙ্গামতি সৈকতে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের বুকচিরে সূর্যোদয় দেখার স্বপ্নিল অনুভূতি এনে দিবে এক স্বর্গীয় আবেশ। সকালের সূর্য লাল আলো ছড়িয়ে দেয় গঙ্গামতির বেলাভূমিতে।

পাখির কলোকাকলী আর পুরো সৈকত জুড়ে লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গহীন থেকে বের হয়ে সমুদ্রে মিলিত গঙ্গামতির লেক যেন পর্যটকদের আকৃষ্ট করে তোলে। এছাড়া শুকুরের দূরহ দন্ত দিয়ে মৃত্তিকাগর্ভ খুড়ে কোঁচো ধরে ভোজনের দৃশ্য দেখা তো সৌভাগ্যের ব্যাপার। পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় এসে গঙ্গামতি না গেলে পর্যটকদের ভ্রমণ অপূর্ণই থেকে যাবে এমন ধারনা স্থানীয়সহ আগত পর্যটকদের। ভ্রমনে আসা রিয়াজ উদ্দিন ও নিসাত সুলতানা মারিয়া দম্পত্তির সাথে কথা হয়েছে। তারা ঢাকার মিরপুর থেকে কুয়াকাটা বেড়াতে এসেছেন। মটরসাইকেল চালকদের মুখে গঙ্গামতি সৈকতের মনোরম দৃশ্যের কথা শুনে আসতে বাধ্য হলেন। তারা জানান, গঙ্গামতি এত সৌন্দর্য মন্ডিত একটি স্থান চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন হত। তারা এখানের প্রকৃতির মনোরম দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। এতো সুন্দর গঙ্গামতির সৈকত অযন্ত ও পরিকল্পনার অভাবে অবহেলিত থাকায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ওখানকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি ইউসুফ খাঁ জানান, বর্তমানে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। এ জন্য গঙ্গামতির প্রবেশদ্বারের সড়কে একাধিক অস্থায়ী দোকান পাট বসেছে। তবে এখানে আসা পর্যটকদের রাত্রি যাপনের কোন ব্যবস্থা নাই বলে তিনি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফুল হাসান রানা জানান, প্রকৃতির অপরূপ সাজে সজ্জিত গঙ্গামতি। গোটা এলাকা একটি ছবির মত জনপদ। সরকারের একটু সু-নজরে আসলেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ব্যাপক কদর বাড়বে। বর্তমানে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও সরকারের গুরুত্ব প্রদানের অভাবে অপার সম্ভাবনার এ খ্যাত জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারছেনা। প্রতিদিনই এখানে দর্শনার্থীরা ভ্রমণে আসছে। যোগাযোগ ও বিদ্যুতের উন্নয়ন করে ব্যাপক প্রচারণা করতে পারলে কুয়াকাটার পাশাপাশি এ সৈকতটিরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।অপরুপ নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ঘেরা গঙ্গামতি সৈকত 184 300x210
কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এ এম মিজানুর রহমান বুলেট জানান, এ সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। মুলত সূর্যোদয়ের মত এমন বিরল দৃশ্য দেখার জন্য প্রতিদিন সকালে শত শত দর্শনার্থী ও পর্যটক ভীর করে। তবে গঙ্গামতির সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থ আরো উন্নত করা দারকার বলে তিনি জানিয়েছেন। গঙ্গামতি ফরেষ্ট ক্যাম্পের ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তা পলাশ চক্রবর্তী জানান, প্রায় ২ হাজার একর জমির উপর এ বঞ্চলের আকাশমনি, জারুল, জাম, কেওয়া,ছইলা, বাইন, ভাবলা, কড়াই, হেতাল, রেন্টি সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। এসব গাছ দেখভালের জন্য সি আর এ আর পি প্রকল্পের আওতায় একটি ফরেষ্ট ক্যাম্প নির্মান করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১৫-১৬ অর্থ বছরে ৫০ হেক্টর জমিতে নন ম্যানগ্রোভ বনায়ন করা হয়েছে। পর্যটকরা এসব কিছু দেখে আকৃষ্ট হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর রহমান জানান, গঙ্গামতি ও কুয়াকাটাকে ঘিরে সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে।
উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি,
পটুয়াখালী,শুক্রবার,২০ এপ্রিল , এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments
Download Best WordPress Themes Free Download
Download WordPress Themes
Download WordPress Themes Free
Download Best WordPress Themes Free Download
online free course

সর্বশেষ আপডেট



» ইংল্যান্ডকে ৬৪ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া

» ডিআইজি মিজানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

» স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে ৬৪ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, এই জয়ে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে উঠে গেল অস্ট্রেলিয়া

» টসে জিতে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাটিংয়ে পাঠালো ইংল্যান্ড

» পা হারানো রাসেল সরকারকে প্রতি মাসে ৫ লাখ টাকা করে ৪৫ লাখ টাকা দিতে গ্রিন লাইনকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট

» বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন: বিএসএমএমইউ উপাচার্য

» প্রয়োজন ছাড়া প্রসূতির ‘সিজার’ কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে ব্যারিস্টার সুমনের হাইকোর্টে রিট

» পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় বাংলাদেশিসহ জেএমবির চার সদস্য গ্রেপ্তার

» রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকায় ভবনের ছাদ থেকে পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু

» আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের জন্য আত্মত্যাগের কারণেই বিগত ৭০ বছর ধরে টিকে আছে

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

 

 

সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

অপরুপ নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ঘেরা গঙ্গামতি সৈকত

অপরুপ নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ঘেরা গঙ্গামতি সৈকত 183

গঙ্গামতি সৈকত। একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যস্তের মত অপরুপ দৃশ্য উপভোগ করার একমাত্র স্থান। প্রকৃতির নিপুণ হাতে নিখুঁত ভাবে সাঁজানো এ সৈকতটি। এখানে রয়েছে বিশাল আয়তনের সবুজ বেষ্টনী, ছোট ছোট লেক আর সৈকতে লাল কাকড়ার অবাদ বিচারন। ইতোমধ্যেই দেশি-বিদেশি ভ্রমণপিপাসু পর্যকদের দৃষ্টি কেড়েছে। পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা থেকে পূর্বদিকে কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নে নৈসর্গিক সৌন্দর্য ঘেরা এ গঙ্গামতি সৈকতের অবস্থন।
স্থানীয়রা জানান, কুয়াকাটায় আগত ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান গঙ্গামতির সৈকত। পুরো সৈকত জুড়ে রয়েছে প্রাণজুড়ানো মনোরম প্রাকৃতিক নৈসর্গিক সৌন্দর্য। সাগরের জোয়ার ভাটার রাতে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের নজর কেড়ে নিবে। এখানে রয়েছে স্বচ্ছ নীল জলরাশির একাধিক লেক আর প্রাকৃতির কারুকাজ খচিত বিশাল বেলাভূমি। প্রকৃতির যেন নিপুণ হাতে গড়া এ গঙ্গামতির সৈকত। এখানে আগত পর্যটকদের স্পিডবোট, ট্রলার অথবা নৌকা যোগে ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে। তবে খুব সকালে গঙ্গামতি সৈকতে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের বুকচিরে সূর্যোদয় দেখার স্বপ্নিল অনুভূতি এনে দিবে এক স্বর্গীয় আবেশ। সকালের সূর্য লাল আলো ছড়িয়ে দেয় গঙ্গামতির বেলাভূমিতে।

পাখির কলোকাকলী আর পুরো সৈকত জুড়ে লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গহীন থেকে বের হয়ে সমুদ্রে মিলিত গঙ্গামতির লেক যেন পর্যটকদের আকৃষ্ট করে তোলে। এছাড়া শুকুরের দূরহ দন্ত দিয়ে মৃত্তিকাগর্ভ খুড়ে কোঁচো ধরে ভোজনের দৃশ্য দেখা তো সৌভাগ্যের ব্যাপার। পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় এসে গঙ্গামতি না গেলে পর্যটকদের ভ্রমণ অপূর্ণই থেকে যাবে এমন ধারনা স্থানীয়সহ আগত পর্যটকদের। ভ্রমনে আসা রিয়াজ উদ্দিন ও নিসাত সুলতানা মারিয়া দম্পত্তির সাথে কথা হয়েছে। তারা ঢাকার মিরপুর থেকে কুয়াকাটা বেড়াতে এসেছেন। মটরসাইকেল চালকদের মুখে গঙ্গামতি সৈকতের মনোরম দৃশ্যের কথা শুনে আসতে বাধ্য হলেন। তারা জানান, গঙ্গামতি এত সৌন্দর্য মন্ডিত একটি স্থান চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন হত। তারা এখানের প্রকৃতির মনোরম দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। এতো সুন্দর গঙ্গামতির সৈকত অযন্ত ও পরিকল্পনার অভাবে অবহেলিত থাকায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ওখানকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি ইউসুফ খাঁ জানান, বর্তমানে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। এ জন্য গঙ্গামতির প্রবেশদ্বারের সড়কে একাধিক অস্থায়ী দোকান পাট বসেছে। তবে এখানে আসা পর্যটকদের রাত্রি যাপনের কোন ব্যবস্থা নাই বলে তিনি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফুল হাসান রানা জানান, প্রকৃতির অপরূপ সাজে সজ্জিত গঙ্গামতি। গোটা এলাকা একটি ছবির মত জনপদ। সরকারের একটু সু-নজরে আসলেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ব্যাপক কদর বাড়বে। বর্তমানে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও সরকারের গুরুত্ব প্রদানের অভাবে অপার সম্ভাবনার এ খ্যাত জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারছেনা। প্রতিদিনই এখানে দর্শনার্থীরা ভ্রমণে আসছে। যোগাযোগ ও বিদ্যুতের উন্নয়ন করে ব্যাপক প্রচারণা করতে পারলে কুয়াকাটার পাশাপাশি এ সৈকতটিরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।অপরুপ নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ঘেরা গঙ্গামতি সৈকত 184 300x210
কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এ এম মিজানুর রহমান বুলেট জানান, এ সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। মুলত সূর্যোদয়ের মত এমন বিরল দৃশ্য দেখার জন্য প্রতিদিন সকালে শত শত দর্শনার্থী ও পর্যটক ভীর করে। তবে গঙ্গামতির সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থ আরো উন্নত করা দারকার বলে তিনি জানিয়েছেন। গঙ্গামতি ফরেষ্ট ক্যাম্পের ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তা পলাশ চক্রবর্তী জানান, প্রায় ২ হাজার একর জমির উপর এ বঞ্চলের আকাশমনি, জারুল, জাম, কেওয়া,ছইলা, বাইন, ভাবলা, কড়াই, হেতাল, রেন্টি সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। এসব গাছ দেখভালের জন্য সি আর এ আর পি প্রকল্পের আওতায় একটি ফরেষ্ট ক্যাম্প নির্মান করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১৫-১৬ অর্থ বছরে ৫০ হেক্টর জমিতে নন ম্যানগ্রোভ বনায়ন করা হয়েছে। পর্যটকরা এসব কিছু দেখে আকৃষ্ট হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর রহমান জানান, গঙ্গামতি ও কুয়াকাটাকে ঘিরে সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে।
উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি,
পটুয়াখালী,শুক্রবার,২০ এপ্রিল , এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক-কাজী আবু তাহের মো. নাছির।
নির্বাহী সম্পাদক,আফতাব খন্দকার (রনি)

ফোন:+88 01714043198

গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা লিংকরোড ঢাকা-১২১২
Email: hbnews24@gmail.com

© Copyright BY HBnews24.Com

Design & Developed BY PopularITLimited